অনলাইন ডেস্ক।।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, আজকের পৃথিবীতে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এই নীতিটি দিন দিন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। পৃথিবীর দিকে তাকালেই আমরা এর উদাহরণ দেখতে পাই। আমি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম বলতে চাই না। শালীনতার খাতিরে সেটি থেকে বিরত থাকছি। কিন্তু আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত মানবতা ও মানবাধিকার।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ‘সামসময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইন’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সহজে বিসর্জন দেওয়া যায় এমন পণ্য বা সম্পদ হলো মানুষের জীবন। আমি আমার এই মতের ওপর অটল। এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। এ জন্য কোনো তথ্যসূত্র বা উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চারপাশে তাকালেই তা দেখতে পাবেন।’
তিনি বলেন, ‘বাঘের অধিকার, কচ্ছপের অধিকার, এমনকি শিশুদের অধিকার, শ্রমের অধিকার, শ্রমিকদের অধিকার—এভাবে আমরা অধিকারের নানা শ্রেণিবিভাগ করে থাকি। কিন্তু মানবাধিকার তো মানবাধিকারই। আমরা অধিকারের নানা বিষয় নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, অধিকারের আগে থাকা ‘মানব’ শব্দটিই যেন ভুলে গেছি।’
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘আমরা কি এমন একটি দিনের কথা বলতে পারি, যেদিন কোনো একটি দেশ, এমনকি কোনো একটি শহরেও একজন নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি? এমন কোনো দিনের কথা কি আপনার মনে পড়ে? আমার তো পড়ে না। তবে আমার মতের সংশোধন হলে আমি তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের জন্য নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। এমন একটি জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইনের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি মৌলিক নীতি। তবে সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি মানবিক মর্যাদা রক্ষা, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’
উপাচার্য বলেন, ‘আইনের শাসন কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার একটি মাধ্যম হিসেবেই কাজ করবে না; বরং অন্যায়, বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবেও ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, বেসরকারি বাহিনী, অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলো বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন আইনি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন উদ্ভাবনী আইনি চিন্তাভাবনা, আন্তবিষয়ক গবেষণা এবং আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাইদা আনজু, দেশ ও দেশের বাইরের গবেষক ও শিক্ষাবিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।