আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে গোপন বাণিজ্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র, বিস্ফোরক, সামরিক সরঞ্জাম ও ভারী ট্রাক আমদানি করেছে ইরান। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এসব সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রয়টার্সের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদ্যক্ষর ‘এমওডি’ ব্যবহার করে ৫ হাজারের বেশি গোপন প্রতিষ্ঠান এই আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমওডি৩৪৬৪২৮ নামের একটি সংস্থা ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ২৩০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে। আমদানি করা পণ্যের তালিকায় রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কাঁচামাল, রকেটের জ্বালানি উপাদান, বিস্ফোরক, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ভারী ট্রাক। চীন, রাশিয়া ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে এসব পণ্য ইরানে পৌঁছেছে।
রয়টার্সের পর্যালোচনা করা আমদানি তথ্য বলছে, এসব লেনদেনের প্রায় ৯৭ শতাংশই সরাসরি অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়নি। বরং বিদেশে অবস্থানরত মধ্যস্থতাকারী এবং বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করে সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অবৈধভাবে বিক্রি করা তেল থেকে অর্জিত অর্থও ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোপন আমদানি নেটওয়ার্ক ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা এবং চলমান যুদ্ধের মধ্যে সামরিক সরঞ্জামের মজুত পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালালেও দেশটির সামরিক সরঞ্জাম আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মার্চ মাসে সামরিক পণ্য আমদানির পরিমাণ কমে গেলেও মে মাসে তা আবার বৃদ্ধি পায়।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা সামরিক ও দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের বিষয়টিও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ডেটোনেটর, চীন থেকে টাইটানিয়াম ও রকেট জ্বালানির উপাদান এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ভারী ট্রাক ও বিমান ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে ইরান। এসব পণ্যের অনেকগুলো সামরিক ও বেসামরিক—উভয় ধরনের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
এ বিষয়ে ইরানের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে জানতে চেয়ে প্রশ্ন পাঠালেও তারা রয়টার্সকে কোনো জবাব দেয়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের অর্থায়নের উৎস বন্ধ করতে তারা কাজ করছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায়ও তারা সতর্ক রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।