গণেশ পাল, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)।।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের গ্রামীণ জনপদ এখন সরগরম। হাটবাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সাধারণ ভোটাররা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাচ্ছেন যিনি সঠিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হোক; সদ্য দল বা ভিড় ভারী করা কোনো ‘হাইব্রিড’ প্রার্থীকে যেন মনোনয়ন বা সমর্থন দেওয়া না হয়।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, নদীবেষ্টিত ও ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ মোরেলগঞ্জের বহরবুনিয়া ইউনিয়ন। ৬টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত এই ইউনিয়নের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ৫৪০ জন এবং মোট ভোটার ১৪ হাজার ৫৪ জন; যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ২৯ জন এবং নারী ভোটার ৭ হাজার ২৫ জন। এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান আয়ের উৎস চিংড়ি ঘের ও কৃষি। তবে কালের গর্ভে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং নদীভাঙনের কারণে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা বেশ ব্যাহত হচ্ছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখনও নৌকা, লঞ্চ বা ট্রলারই প্রধান ভরসা। স্বাধীনতার পর বহু জনপ্রতিনিধি এলেও কাঙ্ক্ষিত গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। খোদ ইউনিয়নে এক ইঞ্চিও পিচঢালা রাস্তা না থাকা, সুপেয় পানির তীব্র সংকট এবং অব্যাহত নদীভাঙনে চরম ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
যদিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার দলীয় প্রতীক থাকছে না, তবুও রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সমর্থন ও প্রভাবে প্রার্থীরা মাঠে তৎপর রয়েছেন। বহরবুনিয়া ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশা করে মাঠে রয়েছেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা। তারা হলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ত্যাগী নেতা নাজমুন নাছিম রাখি, ইউনিয়ন বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সাবেক ছাত্রদল নেতা নাসির উদ্দিন ফকির, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফিরোজ হোসেন হাওলাদার, সহ-সভাপতি আহম্মেদ গাউস এবং সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জেবু। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির এইচ এম গিয়াস উদ্দিন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, দলের দুঃসময়ে যারা মামলার শিকার হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলীয় কর্মসূচি সফল করেছেন, তাদেরই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান তারা। বিগত দিনে যারা দেশের বাইরে ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে ফিরে নতুন করে বিএনপির নেতা সেজেছেন, দলের জন্য যাদের কোনো অবদান নেই— এমন কাউকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হলে তা তৃণমূল কর্মীদের হতাশ করবে। তাই দলের হাইকমান্ডের কাছে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
বহরবুনিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা নাজমুন নাছিম রাখি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জনকল্যাণে ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রার্থী হয়েছি। পারিবারিকভাবেই ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে সবসময় কর্মীদের পাশে থেকেছি। আশা করি দল আমার ত্যাগ মূল্যায়ন করবে।’
মোরেলগঞ্জে ইউপি নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ, হাইব্রিড নয় ত্যাগীদের চান বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা
মোরেলগঞ্জে ইউপি নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ, হাইব্রিড নয় ত্যাগীদের চান বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা
ইউনিয়ন বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সাবেক ছাত্রদল নেতা নাসির উদ্দিন ফকির বলেন, ‘৯০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ সব দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলাম। পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী সমাজসেবামূলক কাজের ধারা ধরে রেখে এখনও মাঠে আছি। অতীতেও এই ইউনিয়নে দুইবার দলীয় সমর্থন ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছি। আশা করি, এবারও দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’
বহরবুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর আমির এইচ এম গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘এলাকার রাস্তাঘাট, মসজিদ ও মন্দিরের উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট ইশতেহার নিয়ে আমি মাঠে নেমেছি। নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাগরিক সেবা প্রদানে কোনো বৈষম্য রাখা হবে না। সুষম বণ্টনের মাধ্যমে এই জনপদের প্রতিটি নাগরিকের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা হবে।’