অনলাইন ডেস্ক।।
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের (২৮) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাগরিবের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে তিতাসকে তার নানির কবরের পাশে দাফন করা হয়।
এর আগে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে তিতাসের মরদেহ নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে আনা হয়। সেখানে পদ্মা সেনানিবাসের ১৫ আর-ই রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের মেজর সোহেলের নেতৃত্বে সেনাসদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে ভিড় করেন। এ সময় মা রেখা বেগম, বাবা আফজাল শেখ ও স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারসহ স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।
তিতাসের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন তিতাস। মাকে তিনি বলেছিলেন, ‘আগামীকাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ পরদিন বৃহস্পতিবার অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান তিনি।
তিতাসের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে চার বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান নেই। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তিতাসের। তবে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে বাবা আফজাল শেখ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। ছোট ভাই আকরাম হোসেনও বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিতাস ছিলেন সবার বড়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তিতাসের বুকের বাঁ পাশের ওপরের অংশে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিতাস সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য ছিলেন। তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালে সৈনিক পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার বিকেলে হেলিকপ্টারে করে তিতাসের মরদেহ নগরকান্দায় আনা হয়। পরে স্থানীয় লস্করদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।