অনলাইন ডেস্ক।। ফেনীর দাগনভুইয়া পৌরসভা নামে ফাস্ট, কামে থার্ড।পৌরসভার অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইকবাল মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ ও চৌমুহনী রোড়ের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। শহরের যত্রতত্র আবর্জনার স্তুপের দুর্ঘন্ধে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। দেখা দিয়েছে নানা ব্যাধি। নির্দিষ্ট কোন ডাস্টবিন না থাকার কারণে পৌর এলাকায় ২নং ওয়ার্ডে ময়লা আবর্জনার ভাগাড় দূর্ঘন্ধে চর্ম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজে যাওয়ার রাস্তায় ময়লা আবর্জনার স্তুপ। এতে কলেজে যাওয়ার পথে ছাত্র ছাত্রীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত।

বিশেষ করে বৃহত্তর নোয়াখালী হাইওয়ে রোড়ের একদম পাশেই পৌরসভার একমাত্র খোলামেলা ময়লার ভাগাড় । এতে করে যাত্রীদেরও অনেক সমস্যা হয়। এই ডাস্টবিনের পাশে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছে বেদেরা। তারাও এই আর্বজনার গন্ধে নানা রোগে ভুগছেন। তাদের সাথে আলাপ চারিতায় জানা যায় তাদের বসবাসের আর কোন জায়গা না থাকায় নানা সমস্যার মধ্যেও এখানে বসবাস করছেন। ৩ নং ওয়ার্ডে দাগনভুইয়া উপজেলা ডাকঘরের সামনে আন্তঃজেলা মহা সড়কের পাশে তৈরী করা হয়েছে অপরিকল্পিত ডাষ্টবিন।

এ ডাষ্টবিনে পৌর কতৃপক্ষসহ আশপাশ এলাকার ফল ব্যবসায়িরা প্রতিদিন কয়েকটন বর্জ্য ফেলছেন। বাজারের আবাসিক হোটেল রেস্তোরাসহ ঘরবাড়ীর বর্জ্য ও ফেলা হয় এখানে। সময় মত ঐসব বর্জ্য অন্যত্র না সরানোর ফলে বায়ু বাহিত বিভিন্ন জীবানু স্থানীয় জনসাধারনকে নানান রোগে আক্রান্ত করছে।

বিশেষ করে বর্ষার সময় দুর্গন্ধ বেশি ছড়ায়। আশেপাশের বাতাস ভারি হয়ে যায় দূর্গন্ধে। বিভিন্ন রোগের মধ্যে চর্ম রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে মারাত্মক হারে। মানুষের শরীরে দেখা দিয়েছে দাউদ, একজিমা, শ্বাসকষ্ট, হাপানি, ফুসফুসে জ্বালা যন্ত্রনাসহ নানান রোগ। ব্যাপক হারে চুলকানি সহ বিভিন্ন চর্ম রোগে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বসবাসরত জনজীবন। বিভিন্ন রোগের মধ্যে চর্ম রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে মারাত্মক হারে। এদিকে মাছির যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ স্থানীয় ব্যবসায়ীগন। চরম দূর্ঘন্ধে অসহনীয় পরিবেশে যাতায়াত করছেন জনসাধারণ।

পৌরসভার আঙ্গিনায় নতুন করে ফুলের বাগানের সমারোহ অন্যদিকে প্রবেশ পথেই বিশাল ময়লা ভাগাড়ের স্তুপ। চরম উৎকট দূর্ঘন্ধে অতিষ্ঠ যাতায়াতকারি রীতিমত হাস্যকর কর্মকান্ড বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা ও আগত পৌর নাগরিকগন।পাশে জুমা মসজিদ,স্হানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযুদ্ধা নুরুল হুদা হুদনের বাড়ি। তারা নানারোগে আক্রান্ত বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান। মসজিদের মুসল্লীরা অনেক বাদ প্রতিবাদ করে ও লাভ হয়নি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিদিন ময়লা আবর্জনা ফেলছে।

উল্টা সাংবাদিকদের কে খারাপ ভাষায় কটুক্তি করেন। মেয়র আদালতের আদেশ না মেনে ২/৪ জন দালাল সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে, যারা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত তাঁদের পক্ষে লেখার কারনে বাজে মন্তব্য ও কটুক্তি করায় তার খুঁটির জোর কোথায়, এ নিয়ে রহস্যের দানা বেঁধেছে। পৌরসভার ৯টি ওয়াডের জনগন শান্তিতে নেই।রাস্তাঘাট,ড্রেনেজ ব্যবস্হা,লাইটিং কোনটার বালাই নেই।বরাদ্দকৃত টাকা পুকুরচুরি হয়ে যায়।জনগনের দুর্ভোগের শেষ নেই। খাজনা বাজনা দিতে দিতে জনগনের বারোটা বেজে য়ায়।তার ভয়ে কেউই মুখ খোলেনা।

দাগনভূইয়া উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ডাস্টবিন থেকে ছড়ায় না, এমন কোন রোগ নেই। ডাস্টবিন হলো বিভিন্ন রোগের আতুরঘর। শারীরিক সক্ষমতা হারানোর জন্য মারাত্মক ও কঠিন ভাবে দায়ি হলো ডাস্টবিন। ডাস্টবিনকে রোগ উৎপাদনের কারখানা ও বলা যেতে পারে। শহরের বিভিন্ন স্থানে খোলা ডাস্টবিনের দুষিত বায়ু মানবিক ও সামাজিক জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট, হাপানি, চর্মরোগ, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম, অকাল গর্ভপাতসহ ক্যান্সারের মত বিভিন্ন ঝুকিপুর্ন রোগ।

দাগনভূইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার তানিয়া জানান, খোলামেলা ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ মানবজীবনে ক্ষতির কারন। তবে এটি আমার নিয়ন্ত্রনে নয়।শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায় দায়িত্ব হলো পৌর মেয়রের। বিষয়টি নিয়ে মেয়র সাহেবের সাথে কথা হয়েছে। পৌরসভার অভ্যন্তরে একটি ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য স্থান নির্বাচনের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি কিছু দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে। পাশাপাশি এখন যে স্থানে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে সেখানে নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার সহ অন্যান্য জীবাণুনাশক ও দুর্গন্ধদূরীকরণ ওষুধ ছিটানোর জন্য বলা হয়েছে।

দাগনভূইয়া পৌরসভার মেয়র ওমর ফারুক খান জানান, পৌরসভার অভ্যন্তরে একটি ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য স্থান নির্বাচনের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি কিছু দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে। পৌরবাসী যাতে কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন না হয় সেজন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।।