চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্ত্বর থেকে কৌশলে হাতকড়া ভেঙ্গে আজিজুল হক (৩৫) নামে এক ডাকাতি মামলার আসামী পালিয়েছে। রোববার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আজিজুল হক গোপালগঞ্জ জেলার মকছেদপুর থানার ফজল শেখের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি ডাকাতি মামলা হয়। সেই মামলায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে ছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে জেলা কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে আজিজুলসহ কয়েকজনকে কোর্টে নিয়ে আসে। এসময় প্রিজন ভ্যান থেকে কোর্ট পুলিশের কাস্টডিতে নেয়ার সময় কৌশলে হাতকড়া ভেঙ্গে পালিয়ে যায় আজিজুল হক। অনেক খুজেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন চুয়াডাঙ্গা সাংবাদিকদের কে জানান , আদালত চত্ত্বর থেকে হাতকড়া ভেঙ্গে আজিজুল হক নামে এক আসামী পালিয়েছেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়। তিনি ২০১৬ সালের দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি ডাকাতি মামলার আসামী। ইতিমধ্যে জেলা পুলিশের একাধিক দল তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।
এঘটনায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কর্তব্যে অবহেলা ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তারপর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্ত্বর থেকে হাতকড়া খুলে আজিজুল শেখ (২৮) নামে এক হাজতি পালানোর ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এঘটনায় জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তারেককে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তদন্ত কমিটিতে যারা রয়েছেন, চুয়াডাঙ্গা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবীর ও জেলা রিজার্ভ অফিসের (আরওআই) আব্দুল বারেক। তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন, এটিএসআই আনোয়ার হোসেন, কনস্টেবল মিলন হোসেন ও বেনজির নাহার। তাদেরকে দায়িত্বপ্রাপ্ত থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। রোববার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।।