নিজস্ব প্রতিবেদক।।
চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্রভাবে গড়ে উঠেছে ডেন্টাল ক্লিনিক। অধিকাংশ ক্লিনিকে কোনো লাইসেন্সধারী বা রেজিস্ট্রার ডাক্তার নেই। নেই কোনো অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান। অধিকাংশ ডেন্টাল ক্লিনিকে ডিপ্লোমা নামধারী কথিত ডেন্টাল চিকিৎসকরা রোগীদেরকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা। তারা জানান, অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র। গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গিয়ে মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। না বুঝে এসব ডেন্টাল ক্লিনিকে গিয়ে মানুষ প্রতারনার শিকার হচ্ছেন। ডিপ্লোমা নামধারী ডেন্টিস্টরা রোগীদেরকে কখনও নিজেদের হাত ছাড়া করতে চায় না। প্রথমে তারা নিজেরা চেষ্টা করেন। না পারলে পরে বলে বিডিএস চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে। ডিপ্লোমা নামধারী কথিত ডেন্টাল চিকিৎসকদের কারণে প্রতিনিয়ত মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব অবৈধ ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে মানুষ আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও জানিয়েছে ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা। জানাগেছে, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) আইন অনুযায়ী শুধু এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারীরাই চিকিৎসা করতে পারবেন। এর মধ্যে বিডিএস ডিগ্রিধ- রীরা কেবল দাঁতের চিকিৎসা করেন। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। সনদধারী ডেন্টাল সার্জনদের
পাশাপাশি বিএসসি ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট, ডিপ্লোমা ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট এবং কোয়াকরা (হাতুড়ে ডাক্তার) হরহামেশাই দাঁতের চিকিৎসা করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে গড়ে উঠেছে নামে বেনামে বহু ডেন্টাল ক্লিনিক। বিভিন্ন বাহারি নামে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহে নিয়মিত একজন বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক বসানোর কথা থাকলেও অধিকাংশ ডেন্টাল ক্লিনিকে বিডিএস চিকিৎসক নেই। সেখানে ডিপ্লোমা ডেন্টাল টেকনো- লজিস্ট এবং কোয়াকরা (হাতুড়ে ডাক্তার) দাঁতের চিকিৎসা দিচ্ছেন। এরা গ্রামের কৃষক, দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষকে ধোঁকা দিয়ে অভিজ্ঞ ডাক্তার সেজে বিভিন্ন ভুয়া ডিগ্রি দেখিয়ে সাইন বোর্ড, ব্যানার ও ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে দাঁতের চিকিৎসার নামে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, যত্রতত্র গড়ে ওঠা একাধিক ডেন্টাল ক্লিনিকে বাইরে বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখলেও সেখানে মাসে একবারও ওই চিকিৎসক এখানে আসেন না। ডেন্টাল ক্লিনিকগুলো মানুষকে আকৃষ্ট করতে বাহারী সাইনবোর্ড লাগিয়ে রেখেছেন। বাইরে থেকে ঝক ঝকে মনে হলেও ভিতরের অবস্থা যা ইচ্ছে তাই। অধিকাংশ ডেন্টাল ক্লিনিকে নেই কোন বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক। অনেক ক্লিনিকে বিভিন্ন ডাক্তারদের সাইন বোর্ড ঝুলানো আছে কিন্তু সেই চিকিৎসক বহু আগে থেকেই এখানে চেম্বারে এসে রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে সেই চিকিৎস- কদের সাইনবোর্ড এখনও ঝুলছে ওইসব প্রতিষ্ঠানে। তাছাড়া যেসব ডেন্টাল ক্লিনিকে সাপ্তাহে এক দিন চিকিৎসক আসেন, সেসব ক্লিনিকে ডিপ্লোমা ডেন্টিসরাই সাপ্তাহের অধিকাংশ দিনে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তবে হাতেগোনা কয়েকটি ডেন্টাল ক্লিনিটে বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎস- কদেরকে রোগীদেরকে চিকিৎসাসেবা দিতে দেখা গেছে। এসময় একাধিক ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, মাসের পর মাস এসব ডিপ্লোমা ডেন্টিসরা চিকিৎসাসেবা দেন। কখনও তারা বিডিএস ডাক্তারের কাছে সহজে যেতে দেয়না। তারপরও একদিন যদি বিডিএস চিকিৎসক দেখেন পরবর্তী ৭ দিন কথিত ডেন্টিসরাই রোগী দেখেন। ভুক্তভোগী রোগী তাসলিমা বেগম বলেন, এসব চিকিৎসকের কাছে বহুবার চিকিৎসা সেবা নিয়েছি। মাসের পর মাস ঔষধ খেয়েও কোন কাজ হয়নি। পরবর্তীতে বিডিএস চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছে।
এসব ক্লিনিকে কোনভাবে বোঝার উপায় নেই যে ব্যক্তিটি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন সে আদৌও অভিজ্ঞ ডেন্টিষ্ট কিনা। এদের অপ-চিকিৎসায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সময়ে এসব ডেন্টাল ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছে একাধিক ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা ।
একাধিক ক্লিনিকে থাকা একাধিক ডিপ্লোমা ডেন্টিরা জানান, সাপ্তাহে তেমন একটা রোগী আসেনা বিধায় চিকিৎসকরা বেশি দিন এসব প্রতিষ্টানে চেম্বার করেন না। কোন কোন ক্লিনিকে সাপ্তাহে একজন বিডিএস চিকিৎসক আসেন। তাদের অনেকে জানান, তাদের দত্ত চিকিৎসার বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রীট আবেদন করা আছে, সেই রীটের রায়ের কথা বলেই তারা এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন বলেও জানিয়েছেন একাধিক ডিপ্লোমা নামধারী ডেন্টিষ্টরা।।