কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টের ঘটনায় নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে জানাতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

আজ সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মাহমুদ আলমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নানা সংবাদগণমাধ্যমে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আহ্বান জানাচ্ছে।

এতে আরো বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হলে তাকে প্রক্টর অফিসকে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হলো। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্ভাব্য সব সহযোগিতা দেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ঢাকাসহ সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে গত ১৯ জুলাই দিনগত রাত ১২টা থেকে ২১ জুলাই সকাল ১০টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে সরকার। এরপর অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ বাড়ানো হয়। যদিও প্রতিদিনই কয়েক ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হচ্ছে।

এদিকে সরকার কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নেওয়ায় সব আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রবিবার (২৮ জুলাই) রাতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে আলোচনা শেষে এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

অন্যদিকে দেশজুড়ে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর, সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় ২৪৩টি মামলা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন থানায় নতুন করে মামলা হয়েছে ১৪টি। নাশকতা-সহিংসতার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে বিভিন্ন মামলায় এ পর্যন্ত দুই হাজার ৮২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।

গত ২৪ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৮ জন। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বেশির ভাগই জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মী।
news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রাসঙ্গিক
সম্পর্কিত খবর
শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবির প্রতি সমর্থন শিক্ষকদের
শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবির প্রতি সমর্থন শিক্ষকদের
গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি ঢাবির শিক্ষকদের
গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি ঢাবির শিক্ষকদের
এমন ধ্বংসলীলা কারো কাম্য নয়
এমন ধ্বংসলীলা কারো কাম্য নয়
শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি ঢাবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের
শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি ঢাবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের
শিক্ষা
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০২৪ ১৪:১৮
শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবির প্রতি সমর্থন শিক্ষকদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবির প্রতি সমর্থন শিক্ষকদের
ছবি : কালের কণ্ঠ
কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের আয়োজনে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষক সমাবেশ’ থেকে এই সমর্থন জানানো হয়। এ সময় সমাবেশ থেকে হত্যা, গুম, গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করতে এবং আটককৃতদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

এ সময় আন্দোলনে নিহতদের ‘শহীদ’ উল্লেখ করে তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ ছাড়া সমাবেশ থেকে চলমান আন্দোলনে নিহত ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ‘জুলাই হত্যাকাণ্ড’ নামে ডাকার জন্য আহ্বান করা হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইদ ফেরদৌস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আপনারা আপনাদের প্রতিপক্ষ ভাবছেন। সেই শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের খোল নলচে পাল্টে দিতে এসেছে। স্বাধীনতার পর থেকে গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রে যে লাগাতার নৈরাজ্য চলেছে, হলগুলোতে যে সুপরিকল্পিত নিপীড়ন চলেছে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের, সেই সব কিছুকে পাল্টে নতুন ইতিহাস লিখবার পথ তৈরি করেছে এই শিক্ষার্থীরা।

সেই শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবিকে আমরা সমর্থন জানাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্রদের মৃত্যুতে যে ব্যক্তি যে প্রতিষ্ঠানের যে পদধারী যে নেতা যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যক্তি যে বিচারসংশ্লিষ্ট লোকের যে শিক্ষকের দায়দায়িত্ব আছে, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হোক। আমরা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার, বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবিকে সমর্থন করি। কিন্তু সবার আগে হত্যা বন্ধ হোক।

সবার আগে গুম, অপহরণ বন্ধ হোক।’
সমাবেশে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, ‘১৯৬৯ সালে অধ্যাপক শামসুজ্জোহা ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন ফেব্রুয়ারি মাসে। আমরা এখানে যারা জমায়েত হয়েছি, আমরা শহীদ শামসুজ্জোহার উত্তরসূরি। আমাদের যে সন্তানরা, যে ছাত্ররা যে অধিকারের জন্য, যে বৈষম্যহীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, লড়াই করছে তারা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরি। এই লড়াইয়ের ফলাফল কী হবে সেটা ইতিহাসই আমাদের নির্দেশ করছে।

আর আমাদের করণীয় কী সেটা ইতিহাস আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা সেই দায়িত্ব নিশ্চয় চালু করব।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ছাত্রদের ওপর যে মামলা হচ্ছে, মামলাটা হলো পুলিশের মামলাবাজি এবং মামলাবাজি হলো পুলিশের ব্যবসা। আপনারা এই ব্যবসা বন্ধ করুন। ছাত্রছাত্রীদের অযথা মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘর থেকে বাচ্চাদের ধরে নিয়ে আসতেছেন। মোবাইলে কী ধারণ করা আছে না আছে- পাঁচ কোটি মানুষের মোবাইলে আপনি এই আন্দোলনের ছবি পাবেন। পাঁচ কোটিকে আপনি জেলে দিবেন। জেল বড় করেন। কারণ মোবাইল চেক করলে সবার মোবাইলে আপনারা আন্দোলনের চিত্র দেখবেন। আমি সুস্পষ্টভাবে বলব, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দিন। বাচ্চাদের নিজের কাজে ফিরে আসতে, পড়ালেখায় ফিরে আসতে দেন। আর আপনারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসুন। স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে থেকে দেশের উন্নয়ন তো দূরের কথা, দেশের মানুষের কাছে কোনো দিন পৌঁছতে পারবেন না।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক সায়মন রেজা, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ নাহিদ নেওয়াজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদ ইমরান, ঢাবি আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, গ্রীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রীতু শারমিন, স্ট্যাট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তামান্না মাকসুদ, ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুনসহ আরো শিক্ষকরা।

সমাবেশ শেষে শিক্ষকরা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার হয়ে আবারও অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ফিরে আসেন।

news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রাসঙ্গিক
শিক্ষা
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০২৪ ১৩:২৯
পেনশন ইস্যুতে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক আজ
অনলাইন ডেস্ক
পেনশন ইস্যুতে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক আজ
সংগৃহীত ছবি
সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রত্যাহারের দাবিতে গত ১ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যান দেশের প্রায় ৩৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ডাকে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

এই ইস্যুতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়। তবে সমাধান না আসায় আন্দোলন চালু রাখেন তারা।

এবার শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন।
জানা গেছে, পেনশন ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আজ সোমবার (২৯ জুলাই) সভা করবেন শিক্ষামন্ত্রী। আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘মন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সোমবার বিকেলে সভা অনুষ্ঠিত হবে।

’
news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রাসঙ্গিক
শিক্ষা
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০২৪ ১২:১৩
কোটা আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির শোক
নিজস্ব প্রতিবেদক
কোটা আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির শোক
সংগৃহীত ছবি
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি। গত শনিবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি’র সভাপতি জনাব শেখ কবির হোসেন’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় এই শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।

সভায় বলা হয়, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত সব পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।

সভায় স্বার্থান্বেষী মহলের নাশকতা, দেশের সম্পদ বিনষ্ট ও সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধানে নাশকতাকারীদের আইনের আওতায় আনার পদক্ষেপ সমূহকে স্বাগত জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি, প্রাণহানির ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন এবং সহিংসতায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সহায়তা ও সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়। এমতাবস্থায়, গুজবে কান না দিয়ে ক্যাম্পাস বন্ধকালীন সময় নিজ নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের মেস/হোস্টেল ছেড়ে পারিবারিক আবাসস্থলে অবস্থান করার আহবান জানাই।

এতে আরো বলা হয়, দেশের ভবিষ্যৎ বিবেচনার সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ ও স্নেহশীলতার কোনো ঘাটতি নেই।

তাদের যৌক্তিক চাওয়া কিম্বা সমস্যা সমাধানে অভিভাবক শ্রেণি, শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী সমাজ সবসময় তাদের পাশে থাকবে। আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনা করবে বিধায় সহিংসতার বিরুদ্ধে যথাযথ শিক্ষায় তাদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা জরুরি। এক্ষেত্রে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধ তাদেরকেই সমুন্নত রাখতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সুনাম তথা সংঘাত-সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাসের ভাবমূর্তি এবং অভিভাবকদের আস্থা সংরক্ষণে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থীদের ‘ক্যাম্পাস কাউন্সেলিং’ জোরদার ও অভিভাবকদের সচেতনতা একান্ত জরুরি। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য ও সর্বস্তরের শিক্ষকদের যথাযথ ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানাই।
বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি আশা করে, সংঘাত-সহিংসতা মুক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষার্থে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয় কিম্বা ক্যাম্পাস বন্ধ রাখতে হয় এমন সকল কার্যক্রম থেকে নিজেদের বিরত রাখবে এবং প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রাসঙ্গিক
শিক্ষা
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০২৪ ১০:৩০
প্রথমে খুলবে স্কুল-কলেজ, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়
যেহেতু কোটা সংস্কার আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক, এ ছাড়া সহিংসতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরে খোলা হতে পারে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রথমে খুলবে স্কুল-কলেজ, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে খোলার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, প্রথমে খুলতে পারে স্কুল-কলেজ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এ সপ্তাহে খোলা সম্ভব না হয়, তাহলে পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী সপ্তাহে খোলা হতে পারে। যেহেতু কোটা সংস্কার আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক, এ ছাড়া সহিংসতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরে খোলা হতে পারে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার জেরে গত ১৮ জুলাই থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের মতো পাবলিক পরীক্ষাও। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতির উন্নয়ন সাপেক্ষে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেই খোলার সিদ্ধান্ত আসবে। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার আদেশ জারি করবে।

যেহেতু কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরে বেশি সহিংসতা হয়েছে।

এর বাইরে বাকি ৬০ জেলার স্কুলগুলো আগে খোলা যায় কি না, সে ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। মন্ত্রণালয়ের আরেকটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুলগুলো সবার আগে খোলার ব্যাপারে আলোচনা রয়েছে। তবে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভায় বৈঠক রয়েছে। সেখানে বা বৈঠক শেষে আলাদাভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।
আমরা দ্রুততম সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে চাই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সূত্র জানায়, আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। এরপর পরীক্ষা আছে আগামী ৪ আগস্ট। ওই দিনের পরীক্ষা গ্রহণের পুরো প্রস্তুতি নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। যদি শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নেওয়া যায়, তাহলে এর পর থেকে স্কুল খুলতে বাধা থাকবে না। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল আগামীকাল মঙ্গলবার, কিন্তু সহিংসতার কারণে তা পিছিয়ে আগামী ৬ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, যদি ৪ আগস্টের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া যায়, তাহলে ৬ আগস্ট থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাসও শুরু হতে পারে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার হলো আগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ করা। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ও বলেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে স্কুলগুলো খোলা হবে। কবে নাগাদ খোলা হতে পারে, সে ব্যাপারে এখনো আলোচনা হয়নি।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও বেসরকারিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলে। কিন্তু এবার কোটা সংস্কার আন্দোলনে যেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি ছিল, তাই আগেভাগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার সম্ভাবনা নেই।

ইউজিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধের চিঠি দিয়েছিলাম। তবে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরকার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’