🖋️মোঃ আব্দুর রহমান অনিক।।

পুরনো ঢাকার গলি যখন হঠাৎ থমকে যায়, আলো-ছায়ার শহরে বাজে এক নিষ্ঠুরতা, ঠিক তখনই স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল এলাকার ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী সোহাগ (৩৯) এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। শহরের হট্টগোল, ব্যস্ততা আর অস্তিত্বের লড়াইয়ের ভেতর হারিয়ে গেলেন একজন সংগ্রামী মানুষ। সমাজ কি তার এ মৃত্যু নিয়ে একটু থেমে ভাববে?

সোহাগ ছিলেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, জীবিকার জন্য ঘামে-ভেজা প্রতিদিন তার। এমন একজন সাধারণ নাগরিক যদি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে, একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় খুন হন, তাহলে বাকিদের নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত? প্রশ্ন ওঠে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কার্যকর অবস্থান কোথায়?

এ ঘটনা শুধু একটি হত্যা নয়—এ এক সামাজিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন ছোট-বড় অপরাধ আমাদের চারপাশে ঘটছে, কিন্তু বিচার কিংবা প্রতিকারের প্রশ্নে আমরা যেন অনেকটাই উদাসীন। খুনিরা আজ আত্মবিশ্বাসী, কারণ তারা জানে—ধরা পড়লেও হয়তো বিচার অনেক দূরের বিষয়।

এই হত্যাকাণ্ড আবারো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—আমরা কোথায় যাচ্ছি? একটি রাষ্ট্র তখনই ব্যর্থ হয়, যখন তার সাধারণ নাগরিক নিজের জীবন রক্ষা করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। একজন সোহাগ যদি শহরের বুকে এমনভাবে খুন হন, তবে এই সমাজ কীভাবে ঘুমায় নিশ্চিন্তে?

আমরা চাই, সোহাগ হত্যার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত হোক, খুনিরা আইনের আওতায় আসুক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক। আর চাই, এই হত্যাকাণ্ড যেন আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ের নতুন কোনো মাইলফলক না হয়ে দাঁড়ায়।

আজ সময় এসেছে—একটি প্রশ্নকে সামনে রেখে দাঁড়ানোর: আর কত সোহাগ হারালে আমরা জেগে উঠব?।