অনলাইন ডেস্ক।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই ভোটের মাঠ সহিংস হয়ে উঠছে। নির্বাচনী প্রচারের ভাষা ও আচরণ অনেক এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টা হামলায় রূপ নিয়েছে। গত সাত দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বহু মানুষ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোয় বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সবচেয়ে বেশি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নারী কর্মীদের হেনস্তা, গণসংযোগে বাধা ও মামলা-পাল্টা মামলার ঘটনা। সব মিলিয়ে সাধারণ ভোটারের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়েও আস্থা হারাচ্ছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেসব এলাকায় বেশি, সংঘর্ষের শঙ্কাও সেসব এলাকায় বেশি।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, মুখে গণতান্ত্রিক বললেও রাজনীতি এখনও পেশিশক্তির কবল থেকে বের হতে পারেনি। যে জায়গায় হোঁচট খাচ্ছি, ২০২৪ সালের ঘটনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে পারেনি। প্রতিযোগিতা এখন প্রতিহিংসায় পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, এই ধরনের সংঘাত-সহিংসতার ঘটনায় শুধু শোকজ না করে আইনের কঠোর প্রয়োগ বাস্তবায়ন করতে হবে। শাস্তি দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কয়েকজনকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারলে অন্যরাও ভোটের মাঠের সহিংসতা থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হবে। তিনি বলেন, মানুষের জীবনের মূল্যের চেয়ে ভোটের মূল্য বেশি না। ভোটকেন্দ্রে নিতে হলে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে হবে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত সাত দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক সংঘর্ষ-সহিংতার ঘটনা ঘটেছে। যার
অধিকাংশই বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের। গতকাল ঢাকা, চট্টগ্রাম, শেরপুর, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, ভোলাসহ অন্তত সাতটি স্থানে ভোট নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে রাজধানীর খিলক্ষেত, নাটোর-১ আসনের লালপুর-বাগাতিপাড়া, লালমনিরহাট-১ আসনের হাতীবান্ধা, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গা, ময়মনসিংহ-১১ আসনের ভালুকা, পটুয়াখালী-৩ আসনের গলাচিপা-দশমিনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, অতীতের অনেক নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনে মাঠের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। এরই মধ্যে কয়েকজন প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যে বিষয়গুলো আসছে, তাৎক্ষণিকভাবে কমিশন তা রিটার্নিং অফিসারদের নজরে আনা হচ্ছে। আসনভিত্তিক অভিযোগগুলো তদন্ত কমিটিকে পাঠাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন এসব ঘটনায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়, সেজন্য কমিশনও ‘ত্বরিত ব্যবস্থা’ নিচ্ছে। প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি, মিনিমাম ৫০-৬০টি কেস রুজু হচ্ছে; কোথাও জরিমানা হচ্ছে; কোথাও শোকজ হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে বেশি সংঘাতের শঙ্কা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব আসনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। নির্বাচনকালে সহিংসতা, ভোটকেন্দ্র দখল করতে পারে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সারা দেশে চলমান আছে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ শান্ত রাখতে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।
আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচনের আগে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীলতা ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। সংঘর্ষ ও সহিংসতার খবরে সাধারণ ভোটারের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে দ্বিধায় পড়বেন তারা। ভোটারদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করাই এখন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল কাজ। এ জন্য সংঘর্ষ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে শৃঙ্খলার বিষয়ে তাদের সহযোগিতা নিতে হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক তথ্য সহিংসতা বাড়াচ্ছে। একটি গুজবের ঘটনা আরও কয়েকটি সহিংসতায় ইন্ধন দিচ্ছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন ঘিরে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। এতে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের পাশাপাশি সরকারের মধ্যে থাকা কিছু ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিভিন্ন দিক থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
জামায়াতে ইসলামী বলছে, নির্বাচনী প্রচারে প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর এ ধরনের হামলা নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারাই বিরোধী দল ও মতকে সহ্য করতে পারে না। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না থাকায় সারা দেশে একটি দলের নেতাকর্মীরা জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য দলের প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি মা-বোন নিরাপদ না থাকেন, তবে তারা ক্ষমতায় গেলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা থাকবে না।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবেন। সাম্প্রতিক সময়ের হামলা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি কিংবা কোথাও কোথাও কেন্দ্র দখলের মতো পরিস্থিতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এবার দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকেও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। কিছু প্রার্থীকে সার্বক্ষণিক গানম্যান ও বাড়িতে পুলিশি প্রহরা দেওয়া হয়েছে। আবার যাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি, তাদের ক্ষেত্রে গানম্যান ও বাসাবাড়ির নিরাপত্তার পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে পুলিশ প্রটোকলের গাড়ি। অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বিকালে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল, ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসানসহ অতিথিরা মঞ্চে বসে অনুষ্ঠান শুরুর অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলও মঞ্চে ছিলেন। তবে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল তখনও অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাননি। সংঘর্ষের ফলে অনুষ্ঠানই ভণ্ডুল হয়ে যায়।
গতকাল ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, খুলশী ও হালিশহর) আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর কর্মী-সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাতে নগরের আমবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ পৃথক দুটি মামলা করেছে। এর আগে মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতের মামলায় বিএনপির ১৮ জন এবং বিএনপির মামলায় জামায়াতের ২৯ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
নারী কর্মীদের হেনস্তা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে : দেশের কয়েকটি স্থানে ভোট চাওয়ার সময় নারী স্বেচ্ছাসেবক ও প্রচারকর্মীদের বিরুদ্ধে কটূক্তি, হুমকি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। নারীদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন। গতকাল বুধবার ঝিনাইদহের মহেশপুরের হাট খালিশপুর গ্রামে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে নারী নেত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মহেশপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আহ্বায়ক রুপা খাতুন অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহ-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মেহেদী হাসান রনির পক্ষে ভোট চাইতে তারা হাট খালিশপুর গ্রামে আব্দুল গফুরের স্ত্রী রোকেয়া খাতুনের বাড়িতে যান। কথাকাটাকাটি হলে রুপা খাতুনকে চড় মারেন রোকেয়া খাতুন। অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াত ইসলামের নারী কর্মী রোকেয়া খাতুন বলেন, তিনি কাউকে চড় মারেননি। মোবাইলে ভিডিও করার সময় ধস্তাধস্তিতে তার হাতে আঘাত লেগে মোবাইল ফোনটি মাটিতে পড়ে যায়। মহেশপুর থানার এসআই টিপু সুলতান জানান, ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা দেওয়া হবে।
গতকাল সকালে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে নির্বাচনী প্রচারকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী একেএম কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামালসহ তিন সন্তানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষ হয়ে মো. সোহেল হাওলাদার ও আলাউদ্দিন নামের দুই ব্যক্তি প্রচারে বাধা দেন এবং গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা মুহাম্মাদ তাহজিব ও ফয়সাল আহমাদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে প্রার্থীর মেয়ে মারিয়া কামালকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামাল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াত আমির মীর মো. শরিফ বলেন, যদি তাদের কোনো কর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনে কদমতলী থানাধীন ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের কাইল্লাপট্টি নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা নেত্রীর কাজী মারিয়া ইসলামের ওপর (৫২) ওপর রামদা দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নেওয়ার সময় কাজী মারিয়া ইসলাম বেবিসহ জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। জামায়াত ইসলামী জানিয়েছে, গণসংযোগ চলাকালে স্থানীয় যুবদল নেতা রমজানের নেতৃত্বে একদল যুবদল কর্মী জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তার মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। এর আগে গত সোমবার টাঙ্গাইল-২ আসনের গোপালপুর, রবিবার যশোর-২ আসনে ঝিকরগাছা উপজেলায় এবং একই দিন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গায় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ করে দলটি।
শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহত
শেরপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিম মারা গেছেন। গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল।
এর আগে বুধবার বিকালে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘জনতার মুখোমুখি’ বা ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্লোগান দেওয়া কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। এতে রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।