নিজস্ব প্রতিবেদক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–ইসরাইল–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও। তেলের সরবরাহে ঘাটতি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং, যা জনজীবনে নেমে এনেছে চরম ভোগান্তি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শপিংমল, মার্কেট ও খুচরা দোকানগুলো সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তেমনি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারাও।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনের ব্যস্ত সময় বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ায় তাদের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ছোট ব্যবসাগুলো টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ বলছেন, অফিস শেষে বাজার বা কেনাকাটা করার সুযোগ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনে সৃষ্টি হয়েছে নানা অসুবিধা। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তেলের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং বাড়ানো হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এ সংকট অব্যাহত থাকতে পারে। তারা জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প শক্তির উৎসের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে দ্রুত কার্যকর সমাধান না এলে অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।