দৈনিক পদ্মা সংবাদ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক।
ইরানের ইসফাহান প্রদেশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন এক মার্কিন পাইলট। একটি দুর্ঘটনায় তাঁর যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার পর তিনি গুরুতর জখম হন—পায়ের গোড়ালি মচকে যায়। প্রায় সাত হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের ফাটলে আশ্রয় নিয়ে তিনি কোনওভাবে যোগাযোগ করেন নিজের বাহিনীর সঙ্গে।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, পাইলটের পাঠানো বার্তা প্রথমে সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছিল। এটি শত্রুপক্ষের ফাঁদ কি না, তা যাচাই করতে সময় নেয় মার্কিন বাহিনী। বিশেষ কিছু কোড ও ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করায় শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হয়।
এরপর শুরু হয় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার পরিকল্পনা। ইরানের নজর এড়াতে এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে ‘জ্যামার’ ব্যবহার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোও অচল করে দেওয়া হয়, যাতে বাইরের কেউ সহজে সেখানে পৌঁছাতে না পারে।
রাতের অন্ধকারে দুইটি বিশেষ সামরিক বিমান—MC-130—প্রায় ১০০ জন প্রশিক্ষিত কমান্ডো নিয়ে ইরানে প্রবেশ করে। তাঁরা সফলভাবে জখম পাইলটের কাছে পৌঁছান এবং উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
তবে অভিযানের শেষ মুহূর্তে বড় বিপত্তি ঘটে। উদ্ধারকারী দুইটি বিমানেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, ফলে পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি তখন চরমে।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত বিমান পাঠিয়ে ধাপে ধাপে সবাইকে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন বাহিনী। ভোর হওয়ার আগেই অভিযান শেষ করা হয়।
কিছু সূত্র দাবি করেছে, শেষ মুহূর্তে ইরানের সেনা মার্কিন উপস্থিতি টের পেয়ে গিয়েছিল এবং গুলির লড়াইও শুরু হয়। যদিও সরকারি ভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সামাজিক মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানান, অভিযান সফল হয়েছে এবং পাইলট নিরাপদে ফিরেছেন।
এই পুরো ঘটনাটি নিখুঁত পরিকল্পনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং ঝুঁকি নেওয়ার এক বিরল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।