যশোর সংবাদদাতা।।
যশোরে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরী অপহৃত হওয়ার নয় দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দারা দলবেঁধে যশোর কোতোয়ালি থানায় উপস্থিত হন এবং মেয়েটিকে দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জানা গেছে, ফতেপুর দাসপাড়ার বাসিন্দা দেবদাস বিশ্বাসের মেয়ে বৈশাখী রানী (১৫) স্থানীয় ছাতিয়ানতলা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কিছুদিন আগে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট দাসপাড়ার কনক কুমার দাসের (২২) সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকে কনক তাকে নানাভাবে উত্যক্ত করতে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখাতে থাকে বলে পরিবারের অভিযোগ।

পরিবার জানায়, বৈশাখী রাজি না হওয়ায় কনক তাকে অপহরণের হুমকি দেয় এবং তার প্রতিদিনের চলাফেরায় নজর রাখতে শুরু করে। গত ৮ এপ্রিল সকাল পৌনে এগারোটার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ফতেপুর এলাকায় নজরুল ইসলামের বাড়ির সামনে পৌঁছানো মাত্রই একটি সাদা মাইক্রোবাস এসে থামে এবং কনক ও তার সঙ্গীরা মিলে জোর করে বৈশাখীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও কোনো সুরাহা করতে পারেননি। অভিযুক্তের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি এলোমেলো কথা বলছেন বলে জানানো হয়েছে। পরিবারের আশঙ্কা, কিশোরীটিকে অজানা কোনো স্থানে আটকে রেখে যেকোনো মুহূর্তে ক্ষতি করা হতে পারে।

থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা সরাসরি থানায় গিয়ে কান্নাকাটি করেন এবং দ্রুত উদ্ধারের জোর দাবি তোলেন।

এ প্রসঙ্গে কোতোয়ালি মডেল থানার একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।।