মোদের কাজের চাইতে কথা বেশি এ যেন আজ আমাদের সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা। কথার জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে দায়িত্ব, আর বাস্তব কাজের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ শূন্যতা। ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র সব স্তরেই যেন কথার প্রাধান্য, কাজের নয়।
আজ শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। একসময় মানুষের প্রধান দুশ্চিন্তা ছিল অন্নসংস্থান, কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করেছে জ্বালানি সংকট। তেল যেন হয়ে উঠেছে আধুনিক সভ্যতার নিয়ন্ত্রক শক্তি। অতীতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করত, আর সাধারণ মানুষ পড়ত চরম ভোগান্তিতে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল—এখন শুধু পণ্য নয়, কথার অপব্যবহারও সমাজকে বিপদে ফেলছে।
সমাজের একটি অংশ এমন হয়ে উঠেছে, যারা কাজের চেয়ে কথায় বেশি আগ্রহী। দায়িত্ব হাতে পেলেই তারা বাস্তব উন্নয়নের বদলে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একটি চেয়ার পাওয়ার সাথে সাথে যেন বদলে যায় তাদের আচরণ—জনসেবার পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থই হয়ে ওঠে মূল লক্ষ্য।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। যেখানে সেখানে অপরাধ, অনিয়ম, আর বিশৃঙ্খলা—এসবের মাঝে একজন সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ, তা ভাবার বিষয়। নিরাপত্তাহীনতা যেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—আমরা এমন এক সম্ভাবনাময় দেশে বাস করি, যেখানে উন্নতির অসংখ্য সুযোগ রয়েছে। তবুও সেই সম্ভাবনাকে ধরে রাখতে পারছি না। অর্থের কাছে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, এমনকি দায়িত্ববোধও বিকিয়ে যাচ্ছে। ফলে উন্নয়নের পথ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এককথায় বলা যায়, আমরা এমন এক সময় পার করছি যেখানে কথার ঝলকানিতে বাস্তবতার অন্ধকার ঢেকে যাচ্ছে। এখন প্রয়োজন কথার চেয়ে কাজে গুরুত্ব দেওয়া, দায়িত্বকে প্রাধান্য দেওয়া, আর সত্যিকার অর্থে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসা।
মো: ইব্রাহিম হোসেন।
বার্তা-সম্পাদক।