দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
একটি ফোনকলে শেষ হলো ২১ বছরের প্রতীক্ষা। দীর্ঘ এই সময় জুড়ে হারানো প্রতিবন্ধী ছেলেকে শুধু খোঁজা ঢাকার অলিগলি, দেশের জেলায় জেলায়, মাইকিং, মানুষের দরজায় দরজায়। তবু সন্ধান মেলেনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি ভোলার ফারুক হোসেন। অবশেষে একটি ফোনকলই বদলে দিল সব দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ফিরে পেলেন তার হারানো প্রতিবন্ধী ছেলে আলী আক্তারকে।
জানা যায়, প্রায় ২১ বছর আগে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আলী আক্তার ঢাকার জুরাইনে খালার বাসায় বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হন। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি। বড় ছেলের এই হারিয়ে যাওয়া পুরো পরিবারকে ভেঙে দেয়। তবু বাবা ফারুক হোসেন থামেননি বছরের পর বছর ধরে খুঁজে গেছেন নিরলসভাবে।
সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে এক ফোনকলে। ফারুক হোসেনের জামাইয়ের বাবা মো. চেণ্টু জানান, মদনা-পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে এক ভবঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যার চেহারার সঙ্গে আলী আক্তারের মিল রয়েছে। খবর পেয়েই ছুটে যান বাবা। চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে চিনতে এতটুকু ভুল হয়নি — এটি তারই হারানো ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত দুই দশক ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন আলী আক্তার ওই এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে বসবাস করছিলেন। গ্রামবাসীই তাকে খাবার দিতেন, একটি চায়ের দোকানই ছিল তার আশ্রয়।
পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজির রহমান বলেন,বাবা-ছেলের চেহারার মিল দেখেই নিশ্চিত হয়ে তাকে বাবার হাতে তুলে দিই। এমন মানবিক কাজে অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
দর্শনা থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আলী আক্তারকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আবেগাপ্লুত বাবা ফারুক হোসেন বলেন,আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। ছেলেকে ফিরে পাবো এই আশা কখনো ছাড়িনি। যারা এতদিন তাকে দেখাশোনা করেছেন, তাদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।।