দৈনিক পদ্মা সংবাদ — নিজস্ব প্রতিবেদন।

আমি একজন নির্ভীক সংবাদকর্মী—যা দেখি, তাই লিখি। সত্য প্রকাশই আমার অঙ্গীকার, আর সেই অঙ্গীকারেই প্রতিদিনের নানান ঘটনা তুলে ধরি জাতির সামনে। কারণ একজন সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব হলো দেশ, জাতি ও সমাজকে নির্ভুল ও নিরপেক্ষ তথ্য জানানো।

কিন্তু বাস্তবতা আজ ভিন্ন কথা বলে। কোনো বিষয় নিয়ে কথা তুলতে গেলেই রাজনৈতিক প্রভাব, মাদক বিস্তারের কালো ছায়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহার যেন সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। একে অপরকে ছাড় দেওয়ার প্রবণতা নেই—বরং যেখানে যেভাবে সম্ভব, সেখান থেকেই সুবিধা নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে।
“আমি আরও চাই, আরও হবো, কোটিপতি হবো”—এই অন্ধ প্রতিযোগিতায় মানুষ জড়িয়ে পড়ছে অন্যায়, অবিচার ও অবৈধ পথে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণ জরুরি। আমাদের দেশকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু মুখে “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” বললেই হবে না—এটা অন্তরে ধারণ করতে হবে। মুছে ফেলতে হবে সব কালো ছায়া, ত্যাগ করতে হবে অবৈধতার পথ।
তবে সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়—যখনই একজন সাংবাদিক সত্য তুলে ধরতে চান, তখনই তিনি নানা বাধার সম্মুখীন হন। কখনো রাজনৈতিক চাপ, কখনো প্রভাবশালীদের হুমকি—সব মিলিয়ে সত্য বলা যেন এক ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা।

এই কারণেই সাংবাদিকতার আরেক নাম যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে “মৃত্যুকে সাথে নিয়ে পথচলা”। জীবনের মায়া ত্যাগ করে, সত্যের খোঁজে নিরন্তর ছুটে চলেন একজন সাংবাদিক।
তারপরও প্রশ্ন ওঠে—যোগ্যতা নিয়ে, উদ্দেশ্য নিয়ে। বলা হয়, “তুমি আম খাও, গাছ গুনে লাভ কী!” অথচ সেই ‘গাছ গোনা’র মধ্যেই লুকিয়ে থাকে দুর্নীতির চিত্র—৫০ টাকার আড়ালে হাজার কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য।

তাই সময় এসেছে আমাদের চিন্তাধারা বদলানোর। সত্যকে স্বীকার করার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর।
আগামী প্রজন্ম আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে—আমরা কেমন দেশ তাদের হাতে তুলে দেব?
যেদিন আমরা নিজেরাই গর্ব করে বলতে পারবো—
“আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”—
সেদিনই সত্যিকার অর্থে আলোকিত হবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।