অনলাইন ডেস্ক :
ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের পর এবারই প্রথম এশিয়ায় তেলের দাম চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন :সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হলেন যারা

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রধান দুই বেঞ্চমার্ক হলো ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)। এশিয়ার অধিকাংশ দেশ ব্রেন্ট ক্রুড আমদানি করে থাকে। বর্তমানে এশিয়ার বাজারে প্রতি ব্যারেল (১৫৯ লিটার) ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ১২৬ ডলারে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি।
এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেলেও এবার বৃদ্ধির হার আরও বেশি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ জারি করলে জাহাজ চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এর ফলে শুধু এশিয়াই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
এদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের পাশাপাশি ডব্লিউটিআইয়ের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হচ্ছে ১১৩ ডলারে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন :প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের বাজারেও।