অনলাইন ডেস্ক।।
বাংলাদেশ সরকার ও জাপানের মধ্যেস্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি বিনিময় চুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রীসভার অষ্টম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মন্ত্রীসভার বৈঠকে গ্রহণ করা সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের হার ৭০.৭৩ শতাংশ বলেও জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর ম্পর্কিত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতি রেখে সম্পাদন করা হয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অধিগ্রহণ এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। চুক্তিটি স্বাক্ষরের ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গতকাল বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিড়াল প্রজাতি সংরক্ষণের একটি চুক্তি অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাঘ, সিংহ, জাগুয়ারসহ সাতটি প্রধান বৃহৎ বিড়াল প্রজাতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি জোট প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ২৪টি জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত দেশ এই জোটের সদস্য। এই জোটের মূল উদ্দেশ্য হলো সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ‘বিগ ক্যাট’-এর আবাসস্থল সংরক্ষণ, অবৈধ শিকার ও বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। বাংলাদেশে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হোম কান্ট্রি হওয়ায় সুন্দরবনের ইকো-সিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিবেচনায় ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন দ্যা স্টাবলিষ্টমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ)’ স্বাক্ষরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।
মন্ত্রীপরিষদ জানিয়েছে, বিশ্বে নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়ন্ত্রণভিত্তিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ অর্ডারলি এ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম) গৃহীত হয়। বাংলাদেশসহ ১৬৪টি রাষ্ট্র এর সমর্থন করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ে বৈশ্বিক সহযোগিতার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং এর ধারণার প্রবক্তাও বাংলাদেশ। বাংলাদেশে অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর সহযোগিতায় ২০২৬-২০৩০ মেয়াদকালের জন্য খসড়া অ্যাকশন প্লান প্রণয়ন করা হয়, যা মন্ত্রিসভা-বৈঠকে অনুমোদন করা হয়েছে।