দৈনিক পদ্মা সংবাদ | বিশেষ প্রতিবেদন।

প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে পৃথিবী আজ যেন মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ করতে নানান ধরনের ডিজিটাল মাধ্যম ও আধুনিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একসময় যা শুধু কল্পকাহিনী বা গল্পে সীমাবদ্ধ ছিল, বর্তমানে তার অনেক কিছুই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। যেন আলাউদ্দিনের চেরাগের মতো যখন যা প্রয়োজন, মুহূর্তেই তা হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন :দর্শনায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক উপলক্ষে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

তবে প্রযুক্তির এই ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে অপব্যবহারও। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে এক শ্রেণির অসাধু চক্র তরুণ সমাজকে ডিজিটাল জুয়ার দিকে আকৃষ্ট করছে। লোভনীয় বিজ্ঞাপন, সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন, বিভিন্ন গেমিং অ্যাপ এবং দ্রুত ঋণ পাওয়ার অফারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই ডিজিটাল জুয়ার জালে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ পর্যন্ত অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন। অল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় অনেকে প্রথমে সামান্য অর্থ বিনিয়োগ করলেও পরবর্তীতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ।
সচেতন মহলের দাবি, ডিজিটাল জুয়ার এই বিস্তার তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

আরও পড়ুন :আগামীকাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় ডিজিটাল জুয়ার অন্ধকারে হারিয়ে যেতে পারে দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।