কিংবদন্তী ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর নেই

0
27

অনলাইন ডেস্ক।।
অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়। চলে গেলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৬০ বছর বয়সে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে মারা গেছেন ফুটবল ঈশ্বর। কদিন আগেই ৬০তম জন্মদিন পার করেছিলেন, অসুস্থতায় ভুগছিলেন বেশ কিছুদিন ধরে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, সেখান থেকে ফিরেও এসেছিলেন। এবার ফুটবলভক্তদের কাঁদিয়ে চলে গেলেন চিরতরে।

আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমগুলো জানায়, তিগ্রেতে নিজ বাসায় আজ হার্ট অ্যাটাক হয় তার। হাসপাতালে নেওয়ার পর আর ফিরতে পারেননি তিনি। ৬০ বছরেই তাই অতীত হয়ে যান বিশ্ব ফুটবলের রোমাঞ্চ ছড়ানো এই নাম।

এর আগে বেশ কয়েকদিন ধরেই নানান অসুস্থতায় ভুগছিলেন ফুটবলের জাদুকর। বুয়েইন্স এইরেস হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারও করা হয়।

১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে প্রায় একাই বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। পরের বিশ্বকাপেও দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে। তবে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ডোপ কেলেঙ্কারিতে নিষিদ্ধ হয়ে ফিরতে হয় তাকে। খেলা ছাড়ার পর মাদকাসক্তির কারণে বারবার খবরে আসেন তিনি। নানান সময়ে নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে কাটাতে হয়েছে তাকে।

২০১০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচের ভূমিকায় ছিলেন তিনি। লিওনেল মেসিদের নিয়ে সেবার আনতে পারেননি সাফল্য। তবে ফুটবলীয় স্কিলে দুনিয়ার কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগীর মনে তার আসন আলাদা।

১৯৬০: ৩০ অক্টোবর বুয়েনস আইরেস প্রদেশের লেনাস জেলায় জন্ম।

১৯৭৬: স্থানীয় ক্লাবের হয়ে খেলোয়াড়ি জীবনের অভিষেক।

১৯৭৭: ২৭ ফেব্রুয়ারি আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে মাঠে নামেন। তখন তার বয়স ১৬ বছর ১২০ দিন।

১৯৭৮: বয়সে কম হওয়ার কারণে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েন।

১৯৭৯: ২ জুন, জাপানে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন। অধিনায়ক হিসেবে শিরোপাও জয় করেন।

১৯৮২: ২১ বছর বয়সে দলের সঙ্গে ইউরোপে পাড়ি জমান স্পেনে বিশ্বকাপ খেলার জন্য। ব্রাজিলের কাছে ৩-১ গোলে হেরে আর্জেন্টিনা বিদায় নেয়।

১৯৮৪: ইতালীয় ক্লাব নেপোলিতে যোগ দিলেন। ৪.৬৮ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে।

১৯৮৬: ঈশ্বরের হাতের খ্যাতি আর সঙ্গে সঙ্গে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে এনে দিলেন বিশ্বকাপ। ওই বছরই ইউরোপের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার পান।

১৯৮৭: নেপোলিকে জেতান ইতালীয় ফুটবলের শিরোপা।

১৯৯০: সন্তানের পিতৃত্ব সংক্রান্ত মামলায় জরিমানা। বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে ০-১ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।

১৯৯১: ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার কারণে ইতালি ত্যাগ করতে হয়। কোকেন গ্রহণের অভিযোগে আর্জেন্টিনায় গ্রেফতার হন।

১৯৯২ : স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়াট ফুটবল ক্লাবে যোগ দিলেন। কিন্তু আশানুরূপ ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখাতে পারেননি।

১৯৯৩ : সেভিইয়া ছেড়ে আবারও আর্জেন্টিনায় ফিরে এলেন। যোগ দিলেন স্থানীয় নোয়েল ওল্ড বয়েজ দলে।

১৯৯৪ : আবার ড্রাগ টেস্টে ব্যর্থ হলে এক ম্যাচ পরেই বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেন। এরপর আর জাতীয় দলে খেলেননি।

১৯৯৬ : মাদকাসক্তি থেকে মুক্তিলাভের জন্য ক্লিনিকে ভর্তি হলেন।

১৯৯৭ : ৩৭ বছর বয়সে অবসর নিলেন।

২০০০ : হৃদযন্ত্রের সমস্যায় উরুগুয়ের এক হাসপাতালে ভর্তি হলেন।

২০০২ : মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি লাভের আশায় কিউবাতে চলে গেলেন।

২০০৩ : ম্যারাডোনা তার ছেলের সঙ্গে দেখা করলেন প্রথমবারের মতো। এর আগে তিনি সবসময় তাকে পুত্র হিসেবে অস্বীকার করে আসছিলেন।

২০০৪ : ১৯ এপ্রিল আরেকবার গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো তাকে।

২০০৮ : আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ঘোষণা করে ডিসেম্বর ২০১০ থেকে আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের কোচ ম্যারাডোনা।

২০১০ : জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে পদত্যাগ করেন।

২০১১ : আরব আমিরাতের আল ওয়াসেল ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here