ঢাকা নারায়ণগঞ্জে শিমরাইলে রাস্তার দু’পাশে সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে ফুতপাত বসিয়েছে স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র

0
1

ঢাকা প্রতিনিধি:শিমরাইলে রাস্তার দু’পাশে সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে ফুতপাত বসিয়েছে স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র। নারায়ণগঞ্জে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন শিমরাইলে রাস্তার দু’পাশে সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে ফুতপাত বসিয়েছে স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র। ওই চক্রটি ফুতপাতে হকার বসিয়ে প্রতি মাসে ২ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছে বলে এমন অভিযোগ উঠেছে। রহস্যজনক কারণে থানা পুলিশ ও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

জানা গেছে, শিমরাইলে রাস্তার দু’পাশে ফুতপাত প্রতিটি দোকান থেকে ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা জামানত নিয়ে এবং প্রতিদিন ৪শ থেকে ৬শ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। দু’পাশে প্রায় ২ হাজারেরও বেশী দোকান রয়েছে। (সওজ) এর জায়গা অবৈধভাবে দখল থাকলেও (সওজ) এর কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করছে না। এই চাঁদাবাজ চক্রটি র্দীঘদিন যাবত ফুটপাতে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে।

কিছুদিন র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা তৎপর থাকায় চাঁদাবাজ চক্রটি গা ঢাকা দেয়। আবার এলাকায় এসে নিজেদের চাঁদাবাজ বাহিনী দিয়ে চাঁদা আদায় করছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় চিটাগাংরোড রেন্ট এ কার স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পর্যন্ত এবং নাসিক ৩নং ওয়ার্ডের আওতাধীন ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশ পর্যন্ত ১ হাজার ৫ শতেরও বেশী দোকান থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে প্রায় ২ কোটি টাকার চাঁদা আদায় হয়। থানা পুলিশ রহস্যজনক ভাবে চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করছে না।

এবিষয়ে সড়ক ও জনপথের বিভাগীয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামীম জানান, আমরা এ মাসের ৯ ডিসেম্বর ওই জায়গাটিতে অভিযান পরিচালনা করব। সেই সাথে জায়গাটি ভেঙ্গে সমান করে সহজে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হকার ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন ৫শ টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে মারধরসহ দোকান উঠিয়ে দেয় চাঁদাবাজরা। পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে বলে চাঁদা দেয়ার কথা কাউকে না বলতে। আমরা সরকারি জায়গায় ক্ষুদ্র ব্যবসা করি তার পরেও আমাদের সকলকে প্রতিদিন বিভিন্নভাবে যেমন বিকাশের মাধ্যমসহ অন্যান্য কৌশলে চাঁদাবাজদের চাঁদা দিতে হয়।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক বলেন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নজরদারী করা হবে এবং যদি কোনো ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ঘটনার সত্যতা জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক বলেন, আমিও শুনেছি এখনো চাঁদাবাজি হচ্ছে। চিটাগাং রোড মার্কেট মালিকরা মার্কেটের হকারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে। আমি নিজে কয়েকবার সওজ অফিসে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে বলেছি অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করার জন্য। অবৈধ দোকান বসানোর কারণে সাধারন পথচারীদের চলাচলের কষ্ট হচ্ছে। বিষয়গুলো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকেও মোখিক ভাবে জানানো হয়েছে। তবে আমার কোনো লোক ফুটপাত থেকে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here