বগুড়ায় অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিতে

বগুড়া সংবাদদাতা।।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া জেলার সাতটি সংসদীয় আসনের ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ। যৌথ বিশ্লেষণে ৫০০টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রগুলো তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি কেন্দ্র ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’, ৩১০টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৪৮৩টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংঘর্ষের আশঙ্কা, নদীপথ ও চরাঞ্চলের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, অতীতের নির্বাচন বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সহিংসতার ঘটনা এবং স্থানীয় বিরোধের কারণে এসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
উপজেলা ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শাজাহানপুর উপজেলায় সর্বাধিক ৪৬টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া কাহালুতে ৩১টি, শেরপুরে ৩০টি, শিবগঞ্জে ২৬টি, আদমদীঘিতে ১৬টি, সারিয়াকান্দিতে ১৫টি, ধুনটে ১২টি, দুপচাঁচিয়ায় ৬টি, বগুড়া সদরে ৫টি, সোনাতলায় ২টি এবং গাবতলীতে ১টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ৫ হাজার ৪৭৮টি। এর মধ্যে স্থায়ী ভোটকক্ষ ৫ হাজার ১৪৮টি এবং অস্থায়ী ৩৩০টি। এ নির্বাচনে জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১ জন এবং নারী ভোটার ১৫ লাখ ১ হাজার ২৭ জন।
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে স্ট্রাইকিং ফোর্স, ভ্রাম্যমাণ টহল, অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ভোটাররা যাতে ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।’










