চুয়াডাঙ্গা ১২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা হতে ‘ডিম্বাণু সংরক্ষণ’ করেছেন অবিবাহিতা রাইমা সেন

Padma Sangbad
১২০

বিনোদন ডেস্ক।।

ভারতীয় সিনেমার অভিনেত্রী রাইমা সেন ৪৬ বছর বয়সেও অবিবাহিত। তার সমসাময়িক অনেকেই বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন, কেউ কেউ সন্তানের মা-ও হয়েছেন।

ফলে রাইমার বিয়ে নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলেরও শেষ নেই। তবে বিয়ে কিংবা সংসার নিয়ে নিজের ভাবনা এবার খোলামেলাভাবেই জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ভারতীয় একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাইমা সেন বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, এই বয়সে দাঁড়িয়ে বিয়ে করার তাগিদটাও অনুভব করি না। অ্যাটাচমেন্ট নিয়েও চিন্তা হয়।’

একা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে মা মুনমুন সেন কী ভাবেন- এমন প্রশ্নের জবাবেও খানিকটা চমকে দিয়েছেন রাইমা। তার ভাষ্য, আগে মা এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতেন।

তবে এখন দেশ-দুনিয়ার পরিস্থিতি দেখে উল্টো বিয়ে করতে বারণ করেন। মায়ের পরামর্শ, ‘জোর করে কিছু করো না। পরে কখনো একাকিত্বে ভুগলে অনেকগুলো পোষ্য দত্তক নিও।’

মা হতে ‘ডিম্বাণু সংরক্ষণ’ করেছেন অবিবাহিতা রাইমা সেন
বিয়ের প্রতি আগ্রহ না থাকলেও মা হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে রাইমা বলেন, ‘আমি বাচ্চাদের ভীষণ ভালোবাসি। ভয় লাগে, কী জানি সব ম্যানেজ করতে পারব কি না, ভেবে দেখিনি। তবে আজ মনে হচ্ছে না, কাল ইচ্ছে হতেই পারে।’

ভবিষ্যতে মা হওয়ার সেই সম্ভাবনার কথা ভেবেই অনেক আগেই নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রেখেছেন রাইমা। তিনি বলেন, ‘সেই সব সাত-পাঁচ ভেবে অনেক কাল আগেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ (এগ ফ্রিজ) করে রেখেছি।’

মা হতে ‘ডিম্বাণু সংরক্ষণ’ করেছেন অবিবাহিতা রাইমা সেন
তবে মা হওয়ার সঙ্গে বিয়ের সম্পর্কটিকে এক করে দেখতে নারাজ এই অভিনেত্রী। তার কাছে বিষয়টি বেশ পরিষ্কার। রাইমার কথায়, ‘শুধু মা হওয়ার জন্য বিয়ে নিষ্প্রয়োজন।’

এর আগে অন্য একটি সাক্ষাৎকারে ৪৬ বছর বয়সে অবিবাহিত থাকার অভিজ্ঞতা কেমন- জানতে চাওয়া হয়েছিল রাইমার কাছে। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘দারুণ। আমার মনে হয়, চল্লিশের পরই জীবন শুরু হয়। সত্যি বলতে, নিজেকে এখন অনেক বেশি স্বাধীন লাগে।’

রাইমা সেনঅভিনেত্রীটালিউডটালিউড অভিনেত্রী
এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন
কোক স্টুডিও বাংলার নতুন গান ‘মথুরা’: অধরা ভালোবাসার সুর
অধরা ভালোবাসা আর না-পাওয়ার আক্ষেপের গল্প নিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে কোক স্টুডিও বাংলা সিজন ৪-এর পঞ্চম গান ‘মথুরা’। সেমি-ক্লাসিক্যাল ঘরানার গানটির কথা ও সুর করেছেন অঙ্কন কুমার রায়। এতে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন সানজিদা মাহমুদ নন্দিতা। সংগীতায়োজন করেছেন শুভেন্দু দাস শুভ। ‘মথুরা’ এমন দুই মানুষের গল্প বলে, যাদের মন এক হলেও বাস্তব জীবন বয়ে চলে ভিন্ন পথে। ভালোবাসা থাকলেও একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ না পাওয়ার সেই অনুভূতিই গানের মূল বিষয়। রাধা-কৃষ্ণ, রোমিও-জুলিয়েট কিংবা লাইলী-মজনুর মতো প্রেমকাহিনিতে যে অপূর্ণতার গল্প যুগের পর যুগ বেঁচে আছে, ‘মথুরা’তেও উঠে এসেছে সেই আকুলতার অনুভব। জীবনে যে সম্পর্ক পূর্ণতা পায়নি, তার রেশ কীভাবে স্মৃতি ও অনুভূতিতে থেকে যায়, গানটিতে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে। অঙ্কন কুমার রায় ও সানজিদা মাহমুদ নন্দিতার কণ্ঠে গানটিতে ফুটে উঠেছে বিরহ, না-বলা কথা ও অপূর্ণ ভালোবাসার আবেগ। আজ সন্ধ্যা ৭টায় কোক স্টুডিও বাংলার সব ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও অফিসিয়াল চ্যানেলে প্রকাশ হবে ‘মথুরা’।
কোক স্টুডিও বাংলার নতুন গান ‘মথুরা’: অধরা ভালোবাসার সুর
ওটিটিতে অপি করিমের ‘মায়ার জঞ্জাল’
‘মায়ার জঞ্জাল’ দিয়ে ১৯ বছর পর বড় পর্দায় ফিরেছিলেন অপি করিম, সিনেমাটি এবার ওটিটিতে আসছে। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার সিনেমাটি আজ চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে। এটি অপি করিমের দ্বিতীয় সিনেমা। ‘মায়ার জঞ্জাল’ পরিচালনা করেছেন ফড়িং, একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো, ভালোবাসার শহর দিয়ে প্রশংসা কুড়ানো পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী। সিনেমাটির প্রযোজক বাংলাদেশের জসীম আহমেদ। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি ছোটগল্প ‘বিষাক্ত প্রেম’ ও ‘সুবালা’ অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। প্রায় দুই দশক পর সিনেমায় যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে অপি করিম বলেন, ‘প্রথমে লেখাপড়া আর পরে কাজের চাপে সিনেমায় নিয়মিত হতে পারিনি। কিন্তু নির্মাতা ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর কারণে এ সিনেমা করেছিলাম। তার ‘ফড়িং’, ‘ভালোবাসার শহর’ অনেক ভালো লেগেছিল। বিশেষ করে ‘ভালোবাসার শহর’-এ জয়া আপুর অভিনয় এত ভালো লেগেছিল যে আমারও একটু কাজ করার আগ্রহ হয়েছিল। সে আগ্রহ থেকেই কাজটি করা। আরও আগ্রহ বাড়িয়েছেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। আর গল্প ও চরিত্রগুলোও খুব ন্যাচারাল।’ সিনেমায় অপি করিমের চরিত্রটির নাম ‘সোমা’। সোমার স্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কলকাতার অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। তার চরিত্রের নাম ‘চন্দন’। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঢাকার সোহেল মন্ডল, কলকাতার পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, চান্দ্রেয়ী ঘোষ প্রমুখ। সিনেমায় সমান্তরাল দুটি গল্পে দেখা যায়, সমাজ থেকে ছিটকে পড়া দুজন মানুষ সোমা ও চন্দন কীভাবে জীবনের কঠিন বাস্তবতায় টিকে থাকার পথ খোঁজে। আবেগ, বাস্তবতা ও জীবনের নির্মম রূপ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পরিচালক। নিজের চরিত্র নিয়ে ঋত্বিক চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের রোজকার যে সিনেমা, সেখানে চন্দন বা চাঁদু চরিত্রটাকে পাওয়া যাবে না। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে চাঁদুর মতো চরিত্রদের সঙ্গে যে প্রতিনিয়ত দেখা হয়, তেমনটাও নয়। কিন্তু মায়ার জঞ্জাল সিনেমায় এই চরিত্রকে মন দিয়ে দেখা হয়েছে। চরিত্রটি যে সমাজের বা শ্রেণির, সেখানে তার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক কী কী সমস্যা তৈরি হয়, সেটা খুব বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।’ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল মন্ডল। তার চরিত্রের বিষয়ে বলেন, ‘আমার চরিত্রটা খুব ইন্টারেস্টিং। নাম সত্য। এটা ছিল আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কাজ এবং আমি মনে করি, খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যেটা আমার পরবর্তী কাজগুলোর ভিত তৈরি করেছে। এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আমি নবাগত অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার বাংলা পুরস্কার পেয়েছি। সব মিলিয়ে আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ কাজটি যে এবার চরকিতে আসছে, এটা খুবই আনন্দের। কারণ, সিনেমাটি যারা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা দেখতে পারবেন।’ নির্মাতা জানান, নগরজীবনের কঠিন বাস্তবতার পটভূমিতে নির্মিত ‘মায়ার জঞ্জাল’ দারিদ্র্য, বেকারত্ব, ভঙ্গুর সম্পর্ক ও নৈতিক আপসের সঙ্গে লড়াই করা কয়েকজন মানুষের গল্প। তাদের জীবন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসা, হতাশা ও টিকে থাকার সংগ্রাম তাদের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করে, উন্মোচন করে দৈনন্দিন জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আবেগ ও সামাজিক জটিলতা। ২০২০ সালে সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। মনোনয়ন পায় এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট বিভাগে। একই বছর মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও ছবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়। সিনেমাটি পরে ইতালির ২১তম এশিয়াটিকা চলচ্চিত্র উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে জুরি পুরস্কার এবং কলকাতার আর্টহাউস এশিয়া চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা দক্ষিণ এশীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করে। ২০২২ সালে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে অংশ নিয়ে সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার পায় ‘মায়ার জঞ্জাল’। এরপর ২০২৪ সালের ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস বাংলায় জেতে সাতটি পুরস্কার। দুই বাংলার প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি।
ওটিটিতে অপি করিমের ‘মায়ার জঞ্জাল’
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত ইয়ামি গৌতম
বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো এক নতুন ও উজ্জ্বল পালক। ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। সেরা অভিনেত্রী বিভাগে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা তিনি গ্রহণ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে। পুরস্কার গ্রহণের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে একপ্রকার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করার চেষ্টা করছেন তিনি। ইয়ামি বলেন, ‘আমি এখনো মুহূর্তটি নিজের ভেতরে ধারণ করার চেষ্টা করছি। যেকোনো শিল্পীর জন্য, যিনি সারাজীবন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন, এটি অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের বিষয়। আর যারা স্বপ্ন নিয়ে এই মায়ানগরীতে আসেন, তাদের সবার পক্ষ থেকেই আমি কথাটা বলছি। জীবন আপনার জন্য কখন কী জমা করে রেখেছে, তা কেউ আগে থেকে বলতে পারে না।’ নিজের কাজের প্রতি একাগ্রতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি কেবল সততা দিয়ে পরিশ্রম করে যান, ভালো কাজ করে যান; কোনো না কোনো দিন তার প্রতিফলন ঘটবেই। আমি ক্যারিয়ারে কতদূর পৌঁছাতে পেরেছি, তা আমার জানা নেই। তবে আমার এই যাত্রায় এখনো অনেক কিছু শেখা বাকি আছে, অনেক কাজ করা বাকি আছে। এমন একটি ঐতিহাসিক জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন বিশাল সম্মান পাওয়া সত্যিই অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’ আদিত্য সুহাস জাম্বালে পরিচালিত ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন আদিত্য ধর, মোনাল থাক্কার ও অর্জুন ধাওয়ান। ছবিতে ইয়ামি গৌতমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রিয়াঙ্কা মণি, স্কন্দ ঠাকুর, অশ্বিনী কাউল, বৈভব ততোয়াদী, অরুণ গোভিল এবং কিরণ কর্মকার।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত ইয়ামি গৌতম
সৌদি আরবের রেড সি চলচ্চিত্র উৎসব স্থগিত
‘লজিস্টিক জটিলতার’ কারণে রেড সি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬ বাতিল করেছে সৌদি আরব। আগামী ৩ থেকে ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল উৎসবটির ষষ্ঠ আসর। তবে সেটি পিছিয়ে ২০২৭ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে রেড সি ফিল্ম ফাউন্ডেশন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিসরের এমন একটি বড় আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকসহ উৎসবের সময় নির্ধারণের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে ষষ্ঠ আসর স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এমন এক সময় ও পরিবেশে উৎসব আয়োজন করা তাদের লক্ষ্য, যাতে রেড সি চলচ্চিত্র উৎসব যে অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত-তা দর্শক, নির্মাতা ও অংশগ্রহণকারীদের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা যায়। আয়োজকদের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটছে। তবে উৎসব স্থগিতের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কোনো যোগসূত্রের কথা জানায়নি ফাউন্ডেশন। আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি বড় আয়োজনের সময় নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। চলমান সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের উপকূলসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। উৎসবের মূল আয়োজন স্থগিত হলেও বছরজুড়ে তাদের অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে রেড সি ফান্ড, রেড সি ল্যাবসসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি। এ ছাড়া ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ঐতিহাসিক জেদ্দার কালচার স্কয়ারে বছরজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্রভিত্তিক আয়োজন শুরু করার কথা জানিয়েছে ফাউন্ডেশন। আয়োজকদের বিবৃতিতে নির্মাতা, অংশীদার, অতিথি ও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে সফলভাবে উৎসব আয়োজনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন রেড সি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। আরববিশ্বসহ বিভিন্ন প্রান্তের চলচ্চিত্র, উদীয়মান নির্মাতা ও চলচ্চিত্রশিল্প-সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৯ সালে উৎসবটির যাত্রা শুরু হলেও প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালে। সৌদি আরবে ৩৫ বছরের নিষেধাজ্ঞার পর বাণিজ্যিক সিনেমা হল চালু হওয়ার দুই বছর পর এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর থেকে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবের অবস্থান শক্তিশালী করার বিভিন্ন উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে রেড সি চলচ্চিত্র উৎসব। প্রতিবছর জেদ্দার ঐতিহাসিক আল-বালাদ এলাকায় বসে এই উৎসবের আসর।
সৌদি আরবের রেড সি চলচ্চিত্র উৎসব স্থগিত
ফাহমিদা নবীর একক গান নিয়ে লন্ডনে বসছে গানের আসর
লন্ডনে বসতে যাচ্ছে ঘরোয়া আবহের গানের আসর ‘এক কাপ চায়ে গানের সুর’। এতে এককভাবে গান শোনাবেন সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর লন্ডনের বেকটনে বসবে এই আয়োজনের তৃতীয় আসর। অনুষ্ঠানটির আয়োজক কিশোয়ার মুনিয়া। আসরটি নিয়ে ফাহমিদা নবী বলেন, ‘এই গানের আয়োজনটা একদমই ভিন্ন রকমের হতে চলেছে।’ আয়োজনের বিশেষত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গল্প ও আড্ডার মতো করে গান করা হবে। লন্ডনের সব বাংলাভাষী দর্শকদের এই গানের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশা করছি, সবাই চমৎকার একটি মুহূর্ত নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।’ আয়োজক কিশোয়ার মুনিয়া জানান, গানের পাশাপাশি গল্প ও আড্ডার ভিন্ন আবহ তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল আকর্ষণ। বড় পরিসরের কনসার্টে শিল্পী ও শ্রোতার মধ্যে এক ধরনের আনুষ্ঠানিক ও মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। সেই দূরত্ব কমিয়ে শিল্পী ও শ্রোতাকে মুখোমুখি বসানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ। গত দুই বছর ধরে আয়োজনটি করে আসছেন মুনিয়া। এবার বসছে এর তৃতীয় আসর। এবারের আয়োজন হবে লন্ডনের বেকটন ফুড বাজারের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত দ্য জুমেরা হলে। ২৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় দর্শকদের জন্য হলের দরজা খুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। আসনভেদে অনুষ্ঠানের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০, ১৫ ও ২৫ পাউন্ড। এদিকে গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফাহমিদা নবী। অন্যের সুর করা গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেও নিয়মিত গান সুর করছেন। তাঁর সুর করা বেশ কয়েকটি গান শিগগিরই প্রকাশিত হবে বলেও জানিয়েছেন এই শিল্পী।

আপডেট : ০২:৪৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মা হতে ‘ডিম্বাণু সংরক্ষণ’ করেছেন অবিবাহিতা রাইমা সেন

আপডেট : ০২:৪৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২০

বিনোদন ডেস্ক।।

ভারতীয় সিনেমার অভিনেত্রী রাইমা সেন ৪৬ বছর বয়সেও অবিবাহিত। তার সমসাময়িক অনেকেই বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন, কেউ কেউ সন্তানের মা-ও হয়েছেন।

ফলে রাইমার বিয়ে নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলেরও শেষ নেই। তবে বিয়ে কিংবা সংসার নিয়ে নিজের ভাবনা এবার খোলামেলাভাবেই জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ভারতীয় একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাইমা সেন বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, এই বয়সে দাঁড়িয়ে বিয়ে করার তাগিদটাও অনুভব করি না। অ্যাটাচমেন্ট নিয়েও চিন্তা হয়।’

একা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে মা মুনমুন সেন কী ভাবেন- এমন প্রশ্নের জবাবেও খানিকটা চমকে দিয়েছেন রাইমা। তার ভাষ্য, আগে মা এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতেন।

তবে এখন দেশ-দুনিয়ার পরিস্থিতি দেখে উল্টো বিয়ে করতে বারণ করেন। মায়ের পরামর্শ, ‘জোর করে কিছু করো না। পরে কখনো একাকিত্বে ভুগলে অনেকগুলো পোষ্য দত্তক নিও।’

মা হতে ‘ডিম্বাণু সংরক্ষণ’ করেছেন অবিবাহিতা রাইমা সেন
বিয়ের প্রতি আগ্রহ না থাকলেও মা হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে রাইমা বলেন, ‘আমি বাচ্চাদের ভীষণ ভালোবাসি। ভয় লাগে, কী জানি সব ম্যানেজ করতে পারব কি না, ভেবে দেখিনি। তবে আজ মনে হচ্ছে না, কাল ইচ্ছে হতেই পারে।’

ভবিষ্যতে মা হওয়ার সেই সম্ভাবনার কথা ভেবেই অনেক আগেই নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রেখেছেন রাইমা। তিনি বলেন, ‘সেই সব সাত-পাঁচ ভেবে অনেক কাল আগেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ (এগ ফ্রিজ) করে রেখেছি।’

মা হতে ‘ডিম্বাণু সংরক্ষণ’ করেছেন অবিবাহিতা রাইমা সেন
তবে মা হওয়ার সঙ্গে বিয়ের সম্পর্কটিকে এক করে দেখতে নারাজ এই অভিনেত্রী। তার কাছে বিষয়টি বেশ পরিষ্কার। রাইমার কথায়, ‘শুধু মা হওয়ার জন্য বিয়ে নিষ্প্রয়োজন।’

এর আগে অন্য একটি সাক্ষাৎকারে ৪৬ বছর বয়সে অবিবাহিত থাকার অভিজ্ঞতা কেমন- জানতে চাওয়া হয়েছিল রাইমার কাছে। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘দারুণ। আমার মনে হয়, চল্লিশের পরই জীবন শুরু হয়। সত্যি বলতে, নিজেকে এখন অনেক বেশি স্বাধীন লাগে।’

রাইমা সেনঅভিনেত্রীটালিউডটালিউড অভিনেত্রী
এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন
কোক স্টুডিও বাংলার নতুন গান ‘মথুরা’: অধরা ভালোবাসার সুর
অধরা ভালোবাসা আর না-পাওয়ার আক্ষেপের গল্প নিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে কোক স্টুডিও বাংলা সিজন ৪-এর পঞ্চম গান ‘মথুরা’। সেমি-ক্লাসিক্যাল ঘরানার গানটির কথা ও সুর করেছেন অঙ্কন কুমার রায়। এতে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন সানজিদা মাহমুদ নন্দিতা। সংগীতায়োজন করেছেন শুভেন্দু দাস শুভ। ‘মথুরা’ এমন দুই মানুষের গল্প বলে, যাদের মন এক হলেও বাস্তব জীবন বয়ে চলে ভিন্ন পথে। ভালোবাসা থাকলেও একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ না পাওয়ার সেই অনুভূতিই গানের মূল বিষয়। রাধা-কৃষ্ণ, রোমিও-জুলিয়েট কিংবা লাইলী-মজনুর মতো প্রেমকাহিনিতে যে অপূর্ণতার গল্প যুগের পর যুগ বেঁচে আছে, ‘মথুরা’তেও উঠে এসেছে সেই আকুলতার অনুভব। জীবনে যে সম্পর্ক পূর্ণতা পায়নি, তার রেশ কীভাবে স্মৃতি ও অনুভূতিতে থেকে যায়, গানটিতে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে। অঙ্কন কুমার রায় ও সানজিদা মাহমুদ নন্দিতার কণ্ঠে গানটিতে ফুটে উঠেছে বিরহ, না-বলা কথা ও অপূর্ণ ভালোবাসার আবেগ। আজ সন্ধ্যা ৭টায় কোক স্টুডিও বাংলার সব ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও অফিসিয়াল চ্যানেলে প্রকাশ হবে ‘মথুরা’।
কোক স্টুডিও বাংলার নতুন গান ‘মথুরা’: অধরা ভালোবাসার সুর
ওটিটিতে অপি করিমের ‘মায়ার জঞ্জাল’
‘মায়ার জঞ্জাল’ দিয়ে ১৯ বছর পর বড় পর্দায় ফিরেছিলেন অপি করিম, সিনেমাটি এবার ওটিটিতে আসছে। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার সিনেমাটি আজ চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে। এটি অপি করিমের দ্বিতীয় সিনেমা। ‘মায়ার জঞ্জাল’ পরিচালনা করেছেন ফড়িং, একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো, ভালোবাসার শহর দিয়ে প্রশংসা কুড়ানো পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী। সিনেমাটির প্রযোজক বাংলাদেশের জসীম আহমেদ। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি ছোটগল্প ‘বিষাক্ত প্রেম’ ও ‘সুবালা’ অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। প্রায় দুই দশক পর সিনেমায় যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে অপি করিম বলেন, ‘প্রথমে লেখাপড়া আর পরে কাজের চাপে সিনেমায় নিয়মিত হতে পারিনি। কিন্তু নির্মাতা ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর কারণে এ সিনেমা করেছিলাম। তার ‘ফড়িং’, ‘ভালোবাসার শহর’ অনেক ভালো লেগেছিল। বিশেষ করে ‘ভালোবাসার শহর’-এ জয়া আপুর অভিনয় এত ভালো লেগেছিল যে আমারও একটু কাজ করার আগ্রহ হয়েছিল। সে আগ্রহ থেকেই কাজটি করা। আরও আগ্রহ বাড়িয়েছেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। আর গল্প ও চরিত্রগুলোও খুব ন্যাচারাল।’ সিনেমায় অপি করিমের চরিত্রটির নাম ‘সোমা’। সোমার স্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কলকাতার অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। তার চরিত্রের নাম ‘চন্দন’। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঢাকার সোহেল মন্ডল, কলকাতার পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, চান্দ্রেয়ী ঘোষ প্রমুখ। সিনেমায় সমান্তরাল দুটি গল্পে দেখা যায়, সমাজ থেকে ছিটকে পড়া দুজন মানুষ সোমা ও চন্দন কীভাবে জীবনের কঠিন বাস্তবতায় টিকে থাকার পথ খোঁজে। আবেগ, বাস্তবতা ও জীবনের নির্মম রূপ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পরিচালক। নিজের চরিত্র নিয়ে ঋত্বিক চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের রোজকার যে সিনেমা, সেখানে চন্দন বা চাঁদু চরিত্রটাকে পাওয়া যাবে না। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে চাঁদুর মতো চরিত্রদের সঙ্গে যে প্রতিনিয়ত দেখা হয়, তেমনটাও নয়। কিন্তু মায়ার জঞ্জাল সিনেমায় এই চরিত্রকে মন দিয়ে দেখা হয়েছে। চরিত্রটি যে সমাজের বা শ্রেণির, সেখানে তার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক কী কী সমস্যা তৈরি হয়, সেটা খুব বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।’ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল মন্ডল। তার চরিত্রের বিষয়ে বলেন, ‘আমার চরিত্রটা খুব ইন্টারেস্টিং। নাম সত্য। এটা ছিল আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কাজ এবং আমি মনে করি, খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যেটা আমার পরবর্তী কাজগুলোর ভিত তৈরি করেছে। এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আমি নবাগত অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার বাংলা পুরস্কার পেয়েছি। সব মিলিয়ে আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ কাজটি যে এবার চরকিতে আসছে, এটা খুবই আনন্দের। কারণ, সিনেমাটি যারা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা দেখতে পারবেন।’ নির্মাতা জানান, নগরজীবনের কঠিন বাস্তবতার পটভূমিতে নির্মিত ‘মায়ার জঞ্জাল’ দারিদ্র্য, বেকারত্ব, ভঙ্গুর সম্পর্ক ও নৈতিক আপসের সঙ্গে লড়াই করা কয়েকজন মানুষের গল্প। তাদের জীবন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসা, হতাশা ও টিকে থাকার সংগ্রাম তাদের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করে, উন্মোচন করে দৈনন্দিন জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আবেগ ও সামাজিক জটিলতা। ২০২০ সালে সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। মনোনয়ন পায় এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট বিভাগে। একই বছর মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও ছবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়। সিনেমাটি পরে ইতালির ২১তম এশিয়াটিকা চলচ্চিত্র উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে জুরি পুরস্কার এবং কলকাতার আর্টহাউস এশিয়া চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা দক্ষিণ এশীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করে। ২০২২ সালে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে অংশ নিয়ে সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার পায় ‘মায়ার জঞ্জাল’। এরপর ২০২৪ সালের ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস বাংলায় জেতে সাতটি পুরস্কার। দুই বাংলার প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি।
ওটিটিতে অপি করিমের ‘মায়ার জঞ্জাল’
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত ইয়ামি গৌতম
বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো এক নতুন ও উজ্জ্বল পালক। ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। সেরা অভিনেত্রী বিভাগে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা তিনি গ্রহণ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে। পুরস্কার গ্রহণের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে একপ্রকার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করার চেষ্টা করছেন তিনি। ইয়ামি বলেন, ‘আমি এখনো মুহূর্তটি নিজের ভেতরে ধারণ করার চেষ্টা করছি। যেকোনো শিল্পীর জন্য, যিনি সারাজীবন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন, এটি অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের বিষয়। আর যারা স্বপ্ন নিয়ে এই মায়ানগরীতে আসেন, তাদের সবার পক্ষ থেকেই আমি কথাটা বলছি। জীবন আপনার জন্য কখন কী জমা করে রেখেছে, তা কেউ আগে থেকে বলতে পারে না।’ নিজের কাজের প্রতি একাগ্রতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি কেবল সততা দিয়ে পরিশ্রম করে যান, ভালো কাজ করে যান; কোনো না কোনো দিন তার প্রতিফলন ঘটবেই। আমি ক্যারিয়ারে কতদূর পৌঁছাতে পেরেছি, তা আমার জানা নেই। তবে আমার এই যাত্রায় এখনো অনেক কিছু শেখা বাকি আছে, অনেক কাজ করা বাকি আছে। এমন একটি ঐতিহাসিক জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন বিশাল সম্মান পাওয়া সত্যিই অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’ আদিত্য সুহাস জাম্বালে পরিচালিত ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন আদিত্য ধর, মোনাল থাক্কার ও অর্জুন ধাওয়ান। ছবিতে ইয়ামি গৌতমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রিয়াঙ্কা মণি, স্কন্দ ঠাকুর, অশ্বিনী কাউল, বৈভব ততোয়াদী, অরুণ গোভিল এবং কিরণ কর্মকার।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত ইয়ামি গৌতম
সৌদি আরবের রেড সি চলচ্চিত্র উৎসব স্থগিত
‘লজিস্টিক জটিলতার’ কারণে রেড সি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬ বাতিল করেছে সৌদি আরব। আগামী ৩ থেকে ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল উৎসবটির ষষ্ঠ আসর। তবে সেটি পিছিয়ে ২০২৭ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে রেড সি ফিল্ম ফাউন্ডেশন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিসরের এমন একটি বড় আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকসহ উৎসবের সময় নির্ধারণের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে ষষ্ঠ আসর স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এমন এক সময় ও পরিবেশে উৎসব আয়োজন করা তাদের লক্ষ্য, যাতে রেড সি চলচ্চিত্র উৎসব যে অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত-তা দর্শক, নির্মাতা ও অংশগ্রহণকারীদের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা যায়। আয়োজকদের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটছে। তবে উৎসব স্থগিতের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কোনো যোগসূত্রের কথা জানায়নি ফাউন্ডেশন। আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি বড় আয়োজনের সময় নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। চলমান সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের উপকূলসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। উৎসবের মূল আয়োজন স্থগিত হলেও বছরজুড়ে তাদের অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে রেড সি ফান্ড, রেড সি ল্যাবসসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি। এ ছাড়া ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ঐতিহাসিক জেদ্দার কালচার স্কয়ারে বছরজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্রভিত্তিক আয়োজন শুরু করার কথা জানিয়েছে ফাউন্ডেশন। আয়োজকদের বিবৃতিতে নির্মাতা, অংশীদার, অতিথি ও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে সফলভাবে উৎসব আয়োজনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন রেড সি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। আরববিশ্বসহ বিভিন্ন প্রান্তের চলচ্চিত্র, উদীয়মান নির্মাতা ও চলচ্চিত্রশিল্প-সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৯ সালে উৎসবটির যাত্রা শুরু হলেও প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালে। সৌদি আরবে ৩৫ বছরের নিষেধাজ্ঞার পর বাণিজ্যিক সিনেমা হল চালু হওয়ার দুই বছর পর এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর থেকে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবের অবস্থান শক্তিশালী করার বিভিন্ন উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে রেড সি চলচ্চিত্র উৎসব। প্রতিবছর জেদ্দার ঐতিহাসিক আল-বালাদ এলাকায় বসে এই উৎসবের আসর।
সৌদি আরবের রেড সি চলচ্চিত্র উৎসব স্থগিত
ফাহমিদা নবীর একক গান নিয়ে লন্ডনে বসছে গানের আসর
লন্ডনে বসতে যাচ্ছে ঘরোয়া আবহের গানের আসর ‘এক কাপ চায়ে গানের সুর’। এতে এককভাবে গান শোনাবেন সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর লন্ডনের বেকটনে বসবে এই আয়োজনের তৃতীয় আসর। অনুষ্ঠানটির আয়োজক কিশোয়ার মুনিয়া। আসরটি নিয়ে ফাহমিদা নবী বলেন, ‘এই গানের আয়োজনটা একদমই ভিন্ন রকমের হতে চলেছে।’ আয়োজনের বিশেষত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গল্প ও আড্ডার মতো করে গান করা হবে। লন্ডনের সব বাংলাভাষী দর্শকদের এই গানের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশা করছি, সবাই চমৎকার একটি মুহূর্ত নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।’ আয়োজক কিশোয়ার মুনিয়া জানান, গানের পাশাপাশি গল্প ও আড্ডার ভিন্ন আবহ তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল আকর্ষণ। বড় পরিসরের কনসার্টে শিল্পী ও শ্রোতার মধ্যে এক ধরনের আনুষ্ঠানিক ও মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। সেই দূরত্ব কমিয়ে শিল্পী ও শ্রোতাকে মুখোমুখি বসানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ। গত দুই বছর ধরে আয়োজনটি করে আসছেন মুনিয়া। এবার বসছে এর তৃতীয় আসর। এবারের আয়োজন হবে লন্ডনের বেকটন ফুড বাজারের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত দ্য জুমেরা হলে। ২৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় দর্শকদের জন্য হলের দরজা খুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। আসনভেদে অনুষ্ঠানের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০, ১৫ ও ২৫ পাউন্ড। এদিকে গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফাহমিদা নবী। অন্যের সুর করা গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেও নিয়মিত গান সুর করছেন। তাঁর সুর করা বেশ কয়েকটি গান শিগগিরই প্রকাশিত হবে বলেও জানিয়েছেন এই শিল্পী।