চুয়াডাঙ্গা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে শ্যালো ইঞ্জিন চুরির টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে, অস্বীকার নেতার

Padma Sangbad
৪৪

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:

পাবনার ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নে এক কৃষকের শ্যালো ইঞ্জিন চুরির ঘটনায় জড়িতদের ছাড়িয়ে নেওয়া এবং বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছলিমপুর ইউনিয়নের ময়েন শাহ নামের এক কৃষকের বাড়ির পাশের জমি থেকে কিছুদিন আগে একটি শ্যালো ইঞ্জিন চুরি হয়। পরবর্তীতে কৃষকের খোঁজাখুঁজি ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রাহুল ও ফরহাদ নামের দুই যুবককে চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়। আটককৃতরা স্থানীয় ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিমের রাজনৈতিক অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, চুরি করা শ্যালো মেশিনটি বিক্রির উদ্দেশ্যে দাশুড়িয়া বাজারে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হলে ওই যুবকরা ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিমকে ফোন করেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেন এবং মেশিন বিক্রির টাকার বড় অংশ নিজে নিয়ে নেন—এমন গুঞ্জন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য খবির উদ্দীনের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত রাহুল ও ফরহাদ চুরির কথা স্বীকার করেন বলে জানান সাবেক মেম্বার খবির উদ্দীন। তিনি বলেন, “বৈঠকে তারা স্বীকার করেছে যে তারাই মেশিনটি চুরি করেছে। তারা আরও জানায়, বিক্রির টাকার মধ্যে মাত্র ১ হাজার টাকা তাদের দেওয়া হয় এবং বাকি ৪ হাজার টাকা ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম নিজে নিয়ে নেন।”

তবে স্থানীয় একটি মহলের দাবি, এলাকায় চালের ডিলারশিপ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে এই চুরির ঘটনায় ওই ছাত্রদল নেতার নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে। পরবর্তীতে স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঈন মণ্ডল এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় এক সালিশি বৈঠকে অভিযুক্তদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভুক্তভোগী মেশিনের মালিক ময়েন শাহ বলেন, “আমি মূলত আমার চুরি যাওয়া মেশিন ও চোরদের পেয়েছি এবং স্থানীয়ভাবে তাদের বিচারও হয়েছে। তারা মেশিন চুরির কথা স্বীকার করেছে। তবে ইব্রাহিমের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বা টাকার ভাগের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এখন রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা চলছে।”

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ইব্রাহিম বলেন, “সম্প্রতি একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মূলত দীর্ঘদিন ধরে চালের ডিলারশিপ ও স্থানীয় একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হলো— সেদিন ঘটনাটি সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। পাবনা যাওয়ার পথে আমাকে ফোন করে জানানো হয় যে, দাশুড়িয়ায় বিপদে পড়ে কয়েকটি ছেলে আটক হয়েছে। তখন আমি শুধু ফোন দিয়ে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত সমাধান করতে বলি। ঘটনাস্থলে আমার উপস্থিতি বা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ বা ডকুমেন্ট কেউ দেখাতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন,পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষ বসে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে নিয়েছে। সেখানে সালিশে ১০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান করা হয়েছে।

আপডেট : ১১:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঈশ্বরদীতে শ্যালো ইঞ্জিন চুরির টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে, অস্বীকার নেতার

আপডেট : ১১:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৪

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:

পাবনার ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নে এক কৃষকের শ্যালো ইঞ্জিন চুরির ঘটনায় জড়িতদের ছাড়িয়ে নেওয়া এবং বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছলিমপুর ইউনিয়নের ময়েন শাহ নামের এক কৃষকের বাড়ির পাশের জমি থেকে কিছুদিন আগে একটি শ্যালো ইঞ্জিন চুরি হয়। পরবর্তীতে কৃষকের খোঁজাখুঁজি ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রাহুল ও ফরহাদ নামের দুই যুবককে চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়। আটককৃতরা স্থানীয় ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিমের রাজনৈতিক অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, চুরি করা শ্যালো মেশিনটি বিক্রির উদ্দেশ্যে দাশুড়িয়া বাজারে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হলে ওই যুবকরা ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিমকে ফোন করেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেন এবং মেশিন বিক্রির টাকার বড় অংশ নিজে নিয়ে নেন—এমন গুঞ্জন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য খবির উদ্দীনের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত রাহুল ও ফরহাদ চুরির কথা স্বীকার করেন বলে জানান সাবেক মেম্বার খবির উদ্দীন। তিনি বলেন, “বৈঠকে তারা স্বীকার করেছে যে তারাই মেশিনটি চুরি করেছে। তারা আরও জানায়, বিক্রির টাকার মধ্যে মাত্র ১ হাজার টাকা তাদের দেওয়া হয় এবং বাকি ৪ হাজার টাকা ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম নিজে নিয়ে নেন।”

তবে স্থানীয় একটি মহলের দাবি, এলাকায় চালের ডিলারশিপ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে এই চুরির ঘটনায় ওই ছাত্রদল নেতার নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে। পরবর্তীতে স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঈন মণ্ডল এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় এক সালিশি বৈঠকে অভিযুক্তদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভুক্তভোগী মেশিনের মালিক ময়েন শাহ বলেন, “আমি মূলত আমার চুরি যাওয়া মেশিন ও চোরদের পেয়েছি এবং স্থানীয়ভাবে তাদের বিচারও হয়েছে। তারা মেশিন চুরির কথা স্বীকার করেছে। তবে ইব্রাহিমের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বা টাকার ভাগের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এখন রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা চলছে।”

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ইব্রাহিম বলেন, “সম্প্রতি একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মূলত দীর্ঘদিন ধরে চালের ডিলারশিপ ও স্থানীয় একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হলো— সেদিন ঘটনাটি সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। পাবনা যাওয়ার পথে আমাকে ফোন করে জানানো হয় যে, দাশুড়িয়ায় বিপদে পড়ে কয়েকটি ছেলে আটক হয়েছে। তখন আমি শুধু ফোন দিয়ে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত সমাধান করতে বলি। ঘটনাস্থলে আমার উপস্থিতি বা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ বা ডকুমেন্ট কেউ দেখাতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন,পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষ বসে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে নিয়েছে। সেখানে সালিশে ১০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান করা হয়েছে।