চুয়াডাঙ্গা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অযৌক্তিক বিলম্বে কঠোর জবাবদিহিতা ও পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

Padma Sangbad
৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক:

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর পাশাপাশি যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা বা বিলম্বের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, একনেক সভায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ও সঠিক বাজেটের মধ্যে যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সভায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে: চলমান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত বাড়তি পরামর্শক ব্যয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনতে হবে। কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে এর নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং বিলম্বের জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে। শুধু প্রথাগত বা প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পুরোনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, সম্ভাব্যতা যাচাই অত্যন্ত নিখুঁত ও কারিগরি গভীরতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধি বা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা তৈরি না হয়।
সভায় যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত কিছু অনিয়মের সুনির্দিষ্ট বিষয় সামনে আসে। জানা যায়, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা সময়মতো ডিপিপিতে প্রতিফলিত হয়নি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতিমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিয়েছে এবং আরও চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন খুব শীঘ্রই জমা দেওয়া হবে। এই প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে তা পাঠানো হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যকার বৈষম্য কমিয়ে আনতে সরকারের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি জানান, বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি বড় গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এছাড়া দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল শাসন ব্যবস্থা জোরদার করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগের সমন্বয় করা হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট’ সংক্রান্ত আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ব্যবস্থার সঠিক সমন্বয় ঘটলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা বিতরণে অনিয়ম রোধ, মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো এবং ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল তদারকি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।।

আপডেট : ১১:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অযৌক্তিক বিলম্বে কঠোর জবাবদিহিতা ও পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

আপডেট : ১১:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক:

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর পাশাপাশি যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা বা বিলম্বের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, একনেক সভায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ও সঠিক বাজেটের মধ্যে যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সভায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে: চলমান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত বাড়তি পরামর্শক ব্যয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনতে হবে। কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে এর নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং বিলম্বের জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে। শুধু প্রথাগত বা প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পুরোনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, সম্ভাব্যতা যাচাই অত্যন্ত নিখুঁত ও কারিগরি গভীরতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধি বা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা তৈরি না হয়।
সভায় যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত কিছু অনিয়মের সুনির্দিষ্ট বিষয় সামনে আসে। জানা যায়, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা সময়মতো ডিপিপিতে প্রতিফলিত হয়নি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতিমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিয়েছে এবং আরও চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন খুব শীঘ্রই জমা দেওয়া হবে। এই প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে তা পাঠানো হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যকার বৈষম্য কমিয়ে আনতে সরকারের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি জানান, বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি বড় গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এছাড়া দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল শাসন ব্যবস্থা জোরদার করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগের সমন্বয় করা হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট’ সংক্রান্ত আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ব্যবস্থার সঠিক সমন্বয় ঘটলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা বিতরণে অনিয়ম রোধ, মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো এবং ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল তদারকি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।।