চুয়াডাঙ্গা ১২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে স্কেলে বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন, বাতিল হচ্ছে বিশেষ প্রণোদনা

Padma Sangbad
৪১

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক।। নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০২৪ সালে চালু করা বিশেষ প্রণোদনা আর থাকছে না। মূল বেতনের ওপর প্রথমে ৫ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশ হারে দেওয়া এই প্রণোদনা নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রেডভেদে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ রাখা হলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে তা কমবে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ রাখা হচ্ছে। গ্রেড-৫-এ ৪ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও গ্রেড-৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

ফলে উচ্চ বেতনভোগী কর্মকর্তাদের মূল বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়লেও প্রতি বছর বেতন বৃদ্ধির হার কম থাকবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইনক্রিমেন্ট নীতি অনুসরণের প্রস্তাব রয়েছে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হবে। অন্যদিকে গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

নতুন পে স্কেলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ঢাকার সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ায় প্রকৃত অর্থে বাড়িভাড়ার টাকার পরিমাণ বাড়তে পারে।

চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও নতুন প্রস্তাব রয়েছে। ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সী সরকারি চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সীরা ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। পেনশনভোগীদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সীরা ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীরা ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম পরিবর্তন হিসেবে সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬ অনুমোদন করা হয়।

সরকারি হিসাবে, নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।

নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন থেকে আপনার সংবাদ লেখাগুলোতে স্টার চিহ্ন ও হ্যাশ চিহ্ন ব্যবহার করব না।

আপডেট : ১২:২০:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন পে স্কেলে বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন, বাতিল হচ্ছে বিশেষ প্রণোদনা

আপডেট : ১২:২০:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪১

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক।। নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০২৪ সালে চালু করা বিশেষ প্রণোদনা আর থাকছে না। মূল বেতনের ওপর প্রথমে ৫ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশ হারে দেওয়া এই প্রণোদনা নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রেডভেদে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ রাখা হলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে তা কমবে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ রাখা হচ্ছে। গ্রেড-৫-এ ৪ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও গ্রেড-৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

ফলে উচ্চ বেতনভোগী কর্মকর্তাদের মূল বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়লেও প্রতি বছর বেতন বৃদ্ধির হার কম থাকবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইনক্রিমেন্ট নীতি অনুসরণের প্রস্তাব রয়েছে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হবে। অন্যদিকে গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

নতুন পে স্কেলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ঢাকার সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ায় প্রকৃত অর্থে বাড়িভাড়ার টাকার পরিমাণ বাড়তে পারে।

চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও নতুন প্রস্তাব রয়েছে। ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সী সরকারি চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সীরা ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। পেনশনভোগীদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সীরা ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীরা ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম পরিবর্তন হিসেবে সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬ অনুমোদন করা হয়।

সরকারি হিসাবে, নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।

নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন থেকে আপনার সংবাদ লেখাগুলোতে স্টার চিহ্ন ও হ্যাশ চিহ্ন ব্যবহার করব না।