চুয়াডাঙ্গায় তিন দিনের ব্যবধানে আরও একটি আহত গন্ধগোকুল উদ্ধার

তিতুদহ প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গায় মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আবারও আহত অবস্থায় একটি বিপন্ন প্রজাতির গন্ধগোকুল উদ্ধার করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ। রবিবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রাম থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গন্ধগোকুলের একটি দল প্রায়ই লোকালয়ে এসে বাড়ি থেকে কবুতর ও মুরগির বাচ্চা ধরে নিয়ে যায়। ঘটনার দিন খাবারের সন্ধানে প্রাণীটি লোকালয়ে এলে কয়েকজন শিশু ও বাড়ির নারী আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে আঘাত করেন। পরে গ্রামের যুবকরা আহত প্রাণীটিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে সংগঠনটিকে খবর দেন। খবর পেয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
সংগঠনের সভাপতি ও বড়শলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু জানান, উদ্ধার হওয়া প্রাণীটি ‘এশিয়ান পাম সিভেট’, যা স্থানীয়ভাবে তাল খাটাশ, ভাম বা খাটাশ নামে পরিচিত। বর্তমানে আবাসস্থল ও খাদ্যসংকটে পড়ে এরা লোকালয়ে চলে আসছে। মাঠে সংরক্ষিত পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারণে এদের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত বাড়ছে।
খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা স্থানীয়দের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে সচেতন করেন। ভেটেরিনারি সার্জন নাহিদ ইসলামের পরামর্শে সংগঠনের সদস্য ও পল্লী প্রাণী চিকিৎসক হাসানুজ্জামান রিগান আহত গন্ধগোকুলটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। বর্তমানে প্রাণীটির শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে এর বেঁচে থাকা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গায় আরও একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ গন্ধগোকুল আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে সেটির মৃত্যু হয়েছিল। তিন দিনের ব্যবধানে একই প্রজাতির আরেকটি প্রাণী আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।












