চুয়াডাঙ্গা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নান্দনিক সৌন্ধর্য নিয়ে আসে বর্ষা!

Padma Sangbad
৮৩

‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান/আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবেগময় এই গান মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেয়, উচ্ছ্বসিত ও উজ্জীবিত করে। ঋতু পরিক্রমায় গ্রীস্মের দীর্ঘ তাপদাহের মধ্যেই এলো বর্ষা। বর্ষা মানেই আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা। বর্ষা মানেই সময়ে-অসময়ে বৃষ্টি। বর্ষা মানেই নাগরিক জীবনে স্বস্তি-শান্তি। জনজীবনে স্বস্তির পরশ নিয়েই আসে বর্ষা। বর্ষার প্রকৃতি ও পরিবেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে মানব জীবনে।
মধুমাস খ্যাত জ্যৈষ্ঠ পেরিয়ে আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন। বর্ষাকাল শুরু। বসন্তকে ঋতুরাজ বলা হলেও নান্দনিক সৌন্ধর্য নিয়ে আসে বর্ষাকাল। বর্ষায় চারপাশ মুখরিত থাকে। গাছে গাছে শোভা পায় কেয়া, কদম, বকুল, কামিনী, দোলনচাঁপা, বেলি, মাধবিলতা, অলকানন্দসহ নানান রঙের বাহারি ফুল। প্রকৃতিতে বর্ষা আসে অন্যরকম সজিবতা নিয়ে। এরই মাঝে গাছে গাছে ফুটেছে বর্ষার স্মারক কদম ফুল। কদম ফুলের সাথে বর্ষার একটা মেলবন্ধন রয়েছে।
বর্ষা বিহীন বাংলাদেশ কল্পনাও করা যায় না। বর্ষা ঋতু তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য, স্বতন্ত্র ও অন্যতম। কবি-সাহিত্যিকদের কাছে বর্ষাকাল অত্যন্ত আবেগময়, কাব্যময় ও প্রেমময়। রহস্যময়ী বর্ষার রূপ ও বৈচিত্রে রয়েছে নীরব কোমলতা-মাদকতা। আকাশ-প্রকৃতির গভীর মিতালিতে শিল্প-সাহিত্যের উপকরণ খুঁজে ফেরেন শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকরা। তারা এই অনুষঙ্গ থেকে আবহমানকাল ধরে অনুপ্রাণিত ও স্পন্দিত হয়ে আসছেন। সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধভারে বর্ষার অপরূপ রূপের বর্ণনা চিরকালীন-অমলীন।
‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে, তিল ঠাঁই আর নাহিরে/ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আষাঢ়’ কবিতায়ও ফুটে উঠেছে বর্ষার প্রথম মাস আষাঢ়ের ছন্দময় সাহিত্য-কথামালা। ওই কবিতায় প্রস্ফুটিত হয়েছে গ্রাম-বাংলার বর্ষার রূপ-লাবণ্য। বর্ষার শীতল আবহাওয়ায় গাছে গাছে কদম ফুলের সমারোহ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। কদম ফুল যেন স্বাগত জানিয়েছে আষাঢ়কে।
আষাঢ় এসেই বর্ষার মাধ্যমে প্রকৃতিকে বদলে দেয়। চারদিকের পরিবেশে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। বর্ষা রিমঝিম বৃষ্টি ঝরিয়ে প্রকৃতিকে সজীব-সতেজ করে তোলে। বর্ষার মুষলধারার বৃষ্টিতে ভেজার জন্য দুরন্তপনায় মেতে ওঠে শিশু-কিশোরের দল। তাপদাহে চৌচির মাঠ-ঘাট, শুকনো খাল-বিল এবং নিস্প্রাণ বনবিথিকা সজিবতায় জেগে উঠবে এই বর্ষায়।
যদিও নানান কারণে প্রকৃতি দিন দিন রুক্ষ ও রুদ্র হয়ে উঠছে। ষঢ়ঋতু হারাচ্ছে তার স্বকীয় বৈশিষ্ট। তবুও ষঢ়ঋতুর বাংলাদেশে প্রকৃতিতে বিরাজ করে অপার সৌন্ধর্য। ফুলে, ফলে আর সবুজের স্নিগ্ধতায় প্রস্ফুটিত হয় রূপসী বাংলা।

আপডেট : ১২:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

নান্দনিক সৌন্ধর্য নিয়ে আসে বর্ষা!

আপডেট : ১২:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
৮৩

‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান/আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবেগময় এই গান মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেয়, উচ্ছ্বসিত ও উজ্জীবিত করে। ঋতু পরিক্রমায় গ্রীস্মের দীর্ঘ তাপদাহের মধ্যেই এলো বর্ষা। বর্ষা মানেই আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা। বর্ষা মানেই সময়ে-অসময়ে বৃষ্টি। বর্ষা মানেই নাগরিক জীবনে স্বস্তি-শান্তি। জনজীবনে স্বস্তির পরশ নিয়েই আসে বর্ষা। বর্ষার প্রকৃতি ও পরিবেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে মানব জীবনে।
মধুমাস খ্যাত জ্যৈষ্ঠ পেরিয়ে আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন। বর্ষাকাল শুরু। বসন্তকে ঋতুরাজ বলা হলেও নান্দনিক সৌন্ধর্য নিয়ে আসে বর্ষাকাল। বর্ষায় চারপাশ মুখরিত থাকে। গাছে গাছে শোভা পায় কেয়া, কদম, বকুল, কামিনী, দোলনচাঁপা, বেলি, মাধবিলতা, অলকানন্দসহ নানান রঙের বাহারি ফুল। প্রকৃতিতে বর্ষা আসে অন্যরকম সজিবতা নিয়ে। এরই মাঝে গাছে গাছে ফুটেছে বর্ষার স্মারক কদম ফুল। কদম ফুলের সাথে বর্ষার একটা মেলবন্ধন রয়েছে।
বর্ষা বিহীন বাংলাদেশ কল্পনাও করা যায় না। বর্ষা ঋতু তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য, স্বতন্ত্র ও অন্যতম। কবি-সাহিত্যিকদের কাছে বর্ষাকাল অত্যন্ত আবেগময়, কাব্যময় ও প্রেমময়। রহস্যময়ী বর্ষার রূপ ও বৈচিত্রে রয়েছে নীরব কোমলতা-মাদকতা। আকাশ-প্রকৃতির গভীর মিতালিতে শিল্প-সাহিত্যের উপকরণ খুঁজে ফেরেন শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকরা। তারা এই অনুষঙ্গ থেকে আবহমানকাল ধরে অনুপ্রাণিত ও স্পন্দিত হয়ে আসছেন। সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধভারে বর্ষার অপরূপ রূপের বর্ণনা চিরকালীন-অমলীন।
‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে, তিল ঠাঁই আর নাহিরে/ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আষাঢ়’ কবিতায়ও ফুটে উঠেছে বর্ষার প্রথম মাস আষাঢ়ের ছন্দময় সাহিত্য-কথামালা। ওই কবিতায় প্রস্ফুটিত হয়েছে গ্রাম-বাংলার বর্ষার রূপ-লাবণ্য। বর্ষার শীতল আবহাওয়ায় গাছে গাছে কদম ফুলের সমারোহ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। কদম ফুল যেন স্বাগত জানিয়েছে আষাঢ়কে।
আষাঢ় এসেই বর্ষার মাধ্যমে প্রকৃতিকে বদলে দেয়। চারদিকের পরিবেশে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। বর্ষা রিমঝিম বৃষ্টি ঝরিয়ে প্রকৃতিকে সজীব-সতেজ করে তোলে। বর্ষার মুষলধারার বৃষ্টিতে ভেজার জন্য দুরন্তপনায় মেতে ওঠে শিশু-কিশোরের দল। তাপদাহে চৌচির মাঠ-ঘাট, শুকনো খাল-বিল এবং নিস্প্রাণ বনবিথিকা সজিবতায় জেগে উঠবে এই বর্ষায়।
যদিও নানান কারণে প্রকৃতি দিন দিন রুক্ষ ও রুদ্র হয়ে উঠছে। ষঢ়ঋতু হারাচ্ছে তার স্বকীয় বৈশিষ্ট। তবুও ষঢ়ঋতুর বাংলাদেশে প্রকৃতিতে বিরাজ করে অপার সৌন্ধর্য। ফুলে, ফলে আর সবুজের স্নিগ্ধতায় প্রস্ফুটিত হয় রূপসী বাংলা।