ফাইজারের টিকা হালাল না হারাম: ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বিতর্ক

0
5

অনলাইন ডেস্ক।।
করোনাভাইরাসের ইতোমধ্যে বিশ্বের ৬ কোটি ৮৫ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আর এই ভাইরাসের সংক্রমণে ১৫ লাখ ৬২ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে চূড়ান্তভাবে ফাইজারের টিকা মানব দেহে প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে এই টিকা হালাল না হারাম? এই নিয়ে লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিতর্ক চলছে।

জানা গেছে, পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি ও মুসলিম অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনী, নিউহ্যাম, বার্কিং, ডেগেনহামে কোভিড-১৯ নিয়ে আলাদা ভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম করছে বাংলা হাউজিং এসোসিয়েশন ও চ্যারিটি সংস্থা ইষ্ট হ্যান্ডস।
দু’টি সংস্থার কাছেই গত কয়েকদিন ধরে মুসলিম বাংলাদেশিদের অনেকের কাছ থেকে একটি প্রশ্ন এসেছে ব্রিটেন যে করোনা ভ্যাকসিন ফাইজারের অনুমোদন দিয়েছে সেটা হালাল নাকি হারাম?

ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক চ্যারিটি সংস্থা ইষ্ট হ্যান্ডসের চেয়ারম্যান নবাব উদ্দিন বলেন, পূর্ব লন্ডনের শ্যাডওয়েলে ইষ্ট হ্যান্ডসের ফুড ব্যাংকে প্রতিদিনই আমাদের ভলান্টিয়াররা মানুষের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। মানুষ জানতে চান কি কি উপকরণ দেয়া হয়েছে ভ্যাকসিনে? এর মধ্যে হারাম কিছু আছে কিনা? অনেকে জানতে চান এই ভ্যাকসিন ট্রায়ালে কোনো বাংলাদেশি অংশ নিয়েছিলেন কিনা?

এরকম প্রশ্ন গত কয়েকদিন ধরে লন্ডনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের অফিসেও এসেছে। মাইনুল্লাহ বলে ৭০ বছরের বয়স্ক একজন জানান, তিনি ভ্যাকসিন নিতে চান না। কারণ তিনি শুনেছেন, এই ভ্যাকসিন নিলে শরীরে নানা প্রতিক্রিয়া হবে। ভ্যাকসিন হালাল নাকি হারাম এমন প্রশ্নও এসেছে বেশ কয়েকটি। যারা প্রশ্ন করেছেন তাদের বয়স ৪০ থেকে ৭০ বছর।

ভ্যাকসিন নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে ব্রিটিশ ইসলামিক মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিমা) তাদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত ব্রিটেনে যে ফাইজার ভ্যাকসিনের অনুমতি দিয়েছে সেটিতে কোনো ধরনের পশুর চর্বি বা অংশ নেই।

তারা আরও উল্লেখ করেন, ভ্যাকসিনটি স্বতন্ত্র মেডিসিন রেগুলেটরি বডি দ্বারা পরীক্ষিত তাই এটা নিশ্চিত যে সাধারণ অন্যান্য ভ্যাকসিনে যেমন সামান্য জর আসে তেমন ছাড়া কোন বড় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।
এ প্রসঙ্গে ইসলামিক স্কলার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুর রহমান মাদানী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এই টিকায় খারাপ কিছু আছে বলে জানা নেই। যদিও কিছু থেকে থাকে তারপরও বিকল্প না থাকায় জীবন বাঁচানোর তাগিদে এটা জায়েজ।

যেমন ফ্লু জাবে জেলাটিন আছে বলে আমরা জানি সেটা এনিমেল ফ্যাট থেকে কিনা সেটা এখনও শিওর না কিন্তু আমাদের বয়স্ক অনেকের জীবন বাঁচাতে এটা ব্যবহারে ক্ষতি নেই।

রেফারেন্স হিসাবে বলা যায়, একবার সাহাবীদের জন্ডিস হওয়ার পর আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) উটের দুধের সাথে খুব অল্প পরিমাণ উঠের পেশাব মিশ্রিত করে খেতে বলেন।

এখানে উটের দুধ হালাল, আর পেশাব হারাম। একবার যেহেতু আমাদের নবী এটা করার অনুমতি দিয়েছেন তাই এটা নেয়া যায়।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here