April 20, 2024, 7:12 pm

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাবার পিস্তল নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করলেন মেয়রপুত্র

বাবার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র অবৈধভাবে প্রদর্শন করার অভিযোগে পাবনার ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান মাজেদের ছেলে কামরুল হাসান সুজয়কে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। এ সময় লাইসেন্সকৃত পিস্তলটিও জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর পৌর মুক্তমঞ্চের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক কামরুল হাসান সুজয় ফরিদপুর পৌর সদরের রাউত নাগদাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। তার বাবা কামরুজ্জামান মাজেদ ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মেয়রের ছেলে কামরুল হাসান সুজয়ের সঙ্গে উপজেলার পুঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছে। আজ দুপর দেড়টার দিকে সাজেদুল উপজেলা পরিষদের পাশে এলে কামরুল লোকজন নিয়ে তার ওপর চড়াও হন। এ সময় সাজেদুল পালানোর চেষ্টা করলে কামরুল পিস্তল নিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। এ সময় সাজেদুলের লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে কামরুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পুঙ্গুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশ হয়। সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পৌর মেয়র উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়র কামরুজ্জামানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় তার। এ ঘটনায় সাজেদুলের ওপর ক্ষিপ্ত হন মেয়রের ছেলে কামরুল।

পুঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম বলেন, মেয়রের ছেলে কামরুল হাসান সুজয় এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। কথায় কথায় মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শন করে। মেয়র বাবার ক্ষমতার বলে পুরো উপজেলায় অপকর্ম করে বেড়ায়। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

ফরিদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পূর্ববিরোধের জেরে পৌর মুক্তমঞ্চের সামনে প্রতিপক্ষকে বাবার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন মেয়রপুত্র কামরুল হাসান সজয়। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়াজেদ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান মাজেদ বলেন, বিষয়টি শোনার পর থানায় আসছি। ঘটনাটা জানার চেষ্টা করছি। এখন ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও সংবাদ :