March 4, 2024, 8:54 am

টিপকাণ্ড: কনস্টেবলের সঙ্গে ছিলেন না স্ত্রী

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় টিপ পরা নিয়ে এক শিক্ষিকাকে কটূক্তির অভিযোগে কনস্টেবল নাজমুল তারেককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনা তদন্তে এরই মধ্যে গঠন করা হয়েছে কমিটিও। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত কনস্টেবল নাজমুল তারেকের ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে।

দুই বছর আগেও তার জীবনাচরণ ভিন্ন ছিলো। তিনি গান-বাজনায় মেতে থাকতেন। তবে সম্প্রতি তিনি মুখে বড় দাড়ি রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। অনুমতি নিয়ে বড় দাড়ি রাখেন। এছাড়া সাময়িক বরখাস্ত এ কনস্টেবল চাকরিজীবনে বেপরোয়া আচরণের জন্য তিনবার শাস্তির মুখে পড়েছেন। যার মধ্যে দু’বার গুরুদণ্ড এবং একবার লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষিকাকে হেনস্তার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এবার তার গুরুদণ্ড হলে আগামী পাঁচ-ছয় বছর পদোন্নতি হবে না। একই সঙ্গে বেতন কর্তন এবং ইনক্রিমেন্ট আটকে যেতে পারে।

এদিকে পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেককে চিহ্নিত করার পর তাকে দীর্ঘসময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওইদিনের ঘটনা বর্ণনা করেছেন কনস্টেবল নাজমুল তারেক। তবে তার বর্ণনার সঙ্গে সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পড়া দৃশ্য মিলছে না।

নাজমুল দাবি করেছেন, সেদিন বাসা থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন নাজমুল। সঙ্গে তার স্ত্রীকেও নিয়ে যান তিনি। তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ব্যাপক যানজটের কারণে ফার্মগেটের পূর্বপাশ দিয়ে না গিয়ে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে যান তিনি। মোটরসাইকেলে বসা তার স্ত্রীর পা ওই নারী শিক্ষিকার গায়ে লাগে। পরে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়।

তবে সাময়িক বরখাস্ত কনস্টেবল নাজমুলের জবাবে ঘটনার পূর্ণ বর্ণনা শুনে তদন্ত কর্মকর্তারা শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁও জনতা হাউজিংয়ের বাসা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন। তবে তাতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে কোনো সময়ই তার স্ত্রী ছিলেন না।

ঘটনার পর থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে পুলিশ। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সব সময় নজর রাখছেন।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচানর জন্ম দিয়েছে। ফলে পুলিশও বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটিও করা হয়েছে। তদন্ত নিয়ে শতভাগ বিশ্বাসযোগ্যতা যেন থাকে এবং গাফিলতির অভিযোগ না ওঠে, সেজন্য ওই অভিযুক্ত কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তে আন্তরিক এবং গাফিলতির সুযোগ নেই, এটা এরই মধ্যে প্রমাণিত।

তিনি বলেন, তবে যিনি ঘটনা সম্পর্কে অভিযোগ করেছেন, তাকে প্রমাণ করতে হবে। আমাদের ইনকোয়ারি কমিটি কাজ করছে। পুলিশ প্রটেকশন বিভাগের একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) এবং তেজগাঁও বিভাগের একজন সহকারী কমিশনারকে (এসি) এ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলকে চিহ্নিত ও সাময়িক বরখাস্ত করা এবং তদন্ত কমিটি করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা ড. লতা সমাদ্দার।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার পর লিখিতভাবে থানায় অভিযোগ করেছিলাম। এরপর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমার পাশে থাকার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকেও ধন্যবাদ। অভিযোগের পর তারা দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছেন এবং চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।

মোটরসাইকেলে বা ঘটনাস্থলে ওই কনস্টেবলের স্ত্রী থাকার যে কথাটি আসছে, তা মিথ্যা বলে দাবি করেন ড. লতা সমাদ্দার।

তিনি বলেন, প্রথম থেকেই আমি বলে আসছি, ঘটনার সময় উনি (অভিযুক্ত পুলিশ) ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। এমনকি বাগবিতণ্ডার ঘটনা সমাধানে আশপাশের কেউ এগিয়েও আসেননি। তার স্ত্রীর উপস্থিত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর এবং হাস্যকর।

লতা সমাদ্দার বলেন, পুলিশ বাহিনীর ওপর সম্পূর্ণ আস্থাশীল। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সুষ্ঠু বিচার করবে বলে বিশ্বাস করি। জানতে পেরেছি, ওই পুলিশ সদ্যস্যের বাসা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত কোনো নারী তার মোটরসাইকেলে ছিলেন না। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তিনি বলেন, সেদিন ঘটনাটি ঘটেছিলো সম্পূর্ণ অতর্কিত। আমি পুরোপুরি অপ্রস্তুত ছিলাম। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে, সেটাই প্রত্যাশা করছি।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও সংবাদ :