March 1, 2024, 5:00 am

‌বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সৃষ্টি সৃজনশীলতার অবমূল্যায়ন,শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি হুমকির মুখে!

।। উপলব্ধির পাতা থেকে।।
‌বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সৃষ্টি সৃজনশীলতার অবমূল্যায়ন,শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি হুমকির মুখে!

রাশিদা-য়ে আশরার,কবি ও সাহিত্য সম্পাদক, দৈনিক পদ্মা সংবাদ।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ, বিস্তর তফাৎ ভাবতে অবাক লাগে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ তলাবিহীন ঝুড়িটা আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ!
উন্নয়নের ধারায় দেশের উন্নতি হলেও প্রসার ঘটেনি শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গন- সৃষ্টি সৃজনশীলতা এবং মেধা বিকাশের জায়গাটিতে!কারণ কবি-সাহিত্যিকদের ও সৃজনশীল কাজের সেভাবে মূল্যায়ন হয় না বিশেষ করে বেঁচে থাকতে, আর প্রতিভার মূল্যায়ন না হলে মানুষ অনুপ্রাণিত হতে পারে না। যার কারণে দিন দিন ধ্বংসের মুখে চলচ্চিত্র- নাট্যাঙ্গন এমনকি বড় বড় কবি সাহিত্যিক গড়ে উঠছে না সেভাবে আর। অথচ যে জাতি শিল্প-সংস্কৃতিতে যত উন্নত- সে জাতি তত সফলতার সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থান করে। তথ্য- প্রযুক্তি- বিজ্ঞান ও কৃষি, সেইসঙ্গে শিল্প- সাহিত্য- সৃষ্টি এবং সৃজনশীলতা সবকিছু মিলেই মানুষের প্রাপ্তি-পূর্ণতা!

৭০/৮০ দশকে রেডিও বেতার ও বিটিভি ছিল একটি মাত্র চ্যানেল, বিনোদন বলতে সিনেমা হলগুলো ছিল একমাত্র সরব! বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৭০, ৮০, ৯০ দশকে বেশির ভাগ চলচ্চিত্রের কাহিনী ছিল বাস্তব মুখী ও বিষয়ভিত্তিক, পারিবারিক-সামাজিক একশন ধর্মী বাণিজ্যিক ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র গুলো ছিল কালজয়ী যা এখনও জনপ্রিয় সর্বসাধারণ বিদিত।

৭০ দশকে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র, সংগ্রামী গান, নাটক, প্রামাণ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে যা বাংলার দামাল ছেলে ও বীরাঙ্গনাদের চেতনায় জাগ্রত ও উদ্বুদ্ধ করতে প্রেরণা যুগিয়েছে। সর্বোপরি ৭-ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক কালজয়ী ভাষণ বাঙালি জাতিকে হ্যামি লিওনের বাঁশিওয়ালার মত, ফলশ্রুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানে সেনাবাহিনী দের বিরুদ্ধে লড়াই করতে
বাংলার দামাল ছেলেরা! “যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ো শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে, রক্ত যখন দিয়েছি আরও রক্ত দেব- বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো- আমরা যখন রক্ত দিতে শিখেছি আমাদের আর কেউ দমায়ে রাখতে পারবা না! ইনশাআল্লাহ! সেই রেসকোর্স ময়দান যেন মহাকালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয়…
বঙ্গবন্ধু তুমি এসেছিলে তাই আজও বাংলায় কথা বলি;
বাংলা ভাষায় লিখি-পড়ি মনের ভাব প্রকাশ করি!
তুমি ক্ষণজন্মা পথিক এক হে বাঙালির সূর্যসন্তান!
রবে তুমি যুগ যুগান্তর- মন মনান্তরে হৃদয়ে বহমান…
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান!

বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ইসলামী ফাউন্ডেশন এখনো সগর্বে একুশের বইমেলায় প্রথম সারিতে প্রথম রূপে অবস্থিত, প্রথমে ঢুকেই আমার খোঁজ থাকে ইসলামী ফাউন্ডেশনে কি কি নতুন বই পাওয়া যাবে, মন ছুটে যায় বারবার যেন অস্তিত্ব পানে… এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা বই হল মানুষের পরম বন্ধু!

এই পৃথিবী দুদিনের খেলাঘর… আসলাম- খেলাম, জয় করলাম, চলেও গেলাম তা যেন উদ্দেশ্য না হয় জীবনের! কিছু যেন আমরা দিয়েও যেতে পারি যা দিয়ে মনে রাখতে পারে মানুষ, তা দিয়ে উপকৃত হয়ভবিষ্যৎ প্রজন্ম!

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ- প্রকৃতির আলো-আবহাওয়াই আমি বড় হয়েছি তার কাছে আমিও আমারা ঋণী,
তাই দেশের একজন সচেতন সুনাগরিক হিসাবে কমবেশী সবাই কে কিছু অবদান রেখে যাওয়া উচিত এই হওয়া উচিত জীবনের ব্রত এবং জীবনের জয়গান!

বাংলাদেশ একেবারে যে ভাল কাজ হচ্ছে না তা বলবো না তবে হাতে গোনা- ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসারে তা একেবারেই কম। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বর্তমানে বাংলাদেশের নাটক ও চলচ্চিত্রে যেমন কাহিনী গত দুর্বলতা তেমনি শিল্প বা শৈল্পিকতা, চিত্রায়ন ও অভিনয় শৈলীর অদূরদর্শিতা লক্ষ্য করা যায় হতাশাজনকভাবে! পরিচ্ছন্ন ভাবনা, মানবতা, মনুষ্যত্ব- বিবেক জাগ্রত না হলে সৃষ্টি ও সৃজনশীলতার এই জায়গাগুলিতে কখনোই অসাধারণ কাজ করা সম্ভব নয়! সাধারণভাবে বললে সবার আগে হওয়া দরকার সৎ ও ভালো মানুষ হওয়া সেইসঙ্গে কর্মনিষ্ঠা, সততা! এখন মানুষের সব কিছুতেই খুব তাড়াহুড়া করার প্রবণতা, অল্পতেই জয় করতে চাই পুরা বিশ্ব, নিজেকে উজাড় করে না দিতে পারলে কোনো কাজই শতভাগ সফলতা সম্ভব নয়। আমরা মানুষ তাই ভুল থাকবে তবে ভুল স্বীকার বা তা থেকে বেরিয়ে আসার প্রবণতা থাকা প্রয়োজন।

চলচ্চিত্র মানুষের মেধা- মনন বিকাশের ও বিনোদনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মাধ্যম-কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে! বিশ্বায়নের এই যুগে ঘরে বসে এখন চাইলে যে কোন সিনেমা, নাটক, গান, সংবাদ চোখ বুলিয়েই দেখা যায় আঙুলের স্পর্শে। কাজেই মানসম্মত অনুষ্ঠান ছাড়া এখন দর্শক-শ্রোতা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা সম্ভব নয়, দেশের জন্য ও মঙ্গল জনক নয়। যখন বাংলাদেশি অনুষ্ঠানগুলো হাস্য রসাত্মক ও দুর্বল মানের তখন মানুষ অবশ্যই অনুসন্ধান করবে বাইরের অনুষ্ঠানের প্রতি। যারা এক্ষেত্রে রয়েছেন তাদের একটা কথা মাথায় রাখা প্রয়োজন, আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ও কাজ করার অনুপ্রেরণা থাকতে হবে।বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে চেতনাবোধ গড়ে তুলতে হবে যাতে করে আমরা এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে ভালো ভালো অনুষ্ঠান আবার উপহার দিতে পারি যা হবে কাল জয়ী। জীবন গতিশীল… আশা রাখি আবার সব ঠিক হয়ে যাবে একদিন,স্বাধীনতার সুফল বয়ে আনবে প্রতিটি ঘরে… ইনশাআল্লাহ।
২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও সংবাদ :