চুয়াডাঙ্গা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একদিনে ছয় জেলায় বজ্রাঘাতে ঝরল ১২ প্রাণ

Padma Sangbad
৮০

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
শনিবার দুপুরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে বজ্রপাতের তাণ্ডবে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ — এই ছয় জেলায় ছড়িয়ে পড়া এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জ, যেখানে পাঁচজনের প্রাণ যায়।

জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলায় মোট পাঁচজন বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে বোরো ধান কাটতে গিয়ে নূর জামাল (২৬) ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং তোফাজ্জল হোসেন (২২) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

ধর্মপাশার টগার হাওরে চাচার সঙ্গে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী হবিবুর রহমান (২২)। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। একই উপজেলার সরস্বতীপুরে বজ্রপাতে জয়নাল হকের কিশোর পুত্র রহমত উল্লাহ (১৫) মারা যায়। আহত জয়নাল হক ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে হাঁস চরাতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আবুল কালাম (৩২) ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার সঙ্গী নুর মোহাম্মদ গুরুতর আহত হওয়ায় সিলেটের ওসমানী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। দিরাইয়ের কালীয়াগোটা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে লিটন মিয়া (৩৮) বজ্রপাতে প্রাণ হারান।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার সখীপুর গ্রামে একটি মৎস্য খামারে মাছ ধরার সময় শক্তিশালী বজ্রপাতে মিলন মিয়া (৩৫) ও আবু তালেব (৬৫) নিহত হন। এক শিশুসহ আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। মিঠাপুকুর থানার ওসি নুরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

গৌরীপুরে নিজের ধানক্ষেত দেখতে গিয়ে বজ্রাঘাতে কৃষক রহমত আলী উজ্জ্বল (৪০) প্রাণ হারান। গফরগাঁওয়ে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বৃদ্ধ মমতাজ আলীও একইভাবে মারা যান। দুজনকেই হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার ধলার হাওরে ধান কাটার সময় কৃষক আলতু মিয়া বজ্রাঘাতে মারা যান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বড় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে হলুদ মিয়া নামের এক কৃষক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মুমিনা হাওরে সুনাম উদ্দিন (৪৫) বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, হতাহত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

আপডেট : ০৩:২৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

একদিনে ছয় জেলায় বজ্রাঘাতে ঝরল ১২ প্রাণ

আপডেট : ০৩:২৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
৮০

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
শনিবার দুপুরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে বজ্রপাতের তাণ্ডবে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ — এই ছয় জেলায় ছড়িয়ে পড়া এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জ, যেখানে পাঁচজনের প্রাণ যায়।

জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলায় মোট পাঁচজন বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে বোরো ধান কাটতে গিয়ে নূর জামাল (২৬) ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং তোফাজ্জল হোসেন (২২) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

ধর্মপাশার টগার হাওরে চাচার সঙ্গে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী হবিবুর রহমান (২২)। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। একই উপজেলার সরস্বতীপুরে বজ্রপাতে জয়নাল হকের কিশোর পুত্র রহমত উল্লাহ (১৫) মারা যায়। আহত জয়নাল হক ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে হাঁস চরাতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আবুল কালাম (৩২) ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার সঙ্গী নুর মোহাম্মদ গুরুতর আহত হওয়ায় সিলেটের ওসমানী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। দিরাইয়ের কালীয়াগোটা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে লিটন মিয়া (৩৮) বজ্রপাতে প্রাণ হারান।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার সখীপুর গ্রামে একটি মৎস্য খামারে মাছ ধরার সময় শক্তিশালী বজ্রপাতে মিলন মিয়া (৩৫) ও আবু তালেব (৬৫) নিহত হন। এক শিশুসহ আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। মিঠাপুকুর থানার ওসি নুরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

গৌরীপুরে নিজের ধানক্ষেত দেখতে গিয়ে বজ্রাঘাতে কৃষক রহমত আলী উজ্জ্বল (৪০) প্রাণ হারান। গফরগাঁওয়ে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বৃদ্ধ মমতাজ আলীও একইভাবে মারা যান। দুজনকেই হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার ধলার হাওরে ধান কাটার সময় কৃষক আলতু মিয়া বজ্রাঘাতে মারা যান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বড় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে হলুদ মিয়া নামের এক কৃষক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মুমিনা হাওরে সুনাম উদ্দিন (৪৫) বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, হতাহত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।