চুয়াডাঙ্গা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিউইদের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের নাটকীয় জয়ে সেমির আশা বাঁচল পাকিস্তানের

Padma Sangbad
১১৫

খেলাধুলা ডেস্ক।।
কলম্বোতে রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার সোনালী সুযোগ হাতছাড়া করল। ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর শেষ দিকে উইল জ্যাকস (৩২*) ও রেহান আহমেদের (১৯*)-এর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ১১৭/৬ অবস্থায় চাপে পড়া ইংল্যান্ড ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিতে নেয়, ফলে পাকিস্তানের সেমিফাইনালের আশা টিকে রইল এবং নিউজিল্যান্ডকে এখন শ্রীলংকার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ছিল নাটকীয়। জোফ্রা আর্চার মেইডেন ওভার দিয়ে চাপ তৈরি করেন। টিম সেইফার্ট প্রথম দিকে বেশ কয়েকবার বিপদে পড়লেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। অন্য প্রান্তে ফিন অ্যালেন আর্চার ও লিয়াম ডসনকে ছক্কা হাঁকিয়ে আগ্রাসী সূচনা করেন। পাওয়ারপ্লে শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৪/০।

তবে স্পিন সহায়ক উইকেটে ইংল্যান্ড দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। সেইফার্ট আদিল রশিদকে ছক্কা মারার পরের বলেই স্টাম্পড হন। পরের ওভারে জ্যাকসের বলে অ্যালেন ক্যাচ তুলে দিলে দুই ওপেনারই দ্রুত বিদায় নেন।

রাচিন রবীন্দ্র ১৩ বলে ১১ রান করে রেহান আহমেদের শিকার হন। গ্লেন ফিলিপস শুরুতে কিছুটা গতি আনলেও মার্ক চ্যাপম্যান রশিদের লুপে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন। এরপর ইংল্যান্ডের স্পিনাররা চাপে ফেলে টানা চার ওভারে বাউন্ডারি হতে দেননি। ড্যারিল মিচেল ছন্দ খুঁজে না পেয়ে আউট হন এবং ১৫তম ওভারে ১২৩/৩ থেকে ১৮তম ওভারে ১৩৫/৬—এভাবে ধস নামে কিউই শিবিরে।

শেষ দিকে কোল ম্যাককনচি ও মিচেল স্যান্টনার কিছুটা চেষ্টা করলেও ২০ ওভারে নিউজিল্যান্ড থামে ১৫৯/৭-এ, যা টুর্নামেন্টে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর।

জবাবে শুরুতেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ম্যাট হেনরির বলে ফিল সল্ট আউট হন, পরের ওভারেই লকি ফার্গুসনের বলে জস বাটলার শূন্য রানে ফেরেন।

হ্যারি ব্রুক পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে দলকে টেনে তোলেন। জ্যাকব বেথেলের সঙ্গে জুটি গড়ে পাওয়ারপ্লে শেষে ইংল্যান্ড পৌঁছে যায় ৪৭/২-এ। পরে গ্লেন ফিলিপস ব্রুক ও বেথেল—দুজনকেই ফেরান।

টম ব্যান্টন ও স্যাম কারানের ৪২ রানের জুটি ম্যাচে রাখে ইংল্যান্ডকে। তবে রাচিন রবীন্দ্র (৩/১৯)-এর চমৎকার বোলিংয়ে কারান আউট হলে ম্যাচ আবার কিউইদের দিকে হেলে পড়ে।

১৮তম ওভারে ফিলিপসকে ২২ রান তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জ্যাকস ও রেহান। ১৯তম ওভারে স্যান্টনারকে রিভার্স সুইপে চার ও লং-অফের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণ নামিয়ে আনেন নাগালে। শেষ পর্যন্ত হেলমেটে লেগে ফাইন লেগ দিয়ে যাওয়া বাউন্ডারিতে অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

১৭তম ওভারে ১১৭/৬ থেকে শেষ ১৬ বলে ৪৪ রান যোগ করে ম্যাচ জিতে নেয় তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৯/৭ (গ্লেন ফিলিপস ৩৯, টিম সাইফার্ট ৩৫; উইল জ্যাকস ২/২৩, আদিল রশিদ ২/২৮)

ইংল্যান্ড: ১৯.৩ ওভারে ১৬১/৬ (উইল জ্যাকস ৩২*, রেহান আহমেদ ১৯*; রাচিন রবীন্দ্র ৩/১৯)

ফলাফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী

আপডেট : ১২:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কিউইদের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের নাটকীয় জয়ে সেমির আশা বাঁচল পাকিস্তানের

আপডেট : ১২:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১১৫

খেলাধুলা ডেস্ক।।
কলম্বোতে রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার সোনালী সুযোগ হাতছাড়া করল। ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর শেষ দিকে উইল জ্যাকস (৩২*) ও রেহান আহমেদের (১৯*)-এর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ১১৭/৬ অবস্থায় চাপে পড়া ইংল্যান্ড ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিতে নেয়, ফলে পাকিস্তানের সেমিফাইনালের আশা টিকে রইল এবং নিউজিল্যান্ডকে এখন শ্রীলংকার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ছিল নাটকীয়। জোফ্রা আর্চার মেইডেন ওভার দিয়ে চাপ তৈরি করেন। টিম সেইফার্ট প্রথম দিকে বেশ কয়েকবার বিপদে পড়লেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। অন্য প্রান্তে ফিন অ্যালেন আর্চার ও লিয়াম ডসনকে ছক্কা হাঁকিয়ে আগ্রাসী সূচনা করেন। পাওয়ারপ্লে শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৪/০।

তবে স্পিন সহায়ক উইকেটে ইংল্যান্ড দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। সেইফার্ট আদিল রশিদকে ছক্কা মারার পরের বলেই স্টাম্পড হন। পরের ওভারে জ্যাকসের বলে অ্যালেন ক্যাচ তুলে দিলে দুই ওপেনারই দ্রুত বিদায় নেন।

রাচিন রবীন্দ্র ১৩ বলে ১১ রান করে রেহান আহমেদের শিকার হন। গ্লেন ফিলিপস শুরুতে কিছুটা গতি আনলেও মার্ক চ্যাপম্যান রশিদের লুপে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন। এরপর ইংল্যান্ডের স্পিনাররা চাপে ফেলে টানা চার ওভারে বাউন্ডারি হতে দেননি। ড্যারিল মিচেল ছন্দ খুঁজে না পেয়ে আউট হন এবং ১৫তম ওভারে ১২৩/৩ থেকে ১৮তম ওভারে ১৩৫/৬—এভাবে ধস নামে কিউই শিবিরে।

শেষ দিকে কোল ম্যাককনচি ও মিচেল স্যান্টনার কিছুটা চেষ্টা করলেও ২০ ওভারে নিউজিল্যান্ড থামে ১৫৯/৭-এ, যা টুর্নামেন্টে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর।

জবাবে শুরুতেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ম্যাট হেনরির বলে ফিল সল্ট আউট হন, পরের ওভারেই লকি ফার্গুসনের বলে জস বাটলার শূন্য রানে ফেরেন।

হ্যারি ব্রুক পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে দলকে টেনে তোলেন। জ্যাকব বেথেলের সঙ্গে জুটি গড়ে পাওয়ারপ্লে শেষে ইংল্যান্ড পৌঁছে যায় ৪৭/২-এ। পরে গ্লেন ফিলিপস ব্রুক ও বেথেল—দুজনকেই ফেরান।

টম ব্যান্টন ও স্যাম কারানের ৪২ রানের জুটি ম্যাচে রাখে ইংল্যান্ডকে। তবে রাচিন রবীন্দ্র (৩/১৯)-এর চমৎকার বোলিংয়ে কারান আউট হলে ম্যাচ আবার কিউইদের দিকে হেলে পড়ে।

১৮তম ওভারে ফিলিপসকে ২২ রান তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জ্যাকস ও রেহান। ১৯তম ওভারে স্যান্টনারকে রিভার্স সুইপে চার ও লং-অফের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণ নামিয়ে আনেন নাগালে। শেষ পর্যন্ত হেলমেটে লেগে ফাইন লেগ দিয়ে যাওয়া বাউন্ডারিতে অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

১৭তম ওভারে ১১৭/৬ থেকে শেষ ১৬ বলে ৪৪ রান যোগ করে ম্যাচ জিতে নেয় তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৯/৭ (গ্লেন ফিলিপস ৩৯, টিম সাইফার্ট ৩৫; উইল জ্যাকস ২/২৩, আদিল রশিদ ২/২৮)

ইংল্যান্ড: ১৯.৩ ওভারে ১৬১/৬ (উইল জ্যাকস ৩২*, রেহান আহমেদ ১৯*; রাচিন রবীন্দ্র ৩/১৯)

ফলাফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী