চুয়াডাঙ্গা ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চেয়ার পেলেই কেন ছাড়তে চান না কেউ? ক্ষমতার মোহে বদলে যায় মানুষ!

Padma Sangbad

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"addons":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

১০৫

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক :
দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—একবার কেউ কোনো ‘চেয়ার’-এ বসলে কেন আর উঠতে চান না? তা সে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হোক কিংবা জাতীয় সংসদের প্রভাবশালী আসন—ক্ষমতার এই আসনে বসার পর যেন বদলে যায় সবকিছু।
সাধারণ মানুষ থেকে হঠাৎ করেই কেউ হয়ে ওঠেন ‘স্যার’, ‘মিয়া’ কিংবা ‘সাহেব’। পোশাকে আসে পরিপাট্য, চলাফেরায় বাড়ে গাম্ভীর্য, সাথে যুক্ত হয় সাদা-কালো রঙের দৃষ্টিনন্দন গাড়ি, সামনে-পেছনে নিরাপত্তা ও অনুসারীদের ভিড়। যেন একটি চেয়ারই বদলে দেয় একজন মানুষের পরিচয়, অবস্থান ও মানসিকতা।
অনেকে প্রশ্ন করেন—এই চেয়ারে কি এমন আছে? এটি কি আলাউদ্দিনের চেরাগের মতো, যেখানে বসলে সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে? বাস্তবতা হলো, চেয়ার শুধু একটি বসার স্থান নয়; এটি ক্ষমতা, প্রভাব, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। আর এই কারণেই হয়তো অনেকে একবার বসার পর আর সেটি ছাড়তে চান না—যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে চান।
কিন্তু দায়িত্বের জায়গা থেকে চিন্তা করলে চিত্রটি হওয়া উচিত সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি চেয়ার মানে দায়িত্ব, জবাবদিহিতা ও জনগণের প্রতি কর্তব্য। যদি কেউ তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন, তবে তার মধ্যে এমন মানসিকতা তৈরি হওয়া উচিত—“আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, এখন অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া উচিত।”
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায় এর উল্টো চিত্র। ক্ষমতার মোহ, ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা অনেককেই চেয়ার আঁকড়ে ধরে থাকতে বাধ্য করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রয়োজন শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, জবাবদিহিতামূলক নেতৃত্ব এবং সচেতন নাগরিক সমাজ। কারণ, চেয়ার কারো স্থায়ী সম্পত্তি নয়—এটি জনগণের দেওয়া একটি সাময়িক দায়িত্ব মাত্র।
শেষ কথা—
চেয়ার নয়, দায়িত্বই হোক আসল পরিচয়; ক্ষমতা নয়, সেবাই হোক নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।

আপডেট : ০২:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

চেয়ার পেলেই কেন ছাড়তে চান না কেউ? ক্ষমতার মোহে বদলে যায় মানুষ!

আপডেট : ০২:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
১০৫

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক :
দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—একবার কেউ কোনো ‘চেয়ার’-এ বসলে কেন আর উঠতে চান না? তা সে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হোক কিংবা জাতীয় সংসদের প্রভাবশালী আসন—ক্ষমতার এই আসনে বসার পর যেন বদলে যায় সবকিছু।
সাধারণ মানুষ থেকে হঠাৎ করেই কেউ হয়ে ওঠেন ‘স্যার’, ‘মিয়া’ কিংবা ‘সাহেব’। পোশাকে আসে পরিপাট্য, চলাফেরায় বাড়ে গাম্ভীর্য, সাথে যুক্ত হয় সাদা-কালো রঙের দৃষ্টিনন্দন গাড়ি, সামনে-পেছনে নিরাপত্তা ও অনুসারীদের ভিড়। যেন একটি চেয়ারই বদলে দেয় একজন মানুষের পরিচয়, অবস্থান ও মানসিকতা।
অনেকে প্রশ্ন করেন—এই চেয়ারে কি এমন আছে? এটি কি আলাউদ্দিনের চেরাগের মতো, যেখানে বসলে সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে? বাস্তবতা হলো, চেয়ার শুধু একটি বসার স্থান নয়; এটি ক্ষমতা, প্রভাব, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। আর এই কারণেই হয়তো অনেকে একবার বসার পর আর সেটি ছাড়তে চান না—যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে চান।
কিন্তু দায়িত্বের জায়গা থেকে চিন্তা করলে চিত্রটি হওয়া উচিত সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি চেয়ার মানে দায়িত্ব, জবাবদিহিতা ও জনগণের প্রতি কর্তব্য। যদি কেউ তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন, তবে তার মধ্যে এমন মানসিকতা তৈরি হওয়া উচিত—“আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, এখন অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া উচিত।”
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায় এর উল্টো চিত্র। ক্ষমতার মোহ, ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা অনেককেই চেয়ার আঁকড়ে ধরে থাকতে বাধ্য করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রয়োজন শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, জবাবদিহিতামূলক নেতৃত্ব এবং সচেতন নাগরিক সমাজ। কারণ, চেয়ার কারো স্থায়ী সম্পত্তি নয়—এটি জনগণের দেওয়া একটি সাময়িক দায়িত্ব মাত্র।
শেষ কথা—
চেয়ার নয়, দায়িত্বই হোক আসল পরিচয়; ক্ষমতা নয়, সেবাই হোক নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।