চুয়াডাঙ্গা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দর্শনায় ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ — রোগীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা

Padma Sangbad

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["default"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"addons":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

৪২

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা অঞ্চলে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। অভিযোগ উঠেছে, এসব ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে গেলেই শুরু হয় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ‘বাণিজ্য’। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই রোগের লক্ষণ পর্যাপ্তভাবে না বুঝেই রোগীদের দেওয়া হচ্ছে একাধিক পরীক্ষার নির্দেশ—যা রোগ নির্ণয়ের চেয়ে রোগীর পকেট কাটার কৌশল বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় রত্না নামের একজন ভুক্তভোগী বলেন,
“জ্বর-সর্দির জন্য ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি নাড়াচাড়া না করেই বললেন, কয়েকটা ব্লাড টেস্ট করতে হবে। পরে দেখি খরচ চলে গেল প্রায় এক হাজার টাকার ওপরে।”

এমন অভিযোগ শুধু একজনের নয়, দর্শনার একাধিক বাসিন্দার মুখে শোনা গেল একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী,দর্শনাতে ক্লিনিক গুলোর চিকিৎসকরা বর্তমানে রোগ নির্ণয়ের আগে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য রোগীদের কে উৎসাহী করে । এবং আশ্চর্যের বিষয়, বেশিরভাগ সময় রোগীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া এসব পরীক্ষা ঐ ক্লিনিকেই করানো হয়—যা আর্থিক স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।

স্থানীয় সাংবাদিক মোঃ আব্দুর রহমান অনিক জানান, ” বিভিন্ন ক্লিনিকে একই রকম চিকিৎসা পদ্ধতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডাক্তার দেখালেই প্রথমে নির্দিষ্ট কয়েকটি পরীক্ষা, তারপর প্রেসক্রিপশন। এতে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে চাপে পড়ছে, আর অনেকেই চিকিৎসার প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন।”

এমন পরিস্থিতিতে দর্শনার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা মনে করেন, ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং না করলে এই অনিয়ম বন্ধ হবে না। একইসঙ্গে তারা চাচ্ছেন, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখুক—বেসরকারি ক্লিনিকগুলো আসলে রোগ নির্ণয়ের স্বার্থে পরীক্ষা করছে, নাকি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে?।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্লিনিক মালিক অবশ্য দাবি করেছেন,
“সব সময় রোগীর সুরক্ষার কথা ভেবেই আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বলি। কারো ইচ্ছাকৃতভাবে খরচ বাড়ানোর জন্য নয়। তবে কোথাও অনিয়ম থাকলে সেটা চুয়াডাঙ্গার স্বাস্থ্য বিভাগের খতিয়ে দেখা উচিত।”

চিকিৎসা একটি সেবামূলক পেশা, কিন্তু তা যদি মুনাফার ফাঁদে পরিণত হয়, তবে তা শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য নয়—সামাজিক ন্যায়ের জন্যও হুমকিস্বরূপ। দর্শনার ক্লিনিকগুলোর বর্তমান চিত্র এক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।।

আপডেট : ০৮:৫০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫

দর্শনায় ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ — রোগীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা

আপডেট : ০৮:৫০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
৪২

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা অঞ্চলে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। অভিযোগ উঠেছে, এসব ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে গেলেই শুরু হয় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ‘বাণিজ্য’। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই রোগের লক্ষণ পর্যাপ্তভাবে না বুঝেই রোগীদের দেওয়া হচ্ছে একাধিক পরীক্ষার নির্দেশ—যা রোগ নির্ণয়ের চেয়ে রোগীর পকেট কাটার কৌশল বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় রত্না নামের একজন ভুক্তভোগী বলেন,
“জ্বর-সর্দির জন্য ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি নাড়াচাড়া না করেই বললেন, কয়েকটা ব্লাড টেস্ট করতে হবে। পরে দেখি খরচ চলে গেল প্রায় এক হাজার টাকার ওপরে।”

এমন অভিযোগ শুধু একজনের নয়, দর্শনার একাধিক বাসিন্দার মুখে শোনা গেল একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী,দর্শনাতে ক্লিনিক গুলোর চিকিৎসকরা বর্তমানে রোগ নির্ণয়ের আগে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য রোগীদের কে উৎসাহী করে । এবং আশ্চর্যের বিষয়, বেশিরভাগ সময় রোগীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া এসব পরীক্ষা ঐ ক্লিনিকেই করানো হয়—যা আর্থিক স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।

স্থানীয় সাংবাদিক মোঃ আব্দুর রহমান অনিক জানান, ” বিভিন্ন ক্লিনিকে একই রকম চিকিৎসা পদ্ধতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডাক্তার দেখালেই প্রথমে নির্দিষ্ট কয়েকটি পরীক্ষা, তারপর প্রেসক্রিপশন। এতে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে চাপে পড়ছে, আর অনেকেই চিকিৎসার প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন।”

এমন পরিস্থিতিতে দর্শনার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা মনে করেন, ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং না করলে এই অনিয়ম বন্ধ হবে না। একইসঙ্গে তারা চাচ্ছেন, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখুক—বেসরকারি ক্লিনিকগুলো আসলে রোগ নির্ণয়ের স্বার্থে পরীক্ষা করছে, নাকি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে?।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্লিনিক মালিক অবশ্য দাবি করেছেন,
“সব সময় রোগীর সুরক্ষার কথা ভেবেই আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বলি। কারো ইচ্ছাকৃতভাবে খরচ বাড়ানোর জন্য নয়। তবে কোথাও অনিয়ম থাকলে সেটা চুয়াডাঙ্গার স্বাস্থ্য বিভাগের খতিয়ে দেখা উচিত।”

চিকিৎসা একটি সেবামূলক পেশা, কিন্তু তা যদি মুনাফার ফাঁদে পরিণত হয়, তবে তা শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য নয়—সামাজিক ন্যায়ের জন্যও হুমকিস্বরূপ। দর্শনার ক্লিনিকগুলোর বর্তমান চিত্র এক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।।