চুয়াডাঙ্গা ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রচণ্ড দাবদাহে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৪২ ডিগ্রি

Padma Sangbad
১৬৪

চুয়াডাঙ্গায় গত কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বিরাজ করছে, যা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। আজ শনিবার (১০ মে) বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখন বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ২৯ শতাংশ। বিকেলের দিকে তা আরও বেড়ে ৪২ ডিগ্রিতে পৌঁছায় এবং আর্দ্রতা কমে আসে ২৩ শতাংশে।

সারাদেশে চলছে দাবদাহ, চুয়াডাঙ্গায় তার চরম রূপ
তীব্র রোদ আর গরম বাতাসে চুয়াডাঙ্গাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শুধু দিন নয়, রাতেও তাপমাত্রা কমছে না। এই অসহনীয় গরমে কর্মজীবী মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

সকাল থেকেই সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপ আর ভ্যাপসা গরম যেন জীবনকে অস্থির করে তুলেছে। প্রচণ্ড তাপে ঘরের ভেতরে যেমন অস্বস্তি, তেমনি বাইরে কাজ করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক ও দিনমজুরদের অনেকেই কাজ ছেড়ে বিশ্রামে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।

রবিউল ইসলাম, একজন আইসক্রিম বিক্রেতা, বলেন, “২৫ বছর ধরে ব্যবসা করছি, দেশের প্রায় সব জেলা ঘুরেছি। কিন্তু এমন গরম চুয়াডাঙ্গা ছাড়া কোথাও দেখিনি। বরফ গলে যাচ্ছে, মুখ যেন পুড়ে যাচ্ছে।মনে হয় আগুনের ভেতর দিয়ে হাঁটছি।

মোঃ মতিয়ার রহমান নামের একজন অটোরিকশাচালক বলেন, “দিনরাত সমান গরম। তার ওপর বিদ্যুৎও থাকছে না। যাত্রীও কমে গেছে। এভাবে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

রাজা নামের এক পথচারী বলেন, “রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে মনে হয় আগুনের স্রোতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।”

আরও বিস্তৃত হতে পারে এই তাপপ্রবাহ
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই তীব্র তাপপ্রবাহ শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, আরও কয়েকটি অঞ্চলে বিস্তার লাভ করতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

আপডেট : ১২:৪৮:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

প্রচণ্ড দাবদাহে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৪২ ডিগ্রি

আপডেট : ১২:৪৮:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
১৬৪

চুয়াডাঙ্গায় গত কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বিরাজ করছে, যা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। আজ শনিবার (১০ মে) বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখন বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ২৯ শতাংশ। বিকেলের দিকে তা আরও বেড়ে ৪২ ডিগ্রিতে পৌঁছায় এবং আর্দ্রতা কমে আসে ২৩ শতাংশে।

সারাদেশে চলছে দাবদাহ, চুয়াডাঙ্গায় তার চরম রূপ
তীব্র রোদ আর গরম বাতাসে চুয়াডাঙ্গাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শুধু দিন নয়, রাতেও তাপমাত্রা কমছে না। এই অসহনীয় গরমে কর্মজীবী মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

সকাল থেকেই সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপ আর ভ্যাপসা গরম যেন জীবনকে অস্থির করে তুলেছে। প্রচণ্ড তাপে ঘরের ভেতরে যেমন অস্বস্তি, তেমনি বাইরে কাজ করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক ও দিনমজুরদের অনেকেই কাজ ছেড়ে বিশ্রামে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।

রবিউল ইসলাম, একজন আইসক্রিম বিক্রেতা, বলেন, “২৫ বছর ধরে ব্যবসা করছি, দেশের প্রায় সব জেলা ঘুরেছি। কিন্তু এমন গরম চুয়াডাঙ্গা ছাড়া কোথাও দেখিনি। বরফ গলে যাচ্ছে, মুখ যেন পুড়ে যাচ্ছে।মনে হয় আগুনের ভেতর দিয়ে হাঁটছি।

মোঃ মতিয়ার রহমান নামের একজন অটোরিকশাচালক বলেন, “দিনরাত সমান গরম। তার ওপর বিদ্যুৎও থাকছে না। যাত্রীও কমে গেছে। এভাবে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

রাজা নামের এক পথচারী বলেন, “রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে মনে হয় আগুনের স্রোতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।”

আরও বিস্তৃত হতে পারে এই তাপপ্রবাহ
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই তীব্র তাপপ্রবাহ শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, আরও কয়েকটি অঞ্চলে বিস্তার লাভ করতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।