বাবা দিবস আজ

বাবা সেই মানুষটি যিনি সন্তানের হাজারো চাওয়া পাওয়া পূরনের এক বিস্ময়কর সুপারম্যান। বাবা তিনি যিনি শত ব্যস্ততা, প্রতিকূলতা শেষেও ক্লান্ত হন না। মুখ ফুঁটে বলেন না তার কোন চাওয়া পাওয়ার কথা, অভাব, অভিযোগ কস্টের কথা। বাবা যার হাত ধরে হাঁটতে শেখা, পৃথিবীর কঠিন পথে চলতে শেখা। বাবা মানে এমনই একজন পরম বন্ধু। বাবা মানে বিশাল এক বটবৃক্ষ। যার ছায়াতলে জিরিয়ে নিয়ে সন্তান পায় অনাবিল শান্তির পরশ। বাবা মানে অসীম স্নেহ, ভালোবাসা ও যত্ন, যার কাছে কোন আবদারই ফেলনা নয়। অসহায়ত্বে সহায়, যিনি শত আবদার পূরণ করেন।
বাবা স্নেহ ভালোবাসার আধার। শত ত্যাগ স্বীকার করে নেয়া নিঃস্বার্থ একজন মানুষ। বাবা মানে শক্তি, বাবা মানে সাহস। ‘বাবা’ এমন একজন, যিনি শুধু দিয়েই যান। বাবা তিনি, যাকে বলা হয় দ্বিতীয় ঈশ্বর। সন্তানের জীবনের প্রতিটি দিনই বাবাময়। তবু প্রিয় বাবা কে আজ আলাদা করে বলার দিন, ‘অনেক ভালোবাসি বাবা তোমাকে।’ আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বাবার কাছে সন্তানের যে ঋণ, তা কখনই শোধ করা সম্ভব নয়। তবু ভালোবাসার প্রতিদানে শুধুমাত্র বাবাদের জন্য রয়েছে এক বিশেষ দিন। যা প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রোববার উদযাপন করা হয়।
বাবা দিবসের প্রেক্ষাপট
১৯০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ৩৬২ জন পুরুষ। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন সন্তানের বাবা। ফলে প্রায় এক হাজার শিশু পিতৃহারা হয়ে পড়ে। পরের বছর ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। নিহতদের সম্মান জানাতে সন্তানরা মিলে এই প্রার্থনাসভার আয়োজন করে। এটি ছিল বাবাকে সম্মান জানাতে ইতিহাসের প্রথম আয়োজন। এরপর ১৯১০ সালের ১৯ জুন বিশ্বে প্রথমবারের মতো পালিত হয় বাবা দিবস। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতিবছর বাবা দিবস পালনের রীতি চালু করেন। সেই থেকে আজ অব্দি সারা বিশ্বে বাবা দিবস উদযাপন করা হয়।
বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সেনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারী। ১৯০৯ সালের আগে ওয়াশিংটনে বাবা দিবস বলে কোনও বিশেষ দিন ছিল না। সে সময় স্থানীয় গির্জায় ডড মা দিবস পালনের কথা শোনেন। মা দিবস পালনের রীতি রয়েছে কিন্তু বাবা দিবস পালনের রীতি নেই জেনে তিনি ভীষণ অবাক হন। তারপর তিনি বাবা দিবসের স্বীকৃতির জন্য সোচ্চার হন। ডড তার বাবাকে খু ভালোবাসতেন। মা ছিল না তার। মায়ের মৃত্যুর পর শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে থেকেও তাদের সাত ভাইবোনকে বড় করে তুলেছিলেন তাদের বাবা। বাবার এই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হলো, মা দিবসের এত আয়োজন হলে বাবা দিবস কেন বাদ থাকবে। বাবাকে সম্মান জানানোর জন্যও একটা দিন থাকা দরকার। এভাবে দেশে দেশে বাবা দিবসের প্রচলন শুরু হয়।






















