চুয়াডাঙ্গা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেসরকারিতে ডেঙ্গুর চিকিৎসায় মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

Padma Sangbad
৩৩

অনলাইন ডেস্ক।

ডেঙ্গুর অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শনিবারও মারা গেছেন ১০ জন আর আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ২০২ জন ডেঙ্গু রোগী।

এমন অবস্থায় সরকারি হাসপাতালে যখন ঠাঁই নেই, তখন বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালের শরণাপন্ন হচ্ছেন রোগীরা। কিন্তু বেসরকারি খাতে চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্তের। সরকারের পক্ষ থেকে চারটি পরীক্ষার দাম বেঁধে দেয়া হলেও, সার্ভিস চার্জ কিংবা ব্লাড ট্রান্সফিউশনে ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছে তারা।

ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপে রাজধানীর মুগদা, ঢাকা মেডিক্যাল কিংবা মিটফোর্ড কোথাওই শয্যা খালি নেই। আবার ডিএনসিসি হাসপাতালে বেড খালি থাকলেও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব প্রকট। তাই বাধ্য হয়েই বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন রোগীরা।

বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ থেকে সাতদিনে বিল আসছে পঞ্চাশ থেকে নব্বই হাজার টাকা। আর যদি আইসিইউ প্রয়োজন হয় সেই বিল ঠেকছে দুই লাখ পর্যন্ত। আবার বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলো কোনও ধরাবাঁধার মধ্যেই নেই।

তার ওপর যাদের প্লাটিলেটের প্রয়োজন হচ্ছে তাদের তো মরার ওপর খাড়ার ঘা। এক ব্যাগ প্লাটিলেটের জন্য প্রয়োজন চারজন ডোনার, সেক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সাড়ে চার হাজার থেকে বিশ হাজার টাকা প্রয়োজন হচ্ছে।

আবার প্লাটিলেট ফেরেসিস মেশিনের মাধ্যমে একজন ডোনারের কাছ থেকেই এক ইউনিট প্লাটিলেট পাওয়া গেলেও, ব্যয় করতে হচ্ছে ১৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড সেন্টারের ইনচার্জ ড. জাহিদুর রহমান জানান, গত বছরের ১ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত তারা সরবরাহ করেছিলেন প্রায় ২০০ ইউনিট প্লাটিলেট। সেখানে এবছর জুলাইয়ের প্রথম ২০ দিনে তাদের সরবরাহ এক হাজার ইউনিটেরও বেশি।

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা বলছেন চিকিৎসা জরুরী, মৌলিক অধিকার হলেও বেসরকারি খাতে সেটা ব্যবসার চেয়ে বেশী কিছু নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, আমাদের দেশে সরকারি খাতের তুলনায় বেসরকারি খাতে বেডের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। তবে বছরের বেশিরভাগ সময়েই এই বেডগুলো খালি থাকায়, ডেঙ্গু মৌসুমের সময় টাকার অঙ্কে সেটি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়।

যেকোনো সঙ্কটে পণ্য মজুদ কিংবা দাম বাড়িয়ে দেয়ার সংস্কৃতি বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। তবে তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের বলে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপডেট : ০৪:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩

বেসরকারিতে ডেঙ্গুর চিকিৎসায় মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

আপডেট : ০৪:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩
৩৩

অনলাইন ডেস্ক।

ডেঙ্গুর অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শনিবারও মারা গেছেন ১০ জন আর আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ২০২ জন ডেঙ্গু রোগী।

এমন অবস্থায় সরকারি হাসপাতালে যখন ঠাঁই নেই, তখন বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালের শরণাপন্ন হচ্ছেন রোগীরা। কিন্তু বেসরকারি খাতে চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্তের। সরকারের পক্ষ থেকে চারটি পরীক্ষার দাম বেঁধে দেয়া হলেও, সার্ভিস চার্জ কিংবা ব্লাড ট্রান্সফিউশনে ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছে তারা।

ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপে রাজধানীর মুগদা, ঢাকা মেডিক্যাল কিংবা মিটফোর্ড কোথাওই শয্যা খালি নেই। আবার ডিএনসিসি হাসপাতালে বেড খালি থাকলেও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব প্রকট। তাই বাধ্য হয়েই বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন রোগীরা।

বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ থেকে সাতদিনে বিল আসছে পঞ্চাশ থেকে নব্বই হাজার টাকা। আর যদি আইসিইউ প্রয়োজন হয় সেই বিল ঠেকছে দুই লাখ পর্যন্ত। আবার বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলো কোনও ধরাবাঁধার মধ্যেই নেই।

তার ওপর যাদের প্লাটিলেটের প্রয়োজন হচ্ছে তাদের তো মরার ওপর খাড়ার ঘা। এক ব্যাগ প্লাটিলেটের জন্য প্রয়োজন চারজন ডোনার, সেক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সাড়ে চার হাজার থেকে বিশ হাজার টাকা প্রয়োজন হচ্ছে।

আবার প্লাটিলেট ফেরেসিস মেশিনের মাধ্যমে একজন ডোনারের কাছ থেকেই এক ইউনিট প্লাটিলেট পাওয়া গেলেও, ব্যয় করতে হচ্ছে ১৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড সেন্টারের ইনচার্জ ড. জাহিদুর রহমান জানান, গত বছরের ১ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত তারা সরবরাহ করেছিলেন প্রায় ২০০ ইউনিট প্লাটিলেট। সেখানে এবছর জুলাইয়ের প্রথম ২০ দিনে তাদের সরবরাহ এক হাজার ইউনিটেরও বেশি।

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা বলছেন চিকিৎসা জরুরী, মৌলিক অধিকার হলেও বেসরকারি খাতে সেটা ব্যবসার চেয়ে বেশী কিছু নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, আমাদের দেশে সরকারি খাতের তুলনায় বেসরকারি খাতে বেডের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। তবে বছরের বেশিরভাগ সময়েই এই বেডগুলো খালি থাকায়, ডেঙ্গু মৌসুমের সময় টাকার অঙ্কে সেটি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়।

যেকোনো সঙ্কটে পণ্য মজুদ কিংবা দাম বাড়িয়ে দেয়ার সংস্কৃতি বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। তবে তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের বলে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।