মানবতার ফেরীআলা: কথার চেয়ে কাজে কোথায় হারিয়ে যায় মানবিকতা?

স্বল্প কথায় বড় প্রতিশ্রুতি—কিন্তু বাস্তবে কতটা থাকে মানবতার উপস্থিতি?
দেশের সমাজব্যবস্থায় প্রায়ই দেখা যায় “মানবতার ফেরীআলা” নামে পরিচিত কিছু মানুষের আবির্ভাব। তারা স্বল্প কথায় বড় বড় আশ্বাস দেন, মানবতার কথা বলেন, সমাজের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তাদের বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে জাগে আশা, অনুপ্রেরণা—বিশেষ করে বাঙালি হিসেবে একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গড়ার স্বপ্ন।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
এই মানবতার ফেরীআলারা হঠাৎ করেই সামনে আসেন, আবার কিছুদিন পর মিলিয়েও যান। তাদের উপস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে তৈরি হয় হতাশা ও আত্মবিশ্বাসের সংকট।
প্রশ্ন উঠছে—যে ব্যক্তি যে অবস্থান বা দায়িত্ব পান, তিনি কতটা দেশ ও সমাজের কথা ভাবেন? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একটি ভালো পদ বা ক্ষমতা পাওয়ার পরই বদলে যায় জীবনযাত্রা।
বাড়ি, গাড়ি, পোশাক—সবকিছুতে আসে আকস্মিক পরিবর্তন। এমনকি অনেকেই দেশের বাইরে সম্পদ গড়ে তোলার দিকেও ঝুঁকে পড়েন।
বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও শোনা যায়। যা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়—এই সম্পদের উৎস কোথায়?
সমাজবিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন।
ব্যক্তিস্বার্থের বাইরে গিয়ে যদি সবাই দেশ ও সমাজের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেন, তবেই গড়ে উঠতে পারে একটি সত্যিকারের “সোনার বাংলা”।
মানবতার ফেরীআলা হওয়া শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না—তা বাস্তব কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। কারণ, সত্যিকারের পরিবর্তন আসে কাজ থেকে, কথার ফুলঝুরি থেকে নয়।
মো: ইব্রাহিম হোসেন।
বার্তা-সম্পাদক




















