চুয়াডাঙ্গা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেডিকেলে চান্স পাওয়া তিন যমজের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জেলা পুলিশের

Padma Sangbad
৭২

বগুড়ায় মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তিন যমজ ভাই আর তাদের মা-কে নিজ কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা সিক্ত করেছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী। মেডিকেলে পড়াশোনা করতে গিয়ে যে কোনো প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে এবং জেলা পুলিশের তরফ থেকে তিন ভাইয়ের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এক ভাই রাফিউল ইসলাম ভর্তির কাজে ঢাকায় থাকায় শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সুপারের আমন্ত্রণে বাকি দুই ভাই এসেছিলেন মায়ের সাথে। দুপুরে মাকে নিয়ে পুলিশ সুপারের কারযালয়ে আসেন দুই জমজ সাফিউল হাসান ও মাফিউল ইসলাম। এসময় পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। দীর্ঘসময় মা-ছেলেদের মেডিকেল জয়ের গল্প শোনেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

পরে পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, পিতৃহারা তিন জমজকে যে সংগ্রামী পথ বেয়ে লক্ষ্য পূরণের কাছে নিয়ে গেছেন তাদের মা আরজিনা বেগম। বাংলার অন্য মায়েদের এখান থেকে উৎসাহিত হওয়া উচিত, অনুপ্রেরণা নেয়া উচিত। আর তিন জমজকে একসাথে সুনাগরিক করে গড়ে তোলার এমন কাজের জন্য রাষ্ট্রেরও এই মা-কে সম্মানিত করা দরকার। ব্যক্তিগতভাবে এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তিন জমজের শিক্ষাজীবনে সবসময় পাশের থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

পুলিশ সুপারের এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে তিন জমজের মা আরজিনা বেগমের কাছে। বারবার তাই সব কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। জানান, বাবা হারা তিন জমজের স্বপ্নপূরণের জন্য কিছু জমি বিক্রি করেছেন। স্বপ্নের বাকিটা পূরণে অবশিষ্ট জমিও বিক্রি করবেন প্রয়োজনে।

পুলিশ সুপারের সাথে এমন সাক্ষাতের পর আপ্লুত আর উৎসাহিত হয়েছেন দুই ভাইও। তারা জানান, এমন সম্মাননা তাদের পড়াশোনার উৎসাহ আরও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি তাদের জন্য পুলিশ সুপারের পরামর্শ তাদের আরও মানবিক মানুষ হওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা হবে বলেও জানান দুই ভাই সাফিউল ও মাফিউল।

উল্লেখ্য, বগুড়ার ধুনট উপজেলার বথুয়াবাড়ি গ্রামের এই তিন জমজের একজন মাফিউল ইসলাম গত বছর ভর্তি হন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে। আর এবারের ভর্তি পরীক্ষায় সাফিউল দিনাজপুরের আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজে এবং রাফিউল ভর্তির সুযোগ পান নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে।

আপডেট : ০১:০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মেডিকেলে চান্স পাওয়া তিন যমজের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জেলা পুলিশের

আপডেট : ০১:০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
৭২

বগুড়ায় মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তিন যমজ ভাই আর তাদের মা-কে নিজ কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা সিক্ত করেছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী। মেডিকেলে পড়াশোনা করতে গিয়ে যে কোনো প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে এবং জেলা পুলিশের তরফ থেকে তিন ভাইয়ের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এক ভাই রাফিউল ইসলাম ভর্তির কাজে ঢাকায় থাকায় শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সুপারের আমন্ত্রণে বাকি দুই ভাই এসেছিলেন মায়ের সাথে। দুপুরে মাকে নিয়ে পুলিশ সুপারের কারযালয়ে আসেন দুই জমজ সাফিউল হাসান ও মাফিউল ইসলাম। এসময় পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। দীর্ঘসময় মা-ছেলেদের মেডিকেল জয়ের গল্প শোনেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

পরে পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, পিতৃহারা তিন জমজকে যে সংগ্রামী পথ বেয়ে লক্ষ্য পূরণের কাছে নিয়ে গেছেন তাদের মা আরজিনা বেগম। বাংলার অন্য মায়েদের এখান থেকে উৎসাহিত হওয়া উচিত, অনুপ্রেরণা নেয়া উচিত। আর তিন জমজকে একসাথে সুনাগরিক করে গড়ে তোলার এমন কাজের জন্য রাষ্ট্রেরও এই মা-কে সম্মানিত করা দরকার। ব্যক্তিগতভাবে এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তিন জমজের শিক্ষাজীবনে সবসময় পাশের থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

পুলিশ সুপারের এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে তিন জমজের মা আরজিনা বেগমের কাছে। বারবার তাই সব কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। জানান, বাবা হারা তিন জমজের স্বপ্নপূরণের জন্য কিছু জমি বিক্রি করেছেন। স্বপ্নের বাকিটা পূরণে অবশিষ্ট জমিও বিক্রি করবেন প্রয়োজনে।

পুলিশ সুপারের সাথে এমন সাক্ষাতের পর আপ্লুত আর উৎসাহিত হয়েছেন দুই ভাইও। তারা জানান, এমন সম্মাননা তাদের পড়াশোনার উৎসাহ আরও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি তাদের জন্য পুলিশ সুপারের পরামর্শ তাদের আরও মানবিক মানুষ হওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা হবে বলেও জানান দুই ভাই সাফিউল ও মাফিউল।

উল্লেখ্য, বগুড়ার ধুনট উপজেলার বথুয়াবাড়ি গ্রামের এই তিন জমজের একজন মাফিউল ইসলাম গত বছর ভর্তি হন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে। আর এবারের ভর্তি পরীক্ষায় সাফিউল দিনাজপুরের আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজে এবং রাফিউল ভর্তির সুযোগ পান নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে।