‘রামমূর্তি’ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাসের চার দিনের রিমান্ড

অনলাইন ডেস্ক।।
অর্থপাচার মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এই রিমান্ডের আদেশ দেন। এদিন তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে হরিদাস চন্দ্র তরণীর মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সার্বিক অনুসন্ধানে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণে আসামির বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজসে হুন্ডি তথা দেশী-বিদেশী মুদ্রাপাচার করার অপরাধের সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। তার নামীয় বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও এমএফএস হিসাবে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
ওই অর্থের উৎস কারা, ওই অর্থ জমা প্রদান করেছে তাদের পরিচয় সনাক্ত করা, গ্রেপ্তার করাসহ অপরাধী চক্র সনাক্ত করার জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। যা মামলার তদন্তে সহায়ক হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত। তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ৭ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর কবীর হোসেন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। হরিদাস চন্দ্র তরণীর পক্ষে আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থণা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম গতকাল রোববার উত্তরা পশ্চিম থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ চন্দ্র দাসের ছেলে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। অনুসন্ধানের অভিযোগ পর্যালোচনায় জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র তরণী একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং তিনি ব্যবসার আড়ালে দেশী-বিদেশী মুদ্রা পাচারসহ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
তার নামে থাকা ৯ ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য কাগপপত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, তার ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসা বর্হিভূত নগদ অর্থ জমা হয়েছে। হরিদাস চন্দ্র তরণীসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র হুন্ডি তথা ‘দেশী-বিদেশী মুদ্রা পাচার’ করত। ৯ কোটি ৩৫ লাখটাকা অপরাধলব্ধ অর্থ অর্জনসহ অর্জিত টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা গোপন ও ছদ্মাবৃত্ত করেছে।





















