চুয়াডাঙ্গা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোডশেডিংয়ের কোপে মাছ-মাংসের বাজার, বিক্রি কমেছে ৩০ শতাংশ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছে গাংনী, বিপাকে ব্যবসায়ী থেকে চাষি সবাই

Padma Sangbad
৯৪

গাংনী প্রতিনিধি।।

একদিকে তীব্র জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় গাংনীর বাজারে মাছ ও মাংসের বিক্রি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। সেই সঙ্গে বেড়েছে দামও। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যা ৭টায় দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনায় আরও বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।

ক্রেতারা জানান, বিদ্যুৎ যখন আসছে তখনও তার স্থায়িত্ব মাত্র আধা থেকে এক ঘণ্টা। এতে ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বড় মাছ কেনা থেকে বিরত থাকছেন অনেকে।

মাছ বিক্রেতা মন্টু মিয়া বলেন, বাজারে এখন আর বড় মাছ কেউ কিনতে চাইছে না। ৩ থেকে ৫ কেজি ওজনের মাছ বিক্রি নেই বললেই চলে। কারেন্ট না থাকায় ফ্রিজে রাখলেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বামন্দী বাজারের মাছ বিক্রেতা জামাল হোসেন জানান, বাজারে প্রায় শতজন মাছ ব্যবসায়ী রয়েছেন। সপ্তাহ দেড়েকের ব্যবধানে সবার বিক্রি একযোগে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি মহাজনদের কাছ থেকে মাছ কিনতে বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে।

মাংস বিক্রেতা জাহিদ বলেন, মানুষ এখন ফ্রিজে আগে থেকে রাখা মাছ-মাংস নষ্ট হওয়ার ভয়ে খেয়ে ফেলতে ব্যস্ত। নতুন করে কেনার প্রশ্নই আসছে না।

সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন মাছ চাষিরা। মাছ চাষি সম্রাট আহমেদ জানান, প্রচণ্ড গরমে পুকুরের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। তেল সংকটে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, আবার বিদ্যুৎও নেই। ফলে পুকুরে মাছ মরে যাচ্ছে। অথচ ব্যবসায়ীরা বলছেন হাটে বিক্রি নেই।

তিন বছর পর প্রবাস থেকে ছুটিতে আসা সোহাগ আলী বলেন, *”বাজারে বড় কাতলা মাছ দেখে কিনতে চেয়েছিলাম। বাড়িতে ফোন দিতেই স্ত্রী বললেন — কারেন্ট নেই, ফ্রিজে রাখলে নষ্ট হবে, বড় মাছ আনতে হবে না।”*

হোটেল ব্যবসায়ী ইয়ারুল ইসলাম জানান, ফ্রিজ ঠান্ডা হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে মজুদ রাখা মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে ব্যবসায় সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে।

গাংনী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম শফিউদ্দিন আহমেদ জানান, এলাকায় প্রয়োজন প্রায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসায় লোডশেডিং ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।

আপডেট : ০২:০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

লোডশেডিংয়ের কোপে মাছ-মাংসের বাজার, বিক্রি কমেছে ৩০ শতাংশ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছে গাংনী, বিপাকে ব্যবসায়ী থেকে চাষি সবাই

আপডেট : ০২:০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
৯৪

গাংনী প্রতিনিধি।।

একদিকে তীব্র জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় গাংনীর বাজারে মাছ ও মাংসের বিক্রি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। সেই সঙ্গে বেড়েছে দামও। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যা ৭টায় দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনায় আরও বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।

ক্রেতারা জানান, বিদ্যুৎ যখন আসছে তখনও তার স্থায়িত্ব মাত্র আধা থেকে এক ঘণ্টা। এতে ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বড় মাছ কেনা থেকে বিরত থাকছেন অনেকে।

মাছ বিক্রেতা মন্টু মিয়া বলেন, বাজারে এখন আর বড় মাছ কেউ কিনতে চাইছে না। ৩ থেকে ৫ কেজি ওজনের মাছ বিক্রি নেই বললেই চলে। কারেন্ট না থাকায় ফ্রিজে রাখলেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বামন্দী বাজারের মাছ বিক্রেতা জামাল হোসেন জানান, বাজারে প্রায় শতজন মাছ ব্যবসায়ী রয়েছেন। সপ্তাহ দেড়েকের ব্যবধানে সবার বিক্রি একযোগে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি মহাজনদের কাছ থেকে মাছ কিনতে বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে।

মাংস বিক্রেতা জাহিদ বলেন, মানুষ এখন ফ্রিজে আগে থেকে রাখা মাছ-মাংস নষ্ট হওয়ার ভয়ে খেয়ে ফেলতে ব্যস্ত। নতুন করে কেনার প্রশ্নই আসছে না।

সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন মাছ চাষিরা। মাছ চাষি সম্রাট আহমেদ জানান, প্রচণ্ড গরমে পুকুরের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। তেল সংকটে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, আবার বিদ্যুৎও নেই। ফলে পুকুরে মাছ মরে যাচ্ছে। অথচ ব্যবসায়ীরা বলছেন হাটে বিক্রি নেই।

তিন বছর পর প্রবাস থেকে ছুটিতে আসা সোহাগ আলী বলেন, *”বাজারে বড় কাতলা মাছ দেখে কিনতে চেয়েছিলাম। বাড়িতে ফোন দিতেই স্ত্রী বললেন — কারেন্ট নেই, ফ্রিজে রাখলে নষ্ট হবে, বড় মাছ আনতে হবে না।”*

হোটেল ব্যবসায়ী ইয়ারুল ইসলাম জানান, ফ্রিজ ঠান্ডা হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে মজুদ রাখা মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে ব্যবসায় সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে।

গাংনী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম শফিউদ্দিন আহমেদ জানান, এলাকায় প্রয়োজন প্রায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসায় লোডশেডিং ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।