চুয়াডাঙ্গা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহিন আলমের হাত ধরে দামুড়হুদা ভূমি অফিসের অভূতপূর্ব উত্থান মাত্র চার মাসে ৬ হাজার মামলা নিষ্পত্তি করে জেলা শীর্ষে দামুড়হুদা ভূমি অফিস

Padma Sangbad
৯৭

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক ।।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা ভূমি অফিস এবার গোটা জেলার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কারণ অসাধারণ নয়, কারণটি অনুকরণীয়। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে ৬ হাজারেরও বেশি নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করে চুয়াডাঙ্গা জেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে এই অফিস। এর পেছনে রয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলমের নিরলস পরিশ্রম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।

গত বছরের ২২ ডিসেম্বর তিনি দামুড়হুদায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই শুধু ভূমি প্রশাসনে নয়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিজেকে নিয়োজিত করেন। দর্শনা পৌরসভার প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও সুচারুভাবে পালন করেন তিনি।

এতসব প্রশাসনিক চাপের মধ্যেও গড়ে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে নামজারি নিষ্পত্তির রেকর্ড গড়েছেন শাহিন আলম, যা জেলায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

ভূমি সেবার গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি মাঠপর্যায়েও সমান সক্রিয়। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে অবৈধ মাটি কাটা রোধ, সার ও জ্বালানি তেল মজুদবিরোধী অভিযান, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং ভেজাল ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে শতাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন তিনি।

গত ১২ এপ্রিল কার্পাসডাঙ্গা বাজারে বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে শতাধিক চান্দিনা লিজ নবায়ন করা হয়, যা ভূমি সেবা সহজীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সরকারি সম্পদ সুরক্ষা, নিলাম-ইজারা কার্যক্রম এবং ভূমি অফিসের অবকাঠামো সংস্কারও একই সাথে এগিয়ে চলছে। হাউলি ও কুড়ালগাছি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজও দৃশ্যমান অগ্রগতির মুখে।

প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরেও শাহিন আলম এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনাবিষয়ক মোটিভেশনাল অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তাঁর এই উদ্যোগ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

দর্শনা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন কার্যক্রম, সড়ক উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপন, শীতার্তদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ এবং ক্রীড়া উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন তিনি।

উপজেলা সার্ভেয়ার পদে শূন্যতা এবং সার্ভার জটিলতাসহ নানা প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি সেবার মান উন্নয়নে আপোষ করেননি। এটিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

উল্লেখ্য, এর আগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কর্মরত থাকাকালীন মাত্র দেড় বছরে ১০ বছরের পুরনো পেন্ডিং নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করে খুলনা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি।

সাফল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. শাহিন আলম বলেন, জনগণের ভোগান্তি দূর করা এবং সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। অতীতের মতোই সর্বোচ্চ নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করে যেতে চাই।

তাঁর এই কর্মস্পৃহা, দক্ষতা ও জনবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি ইতোমধ্যে দামুড়হুদার মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে এবং প্রশাসনিক সেবার মানদণ্ডে নতুন একটি উদাহরণ তৈরি করেছে।

আপডেট : ০৯:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

শাহিন আলমের হাত ধরে দামুড়হুদা ভূমি অফিসের অভূতপূর্ব উত্থান মাত্র চার মাসে ৬ হাজার মামলা নিষ্পত্তি করে জেলা শীর্ষে দামুড়হুদা ভূমি অফিস

আপডেট : ০৯:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৯৭

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক ।।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা ভূমি অফিস এবার গোটা জেলার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কারণ অসাধারণ নয়, কারণটি অনুকরণীয়। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে ৬ হাজারেরও বেশি নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করে চুয়াডাঙ্গা জেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে এই অফিস। এর পেছনে রয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলমের নিরলস পরিশ্রম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।

গত বছরের ২২ ডিসেম্বর তিনি দামুড়হুদায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই শুধু ভূমি প্রশাসনে নয়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিজেকে নিয়োজিত করেন। দর্শনা পৌরসভার প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও সুচারুভাবে পালন করেন তিনি।

এতসব প্রশাসনিক চাপের মধ্যেও গড়ে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে নামজারি নিষ্পত্তির রেকর্ড গড়েছেন শাহিন আলম, যা জেলায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

ভূমি সেবার গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি মাঠপর্যায়েও সমান সক্রিয়। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে অবৈধ মাটি কাটা রোধ, সার ও জ্বালানি তেল মজুদবিরোধী অভিযান, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং ভেজাল ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে শতাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন তিনি।

গত ১২ এপ্রিল কার্পাসডাঙ্গা বাজারে বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে শতাধিক চান্দিনা লিজ নবায়ন করা হয়, যা ভূমি সেবা সহজীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সরকারি সম্পদ সুরক্ষা, নিলাম-ইজারা কার্যক্রম এবং ভূমি অফিসের অবকাঠামো সংস্কারও একই সাথে এগিয়ে চলছে। হাউলি ও কুড়ালগাছি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজও দৃশ্যমান অগ্রগতির মুখে।

প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরেও শাহিন আলম এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনাবিষয়ক মোটিভেশনাল অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তাঁর এই উদ্যোগ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

দর্শনা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন কার্যক্রম, সড়ক উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপন, শীতার্তদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ এবং ক্রীড়া উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন তিনি।

উপজেলা সার্ভেয়ার পদে শূন্যতা এবং সার্ভার জটিলতাসহ নানা প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি সেবার মান উন্নয়নে আপোষ করেননি। এটিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

উল্লেখ্য, এর আগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কর্মরত থাকাকালীন মাত্র দেড় বছরে ১০ বছরের পুরনো পেন্ডিং নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করে খুলনা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি।

সাফল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. শাহিন আলম বলেন, জনগণের ভোগান্তি দূর করা এবং সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। অতীতের মতোই সর্বোচ্চ নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করে যেতে চাই।

তাঁর এই কর্মস্পৃহা, দক্ষতা ও জনবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি ইতোমধ্যে দামুড়হুদার মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে এবং প্রশাসনিক সেবার মানদণ্ডে নতুন একটি উদাহরণ তৈরি করেছে।