চুয়াডাঙ্গা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

Padma Sangbad

অনলাইন ডেস্ক।।

জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এই দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও কেউ যদি আহত হয়ে থাকেন, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’’

সংসদে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলোতে বন্যার কারণে পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে এবং এই পরীক্ষাগুলো পুনরায় নিতেই হবে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের দাবি ও অভিযোগ জানালেও মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে চট্টগ্রাম বোর্ডের জন্য যখন পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অন্য আরেকটি প্রশ্নপত্র সেটে নেওয়া হবে, ঠিক সেই সময়েই স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে মন্ত্রী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার একটি মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই। আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলি নাই। যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন “সিম্প্লি” আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি গত ৮, ১১, ১৩ ও ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনের সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয় পর্যায়ক্রমে।

গত ৮ জুলাই ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র, ১১ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ১৩ জুলাই পদার্থবিদ্যা প্রথমপত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্র, যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র, ১৫ জুলাই পদার্থবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র এবং ১৬ জুলাই ভূগোল প্রথমপত্র, উচ্চাঙ্গসংগীত প্রথমপত্র, পালি প্রথম এবং আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা সংসদ ভবনের মূল ফটকে পৌঁছে অবস্থান নেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এরপর শিক্ষার্থীরা আড়ংয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ সেখানেও ধাওয়া দেয়।

এদিন বিকাল ৫টার দিকে সায়েন্স ল্যাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন তিন দফা দাবি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি আরও বলেন, গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের কথা বিবেচনা করে ওই দিনের পরীক্ষা পুনরায় নিতে হবে। একই সঙ্গে পরদিনের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ এবং প্রশ্নপত্রের মান শিক্ষার্থীবান্ধব করার দাবি জানান তিনি।

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় তারা ‘তুমি কে আমি কে- ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে কে বলেছে- শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী’ স্লোগানও দেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল থেকে একই দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, মিরপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

আপডেট : ১২:৪৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

আপডেট : ১২:৪৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক।।

জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এই দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও কেউ যদি আহত হয়ে থাকেন, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’’

সংসদে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলোতে বন্যার কারণে পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে এবং এই পরীক্ষাগুলো পুনরায় নিতেই হবে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের দাবি ও অভিযোগ জানালেও মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে চট্টগ্রাম বোর্ডের জন্য যখন পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অন্য আরেকটি প্রশ্নপত্র সেটে নেওয়া হবে, ঠিক সেই সময়েই স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে মন্ত্রী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার একটি মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই। আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলি নাই। যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন “সিম্প্লি” আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি গত ৮, ১১, ১৩ ও ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনের সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয় পর্যায়ক্রমে।

গত ৮ জুলাই ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র, ১১ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ১৩ জুলাই পদার্থবিদ্যা প্রথমপত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্র, যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র, ১৫ জুলাই পদার্থবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র এবং ১৬ জুলাই ভূগোল প্রথমপত্র, উচ্চাঙ্গসংগীত প্রথমপত্র, পালি প্রথম এবং আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা সংসদ ভবনের মূল ফটকে পৌঁছে অবস্থান নেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এরপর শিক্ষার্থীরা আড়ংয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ সেখানেও ধাওয়া দেয়।

এদিন বিকাল ৫টার দিকে সায়েন্স ল্যাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন তিন দফা দাবি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি আরও বলেন, গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের কথা বিবেচনা করে ওই দিনের পরীক্ষা পুনরায় নিতে হবে। একই সঙ্গে পরদিনের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ এবং প্রশ্নপত্রের মান শিক্ষার্থীবান্ধব করার দাবি জানান তিনি।

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় তারা ‘তুমি কে আমি কে- ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে কে বলেছে- শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী’ স্লোগানও দেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল থেকে একই দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, মিরপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।