চুয়াডাঙ্গা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাপে কাটা রোগীদের জন্য রাজশাহী হাসপাতালে চালু হচ্ছে বিশেষায়িত ওয়ার্ড

Padma Sangbad
৪৭

রাজশাহী প্রতিনিধি।।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জন্য দেশের প্রথম বিশেষায়িত ১২ শয্যাবিশিষ্ট ওয়ার্ড চালু হতে চলেছে। ডেঙ্গু, করোনা ও নিপাহ ভাইরাসের পর এটি হবে সাপে কাটা রোগীদের জন্য একটি তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত চিকিৎসা কেন্দ্র। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই এই ওয়ার্ডটি চালু হবে। এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্নেক বাইট ক্লিনিক করা হয়েছিল।

হাসপাতালের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সম্প্রসারিত অংশে এই বিশেষায়িত ওয়ার্ডটি স্থাপন করা হচ্ছে। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এই ওয়ার্ডের ‘ফোকাল পারসন’ হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। তিনি রাসেলস ভাইপারের ওপর পিএইচডি করছেন। ইতিমধ্যেই আটজন নার্স বাছাই করা হয়েছে এবং ওয়োর্ডের চিকিৎসক ও নার্সদের স্নেক বাইটের ন্যাশনাল গাইড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৬ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩১ জন মারা গেছেন। রাসেলস ভাইপারের কামড়ে ১০ জন এবং কেউটে সাপের কামড়ে ১৩ জন মারা গেছেন।

মাহবুবুর রহমান জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মৃত্যুর হার ২৭ শতাংশ ছিল, যা চিকিৎসার কারণে কমেছে। নতুন ওয়ার্ড চালু হওয়ার পর সাপে কাটা সকল রোগী সেখানে সমন্বিত চিকিৎসা পাবেন, যা মৃত্যুর হার কমানোর উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক নার্স ও চিকিৎসক থাকবেন এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে, যা রোগীরা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাবেন। এক ডোজ অ্যান্টিভেনমের জন্য ১০ ভায়াল প্রয়োজন হয়, যার মূল্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা।

চিকিৎসকেরা সাপের কামড় থেকে বাঁচতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, রাতের বেলায় মশারি টানিয়ে চৌকিতে ঘুমানো, রাতে বাইরে বের হলে টর্চলাইট জ্বেলে ও হাতে লাঠি নিয়ে শব্দ করতে করতে হাঁটা, মাঠে কাজ করার সময় গামবুট পরা এবং কোনো গর্তে হাত না দেওয়া বা আবর্জনা পরিষ্কার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

মাহবুবুর রহমানের মতে, প্রায় ২৫০ জন সাপে কাটা রোগীর মধ্যে ৬৫ শতাংশ ধানখেতে রাসেলস ভাইপারের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ২০১৩ সালের পর থেকে রাজশাহীতে রাসেলস ভাইপারের উপদ্রব বেড়েছে, কারণ এই সাপ দ্রুত বংশবিস্তার করে।

সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাপে কাটা চার রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে পাবনার আবদুল গাফফার শসাখেতে কাজ করতে গিয়ে রাসেলস ভাইপারের কামড়ের শিকার হন। রাজশাহীর পবার তাজউদ্দিন স্বপন এবং পাবনার বিল্লাল রাতে বিছানায় ঘুমের মধ্যে সাপের কামড় খেয়েছেন। তাজউদ্দিন মশারির ভেতরে ঘুমিয়ে থাকলেও সাপ বালিশের নিচে ঢুকেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিল্লাল মশারি ছাড়াই ঘুমিয়ে ছিলেন। এদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।।

আপডেট : ০১:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সাপে কাটা রোগীদের জন্য রাজশাহী হাসপাতালে চালু হচ্ছে বিশেষায়িত ওয়ার্ড

আপডেট : ০১:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৪৭

রাজশাহী প্রতিনিধি।।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জন্য দেশের প্রথম বিশেষায়িত ১২ শয্যাবিশিষ্ট ওয়ার্ড চালু হতে চলেছে। ডেঙ্গু, করোনা ও নিপাহ ভাইরাসের পর এটি হবে সাপে কাটা রোগীদের জন্য একটি তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত চিকিৎসা কেন্দ্র। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই এই ওয়ার্ডটি চালু হবে। এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্নেক বাইট ক্লিনিক করা হয়েছিল।

হাসপাতালের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সম্প্রসারিত অংশে এই বিশেষায়িত ওয়ার্ডটি স্থাপন করা হচ্ছে। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এই ওয়ার্ডের ‘ফোকাল পারসন’ হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। তিনি রাসেলস ভাইপারের ওপর পিএইচডি করছেন। ইতিমধ্যেই আটজন নার্স বাছাই করা হয়েছে এবং ওয়োর্ডের চিকিৎসক ও নার্সদের স্নেক বাইটের ন্যাশনাল গাইড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৬ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩১ জন মারা গেছেন। রাসেলস ভাইপারের কামড়ে ১০ জন এবং কেউটে সাপের কামড়ে ১৩ জন মারা গেছেন।

মাহবুবুর রহমান জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মৃত্যুর হার ২৭ শতাংশ ছিল, যা চিকিৎসার কারণে কমেছে। নতুন ওয়ার্ড চালু হওয়ার পর সাপে কাটা সকল রোগী সেখানে সমন্বিত চিকিৎসা পাবেন, যা মৃত্যুর হার কমানোর উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক নার্স ও চিকিৎসক থাকবেন এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে, যা রোগীরা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাবেন। এক ডোজ অ্যান্টিভেনমের জন্য ১০ ভায়াল প্রয়োজন হয়, যার মূল্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা।

চিকিৎসকেরা সাপের কামড় থেকে বাঁচতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, রাতের বেলায় মশারি টানিয়ে চৌকিতে ঘুমানো, রাতে বাইরে বের হলে টর্চলাইট জ্বেলে ও হাতে লাঠি নিয়ে শব্দ করতে করতে হাঁটা, মাঠে কাজ করার সময় গামবুট পরা এবং কোনো গর্তে হাত না দেওয়া বা আবর্জনা পরিষ্কার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

মাহবুবুর রহমানের মতে, প্রায় ২৫০ জন সাপে কাটা রোগীর মধ্যে ৬৫ শতাংশ ধানখেতে রাসেলস ভাইপারের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ২০১৩ সালের পর থেকে রাজশাহীতে রাসেলস ভাইপারের উপদ্রব বেড়েছে, কারণ এই সাপ দ্রুত বংশবিস্তার করে।

সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাপে কাটা চার রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে পাবনার আবদুল গাফফার শসাখেতে কাজ করতে গিয়ে রাসেলস ভাইপারের কামড়ের শিকার হন। রাজশাহীর পবার তাজউদ্দিন স্বপন এবং পাবনার বিল্লাল রাতে বিছানায় ঘুমের মধ্যে সাপের কামড় খেয়েছেন। তাজউদ্দিন মশারির ভেতরে ঘুমিয়ে থাকলেও সাপ বালিশের নিচে ঢুকেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিল্লাল মশারি ছাড়াই ঘুমিয়ে ছিলেন। এদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।।