চুয়াডাঙ্গা ০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে ভয়ঙ্কর ফাঁদ ভেঙে উদ্ধার ৮ জন: শিশুদের নিয়েও পাচারের চেষ্টা, ধরা পড়লো দালাল চক্র

Padma Sangbad
৫২

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, পাচারের হাত থেকে ৪ শিশুসহ ৮ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই দালালকে আটক করা হয়েছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে জীবননগরের বেনীপুর সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ৮ জনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরের দিকে একই এলাকা থেকে দালাল চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা করে আসছিল। এবারও তারা “ভালো চাকরি”র লোভ দেখিয়ে একটি পরিবারের সদস্যদেরসহ কয়েকজনকে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতে পাঠানোর চুক্তি করা হয়। তাদের জানানো হয়, সেখানে কারখানায় আকর্ষণীয় কাজের সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী পাচার সম্পন্ন করতে না পেরে দালালরা কৌশলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। এমনকি একজনকে মারধর করেও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এদিন বিকালে জানান, গোপনে খবর পেয়ে তারই সার্বিক দিকনির্দেশনায় জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান সেখের তত্বাবধানে জীবননগর থানা পুলিশ কাজের প্রলোভনে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে পাচারের আগেই নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার দোহা মল্লিকপুর পূর্ব পাড়ার সোহরাব মোল্লার ছেলে রাকিব মোল্লা (৩৭), রাকিব মোল্লার স্ত্রী নাইস মিনা খানম (৩০), আমির হোসেন মোল্লার ছেলে লিমন মোল্লা (৩০)’ লিমন মোল্লার স্ত্রী সাথী খাতুন (২৫), রাকিব মোল্লার ছেলে রিহান মোল্লা (৫) মেয়ে ফাতেমা খাতুন ও ফারিয়া খাতুন এবং লিমন মোল্লার ছেলে ইসমাইল মোল্লাকে (১) জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ জড়িত দুইজনকে আটক করে।
এ সময় তারা পুলিশকে জানায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন আগে অবৈধভাবে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করতেন এবং আনুমানিক ৭-৮ মাস আগে তারা সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পুনরায় তারা ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার রাজঘাট এলাকার দালাল শফির (৫০) মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রামের স্থানীয় দালাল ফারুক হোসেন (৪৫) ও ইসরাফিল হোসেনের (২৮) সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এ সময় তারা পুলিশকে জানায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন আগে অবৈধভাবে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করতেন এবং আনুমানিক ৭-৮ মাস আগে তারা সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পুনরায় তারা ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার রাজঘাট এলাকার দালাল শফির (৫০) মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রামের স্থানীয় দালাল ফারুক হোসেন (৪৫) ও ইসরাফিল হোসেনের (২৮) সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দালাল চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।

সীমান্ত এলাকায় এমন প্রতারণামূলক প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাজের নামে বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

আপডেট : ১১:৩৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

সীমান্তে ভয়ঙ্কর ফাঁদ ভেঙে উদ্ধার ৮ জন: শিশুদের নিয়েও পাচারের চেষ্টা, ধরা পড়লো দালাল চক্র

আপডেট : ১১:৩৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
৫২

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, পাচারের হাত থেকে ৪ শিশুসহ ৮ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই দালালকে আটক করা হয়েছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে জীবননগরের বেনীপুর সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ৮ জনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরের দিকে একই এলাকা থেকে দালাল চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা করে আসছিল। এবারও তারা “ভালো চাকরি”র লোভ দেখিয়ে একটি পরিবারের সদস্যদেরসহ কয়েকজনকে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতে পাঠানোর চুক্তি করা হয়। তাদের জানানো হয়, সেখানে কারখানায় আকর্ষণীয় কাজের সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী পাচার সম্পন্ন করতে না পেরে দালালরা কৌশলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। এমনকি একজনকে মারধর করেও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এদিন বিকালে জানান, গোপনে খবর পেয়ে তারই সার্বিক দিকনির্দেশনায় জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান সেখের তত্বাবধানে জীবননগর থানা পুলিশ কাজের প্রলোভনে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে পাচারের আগেই নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার দোহা মল্লিকপুর পূর্ব পাড়ার সোহরাব মোল্লার ছেলে রাকিব মোল্লা (৩৭), রাকিব মোল্লার স্ত্রী নাইস মিনা খানম (৩০), আমির হোসেন মোল্লার ছেলে লিমন মোল্লা (৩০)’ লিমন মোল্লার স্ত্রী সাথী খাতুন (২৫), রাকিব মোল্লার ছেলে রিহান মোল্লা (৫) মেয়ে ফাতেমা খাতুন ও ফারিয়া খাতুন এবং লিমন মোল্লার ছেলে ইসমাইল মোল্লাকে (১) জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ জড়িত দুইজনকে আটক করে।
এ সময় তারা পুলিশকে জানায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন আগে অবৈধভাবে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করতেন এবং আনুমানিক ৭-৮ মাস আগে তারা সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পুনরায় তারা ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার রাজঘাট এলাকার দালাল শফির (৫০) মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রামের স্থানীয় দালাল ফারুক হোসেন (৪৫) ও ইসরাফিল হোসেনের (২৮) সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এ সময় তারা পুলিশকে জানায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন আগে অবৈধভাবে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করতেন এবং আনুমানিক ৭-৮ মাস আগে তারা সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পুনরায় তারা ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার রাজঘাট এলাকার দালাল শফির (৫০) মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রামের স্থানীয় দালাল ফারুক হোসেন (৪৫) ও ইসরাফিল হোসেনের (২৮) সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দালাল চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।

সীমান্ত এলাকায় এমন প্রতারণামূলক প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাজের নামে বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।