চুয়াডাঙ্গা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজের খুতবায় মুসলিম ঐক্যের আহ্বান

Padma Sangbad
১২২

হজ উপলক্ষে মসজিদে নামিরায় দেওয়া খুতবায় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, সংহতি ও তাকওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদুল হারামের প্রখ্যাত ইমাম শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ। তিনি বলেন, মুসলমানদের উচিত পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহানুভূতির মাধ্যমে শয়তানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা, কারণ শয়তান মানবজাতির প্রকাশ্য শত্রু।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর ভয় ও তাকওয়া মুসলমানদের জীবনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। ইমানদারদের উচিত আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে সৎকর্মে লিপ্ত থাকা। শায়খ সালেহ বলেন, “যদি তুমি তোমার শত্রুকে ক্ষমা করো, তবে আল্লাহ তোমাকে তার বন্ধু বানিয়ে নেবেন।”

শায়খ সালেহ তার খুতবায় উল্লেখ করেন, ইসলাম তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত—ইসলাম, ইমান এবং ইহসান। এর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর হলো ইহসান, যেখানে আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করতে হয় যেন আপনি তাকে দেখছেন। তিনি বলেন, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, নম্রতা এবং হায়া—সবই ইমানের অংশ।

আরও পড়ুন…

❒ ঈদযাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক, মেলেনি ভোগান্তির অভিযোগ

❒ চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে রাজশাহীতে ২৬৩ মেট্রিক টন লবণ বিতরণ

হজের সময় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির, দোয়া এবং নেক কাজের তাগিদ দেন তিনি। শায়খ সালেহ বলেন, “নেক কাজ পাপসমূহকে মুছে দেয়। আল্লাহ বলেছেন, সৎকর্মে একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং মন্দ কাজে বাধা দাও।”

আজ বৃহস্পতিবার (৮ জিলহজ, ৫ জুন) থেকে হাজিরা পবিত্র আরাফার ময়দানে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। তারা ফজরের আগেই জাবালে রহমত ও আশপাশের এলাকায় উপস্থিত হন, যেখানে মহানবী (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফা থেকে মুজদালিফার পথে রওনা হবেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের দিনের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বাইরে না থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

মুজদালিফায় অবস্থান ও পাথর সংগ্রহের পর হাজিরা ১০ জিলহজ তারিখে বড় শয়তানকে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন এবং কোরবানি সম্পন্ন করবেন। এরপর মাথা মুণ্ডিয়ে বা চুল ছেঁটে ইহরাম খোলা হবে।

১১ জিলহজ তিনটি শয়তানকে সাতটি করে কঙ্কর নিক্ষেপ এবং তাওয়াফে জিয়ারত ও সাঈ সম্পন্ন করবেন হাজিরা। ১২ জিলহজ আবার শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা হবে। ১৩ জিলহজ রমি শেষে তারা মিনা থেকে নিজ নিজ স্থানে ফিরে যাবেন।

শায়খ সালেহ বিন হুমাইদের হজের খুতবায় ইসলামি মূল্যবোধ, আত্মশুদ্ধি ও উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এদিকে আরাফায় হাজিদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে, যা পরবর্তী কয়েক দিন ধরে চলবে।

আপডেট : ০১:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫

হজের খুতবায় মুসলিম ঐক্যের আহ্বান

আপডেট : ০১:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫
১২২

হজ উপলক্ষে মসজিদে নামিরায় দেওয়া খুতবায় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, সংহতি ও তাকওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদুল হারামের প্রখ্যাত ইমাম শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ। তিনি বলেন, মুসলমানদের উচিত পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহানুভূতির মাধ্যমে শয়তানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা, কারণ শয়তান মানবজাতির প্রকাশ্য শত্রু।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর ভয় ও তাকওয়া মুসলমানদের জীবনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। ইমানদারদের উচিত আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে সৎকর্মে লিপ্ত থাকা। শায়খ সালেহ বলেন, “যদি তুমি তোমার শত্রুকে ক্ষমা করো, তবে আল্লাহ তোমাকে তার বন্ধু বানিয়ে নেবেন।”

শায়খ সালেহ তার খুতবায় উল্লেখ করেন, ইসলাম তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত—ইসলাম, ইমান এবং ইহসান। এর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর হলো ইহসান, যেখানে আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করতে হয় যেন আপনি তাকে দেখছেন। তিনি বলেন, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, নম্রতা এবং হায়া—সবই ইমানের অংশ।

আরও পড়ুন…

❒ ঈদযাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক, মেলেনি ভোগান্তির অভিযোগ

❒ চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে রাজশাহীতে ২৬৩ মেট্রিক টন লবণ বিতরণ

হজের সময় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির, দোয়া এবং নেক কাজের তাগিদ দেন তিনি। শায়খ সালেহ বলেন, “নেক কাজ পাপসমূহকে মুছে দেয়। আল্লাহ বলেছেন, সৎকর্মে একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং মন্দ কাজে বাধা দাও।”

আজ বৃহস্পতিবার (৮ জিলহজ, ৫ জুন) থেকে হাজিরা পবিত্র আরাফার ময়দানে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। তারা ফজরের আগেই জাবালে রহমত ও আশপাশের এলাকায় উপস্থিত হন, যেখানে মহানবী (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফা থেকে মুজদালিফার পথে রওনা হবেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের দিনের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বাইরে না থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

মুজদালিফায় অবস্থান ও পাথর সংগ্রহের পর হাজিরা ১০ জিলহজ তারিখে বড় শয়তানকে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন এবং কোরবানি সম্পন্ন করবেন। এরপর মাথা মুণ্ডিয়ে বা চুল ছেঁটে ইহরাম খোলা হবে।

১১ জিলহজ তিনটি শয়তানকে সাতটি করে কঙ্কর নিক্ষেপ এবং তাওয়াফে জিয়ারত ও সাঈ সম্পন্ন করবেন হাজিরা। ১২ জিলহজ আবার শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা হবে। ১৩ জিলহজ রমি শেষে তারা মিনা থেকে নিজ নিজ স্থানে ফিরে যাবেন।

শায়খ সালেহ বিন হুমাইদের হজের খুতবায় ইসলামি মূল্যবোধ, আত্মশুদ্ধি ও উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এদিকে আরাফায় হাজিদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে, যা পরবর্তী কয়েক দিন ধরে চলবে।