March 1, 2024, 4:03 am

নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন

বিবেক রায়, কলকাতা , ভারত :

সব যুগে মানবাধিকারের স্বরূপ একই রকম থাকে না। বদলে যায় । আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবং প্রয়োজনে মানবাধিকারের প্রকৃতি ও পরিধি ব্যাপ্ত হয় আশা করছি আগামী দিনেও হবে। গণতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মানবাধিকারের আন্দোলনও বিস্তৃতি হতে থাকে।
মানবাধিকার আন্দোলন এখন একটি ঈর্ষার বিষয় , বিশেষ করে পশ্চিম বঙ্গ থেকে পরিচালিত হওয়া অর্গানাইজেশন যাঁরা ভালো ভাবে ‘বাঁচার অধিকার’ ফিরিয়ে দিচ্ছে।
আবেগ উদ্বেগ উৎকণ্ঠার বিষয় হয়ে পড়েছে ICHFR পরিবারের নতুন পুরাতন সদস্যদের মধ্যে। ছেড়ে যাওয়া সদস্যদের ফিরে আসার ভিড় । যে দূরদর্শিতা নিয়ে সংগঠনের জন্ম তা হলো সারা বিশ্ব জুড়ে মানবাধিকার আদায়। ব্যক্তি মানুষ এবং সামাজিক মানুষের স্বাধীনতা বিকাশ ও ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ উদবোধনের জন্য কতকগুলি মৌলিক শর্তের প্রয়োজন।
এই সকল শর্তই হলো মানবাধিকার। মানবাধিকার অনড় নয় গতিশীল। সব মৌলিক অধিকার মানবাধিকার কিন্তু সব মানবাধিকার মৌলিক অধিকার নয়।
কেবল বাঁচার কেবল বাঁচার অধিকার , জীবিনের অধিকার , রাজনৈতিক ও আইনগত অধিকার নিয়ে থাকা নয় । অর্থনৈতিক , সামাজিক , সাংস্কৃতিক , অধিকার বাদ দিয়ে মানবাধিকার পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। এগুলি নিয়ে কাজ করে ঈর্ষার পাত্র হয়ে পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে পরিচালিত মৌলিক ও নানিবাধিকার রক্ষার সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল ফর হিউম্যান এন্ড ফান্ডামেন্টাল রাইটস।
ঐ অর্গানাইজেশন ফিরিয়ে দিয়েছে গৃহহারা মায়ের গৃহ ফিরিয়ে দিয়েছে , দুর্ঘটনায় একটি হাত একটি পা ভাঙা অবস্থায় সাত দিন বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকা বাঁকুড়ার হন্যে গ্রামের হসপিটালে পড়ে থাকা রুগীর জন্য মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে একঘন্টার মধ্যে অপারেশন করানো , চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত বেহালার এক পরিবারকে ২২ লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দেওয়া , আসানসোলের জামুরিয়া থানায় ছয় দিন আটকে রাখা প্রণব কুণ্ডুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি , বাঁকুড়ার বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী বিরোধী রাজনীতি করার অপরাধে জমি পুকুর থেকে বঞ্চিত করা হয় ইলেকট্রিক লাইন কেটে দেওয়া হয় তার অধিকার ICHFR ফিরিয়ে দিয়েছে। আরামবাগ দেবনাথ হসপিটালে চিকিৎসার গাফিলতিতে এক মায়ের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ দুই লক্ষ তিরিশ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা এই সংগঠনের আন্দোলনের জন্য সম্ভব হয়েছে।
এরকম কয়েক হাজার সমস্যা নিয়ে কাজ করে চলেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীগণ।
গত ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত হলো প্রয়াত অধিনায়ক রাওয়াত মঞ্চে।
ঐ মঞ্চেই অনুষ্ঠিত হলো পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য কমিটির দ্বিতীয় সম্মেলন।
উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট কবি , প্রাক্তন অধ্যাপক , ড۔ দেবপ্রসন্ন বিশ্বাস। তিনি সংগঠনের সাফল্য গুলি ও মৌলিক অধিকার গুলি তুলে ধরেন।
উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব সংগ্রাম মিত্র তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সারা বিশ্বে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রদীপ সাঁতরা , লর্ড লোকনাথ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সম্পাদক মানবতাপ্রেমী মানুষ কাশীনাথ চন্দ।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন কৃষ্ণা ব্যানার্জী। সঙ্গীত পরিবেশনে ছিলেন বিশ্ব ভারতীর ছাত্রী ঝিমলী চক্রবর্তী তৃণা।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কবি সংগঠক , সাংবাদিক , গবেষক বরুন চক্রবর্তী। তাঁর বলিষ্ঠ ভাষণে করতালিতে ভরে ওঠে সম্মেলন হল। এছাড়া প্রাক্তন শিক্ষক কবি নৃপেন চক্রবর্তী ভূয়সী প্রশংসা করেন সংগঠন ও সংগঠেনর মহাসচিব সম্পর্কে। সবসময় সংগঠনের পাশে থাকার প্রত্যাশা রাখেন।
অনুষ্ঠানে দক্ষিণ ভারতের নৃত্য শৈলী কুচিপুরি শাস্ত্রীয় নৃত্য তুলে ধরেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যা তথা কোষাধ্যক্ষ সুচেতা লাহিড়ী মিত্র।
আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিশু শিল্পী দীপ্তোজ্জ্বল মিত্র।
মৃনাল কান্তি দাস পরিচালিত ‘কুশাঙ্কুর’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের কথায় গানে আবৃত্তি নৃত্যে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান উপহার দেন।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন সংগঠনের সভাপতি ড۔ দেবপ্রসন্ন বিশ্বাস। উদ্বোধন সঙ্গীত পরিবেশিনায় ছিলেন শিশুশিল্পী অনন্যা দাস
স্বাগত ভাষণ দেন অনুষ্ঠান প্রস্তুতি কমিটির সম্পাদক সংগঠক পার্থ মুখার্জী।

সবশেষে রাজ্য কমিটি গঠন হয় ২৩ জনকে নিয়ে রাজ্য কমিটি গঠিত হলেও ঐদিন মহাসচিব কুড়ি জনের নাম ঘোষণা করেন।
সভাপতি নির্বাচিত হন সনাতন কর , সম্পাদক পার্থ মুখার্জী , সহ সভাপতি তপন কুমার জানা ও অমিত কুন্ডু , সহ সভাপতি কমলিকা দাস ও খালিদ সরকার , ক্যাশিয়ার নির্বাচিত হন শুভঙ্কর দে।
জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি সনাতন কর মহাশয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন স্বপন কুমার দাস।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও সংবাদ :