২০ মাস ধরে বেতনহীন বাক-প্রতিবন্ধী কবির: পরিবার নিয়ে কাটছে মানবেতর দিন

কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা।।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার মাস্টার রোলের কর্মচারী ও ঐতিহ্যবাহী চাঁদ সওদাগর মাজারের খাদেম বাক-প্রতিবন্ধী কবির হোসেন গত ২০ মাস ধরে কোনো বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘ সময় ধরে পারিশ্রমিক বন্ধ থাকায় ৪ সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
সংকটে এক মানবিক জীবন
পৌরসভার রুদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে মাস্টার রোলের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে চাঁদ সওদাগরের মাজারে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তার বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। কথা বলতে না পারা এই মানুষটি এখন অভাবের তাড়নায় দিশেহারা। ঘরে খাবার নেই, অথচ কার কাছে গিয়ে নিজের কষ্টের কথা বলবেন, সেই ভাষাও তার জানা নেই।
ঐতিহ্যের সেবকের করুণ দশা
কোটচাঁদপুরের শত বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত চাঁদ সওদাগরের মাজার। এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির দেখাশোনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ কবির হোসেন নিষ্ঠার সাথে করে আসলেও বর্তমানে মাজারটির যেমন বেহাল দশা, তেমনি মানবেতর অবস্থা এর সেবকেরও।
সচেতন মহলের ক্ষোভ ও দাবি
দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ থাকার ঘটনায় গভীর দুঃখ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন কোটচাঁদপুরের সচেতন মহল। এলাকাবাসীর দাবি, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ যিনি নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন, তার বেতন এভাবে আটকে থাকা অমানবিক। অতিদ্রুত তার বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং নিয়মিত বেতন চালু করার জন্য তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক এনামুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
কোটচাঁদপুরবাসীর প্রত্যাশা, ইউএনও মহোদয়ের সদয় সুদৃষ্টিতে বাক-প্রতিবন্ধী কবির হোসেন ফিরে পাবেন তার ন্যায্য পাওনা এবং পরিবার নিয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।



















